তথ্যমন্ত্রী : বাস পোড়ানো বিএনপি ও তার দোসরদের বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ

বাসস : তথ্যমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহ্‌মুদ বলেছেন, ‘বাসে অগ্নিসংযোগ, গবেষণার নামে টিআইবি’র রাজনৈতিক প্রতিবেদন ও বিভিন্ন মহলের উস্কানিমূলক বক্তব্য বিএনপি ও তার দোসরদের দেশকে অস্থিতিশীল করার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রেরই অংশ।’

তিনি শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার মিন্টু রোডে সরকারি বাসভবনে বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) রাজধানীতে ১০টি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে, অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে। মহামারির মধ্যে ধ্বনাত্মক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হাতেগোনা ক’টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ স্থান করে নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশকে অস্থিতিশীল করার একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে।’

‘এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই টিআইবি রাজনৈতিক উদ্দেশে একটা প্রতিবেদন দিয়েছে, বিভিন্ন মহল থেকে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে এবং বাস পোড়ানোতে যে বিএনপি ও তাদের দোসররা জড়িত, তা সহজেই অনুমেয়।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন্তব্য ‘নির্বাচনে কারচুপি আড়াল করতেই বাসে আগুন’-এর প্রত্যুত্তরে ড. হাছান মাহ্‌মুদ বলেন, ‘অতীতে কারা এভাবে বাস পুড়িয়েছে, কীভাবে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে শতশত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, দেশবাসী তা ভালোভাবেই জানে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেও দেখা গেছে, ২০১৩-১৪ ও ২০১৫ সালে যেভাবে যাত্রীবেশে বাসে উঠে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিলো, তার সঙ্গে বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) যে দশটি বাস পোড়ানো হয়েছে, তার মিল আছে। প্রথম বাসটি, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের বাস পোড়ানো হয়েছে নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে। সুতরাং এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপি ও তাদের মিত্রদের সংশ্লিষ্টতা আনায়াসে অনুমেয়।’

বিজ্ঞাপন

‘মির্জা ফখরুল সাহেব শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা করছেন, যাতে কোনও লাভ হবে না’- বলেন হাছান মাহমুদ।

দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তথ্যমন্ত্রী বলেন- অতীতে ২০১৩-১৪ ও ২০১৫ সালে যেমন এ ধরনের নাশকতা সরকার কঠোরহস্তে দমন করেছে, এবারও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ ধরনের নাশকতা কঠোরহস্তে দমনে সরকার বদ্ধপরিকর। একইসঙ্গে এ ধরনের অপতৎপরতা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে ও সন্দেহজনক কিছু দেখলে, সঙ্গেসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আনার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান ড. হাছান।

দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী কোনও গুজব বা ঘটনার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যেই সকল গণমাধ্যমের সাহায্যে দেশবাসীকে অনুরোধ করা হয়েছে, জানান তথ্যমন্ত্রী।

সাংবাদিকেরা ‘বাস পোড়ানোর ঘটনা নিয়ে বিএনপির দু’জন নেতার একটি ফোনালাপের অডিও ফাঁসে’র বিষয়ে প্রশ্ন করলে ড. হাছান মাহ্‌মুদ আরও বলেন, ‘অডিওবার্তা এটাই প্রমাণ করে যে, এই ঘটনার সঙ্গে তারা যুক্ত। এবং মির্জা ফখরুল সাহেব এ বিষয়ে একটি সত্যি কথা বলেছেন যে, এটি পূর্বপরিকল্পিত। আসলে মির্জা ফখরুল সাহেবরা পূর্বপরিকল্পনা করেই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।’

এ বিষয়ক : তথ্যমন্ত্রী : ক্ষমতায় থাকতে বিএনপি দেশকে অন্ধকারে নিয়ে গিয়েছিলো

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.