জানুয়ারি ২৭, ২০২২

বাঙলা কাগজ

The Bangla Kagoj । সবচেয়ে বেশি দেশে, সবচেয়ে বেশি ভাষায়। বাঙলা কাগজ । আপনার কাগজ । banglakagoj.net (আমাদের কোনও জাতীয় পত্রিকা নেই)।

ঢাবি শিক্ষক সমিতিতে ১৫ পদের ১৪টিতেই জিতল আ.লীগপন্থী নীল দল।

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ২০২২ সালের কার্যকর পরিষদের নির্বাচনে ১৫ পদের মধ্যে ১৪টিতেই জিতেছে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল।

এদিকে সমিতির শুধু ১০টি সদস্যপদের মধ্যে পঞ্চম অবস্থানে থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক মো. লুৎফর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ভবনে শিক্ষক সমিতির এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে বিকেলেই ফল ঘোষণা করেন সমিতির নির্বাচন পরিচালক অধ্যাপক তোফায়েল আহমদ চৌধুরী।

নীল দলের প্যানেল থেকে ৯৪৫ ভোট পেয়ে সমিতির সভাপতি পদে জিতেছেন আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন মো. রহমত উল্লাহ। তিনি সমিতির ২০২১ সালের কার্যকর পরিষদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হয়েছিলেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাদা দলের প্রার্থী প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইয়ারুল কবীর পেয়েছেন ৩৯২ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে ৯৭০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন নীল দলের নেতা পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া। তিনিও ২০২১ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাদা দলের প্রার্থী রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সালাম পেয়েছেন ৩৮১ ভোট।

৮৫০ ভোট পেয়ে নীল দলের প্যানেল থেকে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আকরাম হোসেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাদা দলের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল-আমিন পেয়েছেন ৪৩৭ ভোট।

সহসভাপতি পদে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাবিতা রিজওয়ানা রহমান ৮২৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাদা দলের প্রার্থী প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মামুন আহমেদ পেয়েছেন ৫১২ ভোট।

যুগ্ম সম্পাদক পদে নীল দলের প্যানেল থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আবদুর রহিম ৮২২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাদা দলের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. দাউদ খাঁন পেয়েছেন ৪৬১ ভোট।

সমিতির ১০টি সদস্যপদের মধ্যে ৯টিতেই জিতেছেন নীল দলের প্রার্থীরা। জয়ী প্রার্থীরা হলেন টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া (৯০৭ ভোট), পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ইসতিয়াক মঈন সৈয়দ (৯০৪ ভোট), রোবোটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক লাফিফা জামাল (৮৪২ ভোট), পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান (৮০৬ ভোট), ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মুহাম্মাদ আবদুল মঈন (৭৯১ ভোট), তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক মো. নাসিরউদ্দিন মুন্সী (৭৯১ ভোট), সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম (৭৮৬ ভোট), সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিনাত হুদা (৭৮৩ ভোট) ও ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ (৭৫৮ ভোট)। সদস্য পদে জয়ী মো. লুৎফর রহমান সাদা দলের আহ্বায়ক ও শিক্ষক সমিতির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি।

বিজ্ঞাপন

ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় সাদা দল থেকে জয়ী একমাত্র প্রার্থী মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সময় অনেক শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। শিক্ষকদের ওপর অনেক চাপ। এই পরিস্থিতির মধ্যে আমাদের আশাবাদী হয়েও খুব একটা লাভ নেই।’

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতিবছর শিক্ষক সমিতির ১৫টি পদে নির্বাচন হয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর গত এক দশকে সমিতিতে নীল দলের অবস্থান ক্রমাগত নিরঙ্কুশ হয়েছে। করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ দেখিয়ে সাদা দল সমিতির ২০২১ সালের নির্বাচন বর্জন করে। এর ফলে বিনা ভোটেই সব পদে জেতে নীল দল। বরাবরের মতো এবারও সমিতির নির্বাচনে কোনো প্যানেল দেয়নি বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন গোলাপি দল।

ভোটকেন্দ্রের সামনে ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন : সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে শিক্ষক সমিতির ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরই ক্লাবের প্রধান ফটকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ছাত্র অধিকার পরিষদ। সকাল সাড়ে ১০টায় দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন করেন পরিষদের নেতা-কর্মীরা।

মানববন্ধনে ডাকসু নির্বাচন ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার ও গেস্ট রুম নির্যাতন বন্ধের দাবিও জানানো হয়। মানববন্ধনটি চলে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০১৯ সালের মার্চে ডাকসু নির্বাচন হয়। নির্বাচনে ২৫টি পদের ২৩টিতে ছাত্রলীগ জয়ী হয়, অন্যদিকে সহসভাপতিসহ (ভিপি) দুটি পদে জেতে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ (বর্তমান নাম ছাত্র অধিকার পরিষদ)। করোনা পরিস্থিতিতে বন্ধ থাকার পর বিশ্ববিদ্যালয় খুললে একাধিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পরবর্তী ডাকসু নির্বাচনের দাবি জানানো হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে এখনো সুস্পষ্ট করে কিছু জানায় নি।

Facebook Comments Box

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share
Contact us