মে ১২, ২০২১

Bangla Kagoj । News from Bangladesh, World and Universe at any Language

বাংলা ভাষাসহ পৃথিবির সব ভাষায় সর্বশেষ ও প্রধান খবর, বিশেষ প্রতিবেদন, সম্পাদকীয়, পাঠকমত, খেলাধুলা ও বিনোদনসহ সব প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ সকল খবর।

পাঠকের কলাম : সমকালীন ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটেজি এবং আমাদের বাস্তবতা

তাহেরা চৌধুরী : বর্তমান বিশ্বের সব থেকে আলোচিত ব্র্যান্ডিং ধারণাগুলোর একটি ব্লু ওশান স্ট্র্যাটেজি। এর আক্ষরিক অনুবাদ নীল সাগরের কৌশল। পাঠক চমকে উঠে যদি প্রশ্ন করেই বসেন, ব্যবসা করতে আবার সাগর কেনো? তাঁদের প্রশ্নের সহজ উত্তর হতে পারে, বিশ্বের আলোচিত এই ব্যবসায়িক কৌশল মূলত কম দামে বাহারি পণ্য সামগ্রি ক্রেতা বা ভোক্তার হাতে পৌঁছানোকেই বুঝায় মূলত। অপরদিকে যেখানে গতানুগতিক ধারার একই পণ্যের ব্যবসা আলাদা আলাদা উচ্চমূল্য নির্ধারণের বৃত্তে আটকে থাকে।

ব্লু ওশান স্ট্র্যাটেজির প্রধান আলোচ্য বিষয় : একটা ব্যবসায়িক ধারণার ভেল্যু ইনোভেশন করা। হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক কিম এবং মার্বগেন এর মতে, ভেল্যু ইনোভেশন একটা ব্যবসায়িক উদ্যোগকে সবার থেকে আলাদা করতে পারে। সৃষ্টি করতে পারে অপার নতুন সম্ভাবনা।

আবার এই ভেল্যু ইনোভেশনই একটা ব্যবসায়িক উদ্যোগকে সমাজের প্রচলিত ব্যবসার সঙ্গে টিকে থাকার প্রতিযোগিতায় নামাতে পারে। যেখানে প্রফিট মার্জিন বা ব্যবসায়িক সাফল্য আর দশটা উদ্যোগের কাছাকাছিই হয়।

যদি সহজ বাক্যে বলতে হয়, তাহলে আপনার ব্যবসায়িক উদ্যোগ গতানুগতিক না হয়ে যদি একটু ভিন্ন ধাচের হয়; তখন আপনার ব্যবসার সরাসরি কোনও প্রতিপক্ষই নেই। ফাঁকা মাঠে পেশাদার খেলোয়াড় আপনি নিজেই। বাকি কাজ গোলের হিসাব রাখা।

ভিনদেশি ব্যবসায়িক উদ্যোগের উদাহরণ টেনে ব্যাপারটার একটু খোলাসা করি : ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ সালে বেলজিয়ামে আমাদের কোচিং সেন্টারগুলোর মতো ব্যাপক পরিমাণে ছিলো মুভি থিয়েটারের ব্যবসা। আর থিয়েটার ব্যবসা ওখানে নতুন কিছু নয়। আবার ব্যবসায়িক ধারণা প্রায় আমাদের কাছাকাছি। এক্ষেত্রে ধনি লোকদের জন্য একটু বেশি আরামদায়ক চেয়ার আর মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্নবিত্তদের জন্য আরেকটু নিম্নমানের চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো।

যেহেতু ব্যবসায়িক ধারণা ছিলো আমাদের কাছাকাছি; সুতরাং তাঁদের প্রফিট মার্জিনও ছিলো প্রায় এক।

১৯৮০ সালের দিকে টেলিভিশন আর স্যাটেলাইটের আবিষ্কার মানুষের সিনেমা হলে যাওয়াতে অনীহার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তখন বেলজিয়ামের থিয়েটার ব্যবসায় এক ধরনের ধস নেমে আসে।

আবার যেহেতু প্রায় সবার প্রফিট মার্জিন কাছাকাছি; একটা দুইটা জায়ান্ট কোম্পানি ছাড়া; তাই প্রায় সবাই শীতের পাতার মতো ঝড়ে পড়লো।

বাকি রইলো কিছু জায়ান্ট কোম্পানি; যাঁরা নিজেদের সর্বস্ব ব্যবসা করতে শুরু করলো।

তখন সবাই একই ধরনের স্ট্র্যাটেজি হাতে নিলো, সাধারণ সিনেমা থিয়েটার থেকে মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হল হলো ফুড, পানীয় ইত্যাদির জমজমাট আয়োজন।

ব্যবস্থা হলো আরও আরামদায়ক সিটের।

এইসব ব্যবস্থা করতে গিয়ে সিনেমা টিকিটের দাম হু হু করে বাড়তে লাগলো।

হিতে বিপরীত হওয়া বাক্যটির সফল ব্যবহার যাকে বলে, সাধারণ মানুষের কাছে সিনেমার কদর আরও কমে গেলো।

কিন্তু ভয়াবহ এই অর্থনৈতিক অবস্থায় ভেল্যু ইনোভেশন তথা ‘ব্লু ওশান স্ট্র্যাটেজির ভেল্কিবাজি’ দেখালেন বার্ট ক্লে নামক এক থিয়েটার ব্যাবসায়ি।

বিজ্ঞাপন

যিনি সাধারণ সিনেমা থিয়েটার কিংবা মাল্টিপ্লেক্স সিনেমার বদলে নিয়ে আসলেন মেগাপ্লেক্স সিনেমা হলের ধারণা। সিনেমার নাইট শোয়ের বদলে চালু করলেন ইভিনিং শো। ছোট আনমুভএবেল চেয়ার এর জায়গায় দখল করে নিলো মুভেবল আরাম চেয়ার।

এই চেয়ারের ব্যবহারের ফলে যে কোনও একজনকে না সরিয়েই অন্যজন সহজেই যাতায়াত করতে পারতেন। আবার জায়গা বড় হওয়ায়; যে কেউ কাজের পরে একটু বিশ্রাম নিতে পারতো; ফলে কারও কোনও ধরনের ঝামেলা (ডিস্টার্ব) হতো না।

এর ফলে একসঙ্গে দুই কাজ (রথ দেখাও হলো; কলা বেচাও হলো) হয়ে যেতো।

যার ফল পুরা ব্রাসেলসের (বেলজিয়ামের রাজধানি) প্রায় ৪০ শতাংশ সিনেমা ব্যবসা তাঁদের হাতে চলে আসে প্রথম বছরেই।

ভাবছেন কেনো এসব তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে লিখছি?

তবে উত্তর দিই।

বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা আরও সহজ ভাষায় বলতে গেলে ফেসবুক ব্যবহার করে ব্যবসায়িক উদ্যোগ হু হু করে বাড়ছে। ব্যাপারটা অনেকটা আশার সঞ্চার করেছে। পরিচিত, অপরিচত, আধা পরিচিত বন্ধু আত্মীয়-স্বজন অনেকেই এখন নিজেদের ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে ব্যবসা করছেন হরেক রকম পণ্য।

খুব সহজেই ম্যাসেঞ্জারে নক করে পেইজটি লাইক কিংবা শেয়ার করছেন।

এর সবগুলো ব্যাপারই পজিটিভ। কিন্তু হতাশার কারণ হচ্ছে সম্প্রতি বাংলাদেশে বিষয়টিতে করারোপের কথা বলা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। তখন ফেসবুক ব্যবহার করে ব্যবসা করতে গেলেও দিতে হবে কর। ফলাফল : ফেসবুক ব্যবহার করে পণ্যের দাম, লোকাল বিক্রির সমান।

এ কারণে ব্যবসায়ের জন্য নির্ধারণ করা যেতে পারে আলাদা ভেল্যু ইনোভেশন। সবার থেকে আলাদা করতে পারেন আপনার প্রফিট মার্জিন।

লেখক : সাবেক শিক্ষার্থি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

Facebook Comments Box

Contact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share