মে ১২, ২০২১

Bangla Kagoj । News from Bangladesh, World and Universe at any Language

বাংলা ভাষাসহ পৃথিবির সব ভাষায় সর্বশেষ ও প্রধান খবর, বিশেষ প্রতিবেদন, সম্পাদকীয়, পাঠকমত, খেলাধুলা ও বিনোদনসহ সব প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ সকল খবর।

‘আমার খুব বাঁচতে ইচ্ছে করছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; রাসেল কবির মুরাদ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : কলাপাড়ার আক্কাস আলী খন্দকার ছোটো বালিয়াতলী গ্রামের নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। কোনোরকম খেয়ে-পড়ে চলছিলো তাঁদের সংসার।

দিনমজুর পিতা আবদুর রাজ্জাক খন্দকার বরিশালে দিনমজুরের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুতের দুর্ঘটনায় পতিত হলে তাঁর ডান হাতের অর্ধেকটা কেটে ফেলতে হয়। আর একমাত্র উপার্জনক্ষম পিতা পঙ্গু হয়ে পড়ায় তখন সংসারের দায়িত্ব পড়ে আক্কাসের উপর। যে কারণে বেশিদূর লেখাপড়া করতে পারেন নি তিনি। ফলে ঢাকার মিরপুরে আযম মিস্ত্রির অধীনে ড্রেজারে কাজ করতে যান তিনি। ২০১৮ সালে বালুর ড্রেজার থেকে পড়ে মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায় আক্কাসের।

এরপর ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালের অর্থোপেডিক্সের চিকিৎসক বদরুল ইসলামের অধীনে অপারেশন হয় তাঁর।

মাসখানেক পর ডাক্কÍারের কাছে গেলে তিনি বলেন, স্পাইনাল কর্ড ভেঙে গেছে।

পরে অবশ্য ২ মাস পরে গেলে ডাক্তার জানান, ৬ মাস পরে ঠিক হয়ে যাবে।

কিন্তু উপযুক্ত চিকিৎসা করাতে না পেরে আক্কাস বর্তমানে বিছানা থেকে উঠতে পারে না। তাঁর পা দুটো ধিরে ধিরে চিকন হয়ে যাচ্ছে। শরীরের সকল অঙ্গ অবশ হয়ে যাচ্ছে। সারাক্ষণ শুয়ে থাকতে হয় তাঁকে।

সারাক্ষণ ক্যাথেটর পড়িয়ে রাখা হয় আক্কাসকে। মাসের পর মাস হাসপাতালে থেকে সহায়-সম্বল যা ছিলো সব হারিয়ে এখন নিঃস্বপ্রায় তাঁর পরিবার।

ইতিমধ্যেই ডাক্তার ও কবিরাজ মিলে ৭ লাখ টাকারও বেশি খরচ হয়েছে তাঁর চিকিৎসায়।

স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গাজী জামাল বাংলা কাগজকে বলেন, ছেলেটির আহাজারি দেখে চোখের পানি ধরে রাখা যায় না।

‘আমি তাঁর জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং মোবাইলে বিকাশ করে দিয়েছি। সকলের কাছে অনুরোধ ছেলেটিকে যথাসম্ভব সাহায্য করবেন।’

আক্কাস খন্দকারের পিতা রাজ্জাক খন্দকার বলেন, চোখের সামনে আমার ছেলে বিনা চিকিৎসায় কষ্ট পাবে, তা মানতে কষ্ট হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

‘আমিও পঙ্গু মানুষ। তাই কাজ করতে কষ্ট হয়। দুনিয়ায় এমন কোনও মানুষ কি নেই, যে আমার ছেলের চিকিৎসার ব্যাবস্থা করে দেবে।’

আক্কাস আলী খন্দকার বলেন, ‘আমার খুব বাঁচাতে ইচ্ছে করছে। ভালোভাবে বাঁচতে ইচ্ছে করছে। ডা. বলেছেন, পুনরায় স্পিন অপারেশন করতে পারলে আবার আমি হাঁটতে পারবো।’

‘কিন্তু এর জন্য প্রায় ৯ লাখ টাকার প্রয়োজন। যা জোগাড় করা আমার পক্ষে অসম্ভব।’

আক্কাস ও তাঁর বাবাসহ এলাকাবাসি আক্কাসের চিকিৎসার জন্য বিত্তবানদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন।

আক্কাস জানান, ‘এলাকার কিছু মানুষ আমার সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন।’

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা আবু হাসানাত শহিদুল হক বাংলাকাগজকে বলেন, ‘আক্কাসের অসুস্থতার কথা শুনেছি। মানবিক কারণে আমাদের উচিত আক্কাসের পাশে দাঁড়ানো।’

আক্কাস আলী খন্দকারকে সহযোগিতা করতে হলে, জনতা ব্যাংক, কলাপাড়া শাখায় ০১০০২২২৪৮৫২৩৬ হিসাব নম্বরে টাকা পাঠানো যাবে।

টাকা পাঠাতে ব্যবহার করা যাবে বিকাশ নম্বর : ০১৭৮৯৮০৭৭৩৬।

Facebook Comments Box

Contact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share