জানুয়ারি ২৭, ২০২২

বাঙলা কাগজ

The Bangla Kagoj । সবচেয়ে বেশি দেশে, সবচেয়ে বেশি ভাষায়। বাঙলা কাগজ । আপনার কাগজ । banglakagoj.net (আমাদের কোনও জাতীয় পত্রিকা নেই)।

তানজানিয়ার ঔপন্যাসিক আবদুলরাজাক গুরনাহ পেলেন সাহিত্যের নোবেল

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : সাহিত্যে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তানজানিয়ার ঔপন্যাসিক আবদুলরাজাক গুরনাহ, যাঁর দরদি ভাষার দ্ব্যর্থহীন লেখায় ফুটে উঠেছে ঔপনিবেশিকতার দুর্দশা আর শরণার্থী জীবনের বেদনার আখ্যান।

বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী ১১৮তম লেখক হিসেবে আবদুলরাজাক গুরনাহর নাম ঘোষণা করে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি।

৭৩ বছর বয়সি গুরনাহর মোট দশটি উপন্যাস এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে, যাঁর একটি হল প্যারাডাইস অ্যান্ড ডিজারশন।

১৯৯৪ সালে প্রকাশিত এ উপন্যাসের কাহিনী বিকশিত হয়েছে ২০ শতকের গোড়ার দিকে তানজানিয়ায় বেড়ে ওঠা এক বালকের গল্পকে কেন্দ্র করে।

মূলত প্যারাডাইস অ্যান্ড ডিজারশন বুকার জেতার পরই ঔপন্যাসিক আবদুলরাজাক গুরনাহর নাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়াতে শুরু করে।

নোবেল জয়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানিয়েছেন, এতো বড় একটি পুরস্কার, অসাধারণ সব লেখকদের পাশে তাঁর নাম, এ তাঁর বিশ্বাসই হতে চাইছিলো না।

‘আমি এতটাই বিস্মিত যে বিশ্বাস করার আগে নিজে কানে ওই ঘোষণা শোনা পর্যন্ত আমি সত্যি সত্যি অপেক্ষা করেছি।’

রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি বলেছে, সত্যের প্রতি আবদুলরাজাক গুরনাহর যে নিষ্ঠা, ঘটনার অতিসরলীকরণে তার যে ঘোর আপত্তি, পাঠককে তা নাড়া দেয়।

‘তাঁর উপন্যাস গতানুগতিক ধারাবর্ণনার রীতি থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের দৃষ্টির সামনে মেলে ধরে সাংস্কৃতি বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এক পূর্ব আফ্রিকাকে, যার সঙ্গে পৃথিবীর অনেক অঞ্চলের কোনও মিল নেই।’

‘তাঁর চরিত্ররা নিজেদের আবিষ্কার করে সংস্কৃতি থেকে সংস্কৃতি, মহাদেশ থেকে মহাদেশের মাঝে কোনও এক শূন্য রেখায়; যে জীবন তাঁদের ছিলো, আর যে জীবন তাঁদের সামনে ভাঁজ খুলতে শুরু করেছে, তার মাঝে এক অবলম্বনহীন অস্তিত্বে তাঁরা নিজেদের খুঁজে পায়; এই অনিশ্চয়তার কোনও নিদান হয় না।’

আবদুলরাজাক গুরনাহর জন্ম ১৯৪৮ সালে, তানজানিয়ার জানজিবারে। তাঁর গল্পের অনেক চরিত্রের মতো তিনি নিজেও একজন শরণার্থী হয়ে ১৯৬০ এর দশকে ইংল্যান্ডে পা রাখেন।

বিজ্ঞাপন

তারপরের জীবনের বড় একটা সময় তাঁর কেটেছে কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে। সম্প্রতি অবসরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সেখানে তিনি ইংরেজি আর পোস্ট কলোনিয়াল সাহিত্য পড়িয়েছেন।

১৯৮৬ সালে ওলে সোয়েনকার পর গুরনাহই প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান, যিনি সাহিত্যে নোবেল পেলেন।

এই লেখকের আশা, তাঁর এই পুরস্কারপ্রাপ্তির মধ্য দিয়ে হয়তো শরণার্থী সংকট আর ঔপনিবেশিকতাবাদের দুষ্ট ক্ষতো আলোচনায় আসবে।

‘এমন কিছু বিষয় থাকে, যার মধ্যে দিয়ে আমাদের প্রতিদিন যেতে হয়। বিশ্বের অনেক জায়গায় বহু মানুষ মারা যাচ্ছে, অনেকে আঘাত পাচ্ছে, এ ধরনের বিষয়গুলো আমাদের সবচেয়ে বেশি মানবিকভাবে দেখা দরকার।’

সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের শেষ ইচ্ছা অনুসারে গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবতার কল্যাণে অবদানের জন্য প্রতি বছর চিকিৎসা, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। গতবছর সাহিত্যে এ পুরস্কার পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কবি লুইস গ্লিক।

বরাবরের মতোই চিকিৎসা বিভাগের পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে সোমবার (৪ অক্টোবর) চলতি বছরের নোবেল মৌসুম শুরু হয়। পরের দুই দিনে ঘোষণা করা হয় পদার্থবিদ্যা আর রসায়নের নোবেল।

শুক্রবার (৮ অক্টোবর) শান্তি এবং নোবেল ঘোষণা শুরুর সপ্তাহের মাথায় আগামি ১১ অক্টোবর (সোমবার) অর্থনীতিতে এবারের নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।

Facebook Comments Box

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share
Contact us