ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে সংখ্যালঘুদের ‘টার্গেট করা হচ্ছে’

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, নির্যাতন, গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ফোরামের নেতারা অভিযোগ করেছেন।

সারাদেশে হিন্দু নির্যাতন ও মিথ্যা ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে কুমিল্লার মুরাদনগরে হিন্দুদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাঙচুরের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ফোরাম শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

এতে সংহতি জানায় হিন্দু যুব ও হিন্দু ছাত্র ফোরাম।

সমাবেশে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মানিক চন্দ্র সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ঝুমুর গাঙ্গুলী এবং বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কালীপদ মজুমদারসহ আরও অনেকে।

সমাবেশে নেতাদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে হিন্দু ফোরামের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়-বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননার গুজবে কয়েকদিন ধরে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হচ্ছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন- দিনাজপুরের পার্বতীপুরে দলিত সম্প্রদায়ের একজন কলেজ ছাত্রীর ফেসবুক ‘হ্যাক করে’ অন্য ধর্ম নিয়ে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগের তথ্য প্রমাণ তাঁরা পুলিশকে দিয়েছেন। কিন্তু সেই ঘটনা নিয়ে সেখানে ওই ছাত্রীর বাড়িতে ভাঙচুর করা হয় এবং পুলিশ তাঁকেই গ্রেপ্তার করেছে।

এ ছাড়া ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু ধর্মাবলম্বী একজন ছাত্রীর বিরুদ্ধেও একইভাবে ‘ধর্ম অবমাননার’ গুজব ছড়ানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বক্তরা আরও বলেন- নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়- এ তিন বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি কলেজের ছয়জন ছাত্র-ছাত্রীর ছাত্রত্ব বাতিলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কুশল বরণ চক্রবর্তীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তাদের ফেসবুক হ্যাক করে ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে তাঁদেরকেই ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

সমাবেশে মানিক চন্দ্র সরকার বলেন- কুমিল্লার মুরাদনগরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ম অবমাননার অপবাদ দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন সময়ে হামলা চালানো হচ্ছে। পরে এসব ঘটনার কোনও বিচার হচ্ছে না এবং সাম্প্রদায়িক এসব হামলাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সারাদেশে বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়ে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয় সমাবেশ থেকে।

এ বিষয়ক : লালমনিরহাটে গুজব তুলে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যা : ৫ জন ৩ দিনের রিমান্ডে

গুজবে কান নয়, ৯৯৯-এ ফোন দিতে পুলিশের অনুরোধ

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.