কাদের : বাসে আগুন সন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বিএনপি তাঁদের নীলনকশা অনুযায়ী ভোটের দিন রাজধানীতে বাসে আগুন দিয়ে নাশকতা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন- সেই পুরানো আগুন সন্ত্রাসের সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি, এটা তারা আগের মতো শুরু করেছেন। এর মধ্যে একটি ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে, পুলিশের কাছে আছে, এখানে বিএনপি কর্মীদের উপস্থিতি চেহারা দেখলে বোঝা যায়। কৌশলটা ছিলো এমন যে, বাসের ভিতরে যাত্রী সেজে বসে থেকে আগুন লাগানোর সময় আগুন আগুন বলে যাত্রী সেজে পিছনের দরজা দিয়ে বেড়িয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) ঢাকা-১৮ আসনে উপ-নির্বাচনের মধ্যে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিএনপি নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে মিছিল বের করার পর দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দশটি বাসে আগুন দেওয়া হয়।

এসব ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দশটি মামলা করা হয়েছে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপি-জামায়াত জোটের সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে ব্যাপক নাশকতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন- তাদের কাজই হচ্ছে এসব। হম্বি-তম্বি করবে, ভোটের দিন আর নেই। একটা সময় বেছে নিয়েছে তারা। গতকালের (বৃহস্পতিবার- ১২ নভেম্বর) নাশকতা প্রমাণ করেছে, বিএনপি তাদের চিরাচরিত সন্ত্রাসী পথ পরিহার করতে পারে নি। তাদের নীলনকশা অনুযায়ী, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং গতকাল (বৃহস্পতিবার- ১২ নভেম্বর) রাজধানীতে এই নাশকতা।

এসব কর্মকাণ্ডের কারণেই জনগণ বিএনপিকে বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ফয়দা লোটার অপচেষ্টা তারা করে যাচ্ছে, এটা তাদের পুরানো অভ্যাস।’

আওয়ামী লীগ অতীতের মতো জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের দাঁত ভাঙা জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন- আমরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলতে চাই, বিএনপির এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বৈশ্বিক মহামারি এই করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যেও তাদের ধারাবাহিক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে।

বিজ্ঞাপন

‘মহামারিকালে কোনও সভ্য দেশে এ ধরনের ভয়াবহতার ভাবনা আসাটাও অচিন্তনীয়।’

জয়ের জন্য নয়, নির্বাচনকে বিতর্কিত করার লক্ষ্য নিয়েই বিএনপি ভোটে অংশ নেয় বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের এ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন- নির্বাচন সুষ্ঠু হয় নি, এটা কি সাংবাদিকেরা বিশ্বাস করবে? কোনও মিডিয়াই বলে নি ভোটে জালিয়াতি, দখলবাজি হয়েছে, কারচুপি হয়েছে। এমনকি আমাদের কট্টরপন্থি সমালোচকরাও এই নির্বাচন নিয়ে এমন কথা বলতে পারে নি। শুধু বিএনপির মুখেই এসব কথা। (তাদের কাছে) নির্বাচন সুষ্ঠু হবে তখন, যখন বিএনপিকে জেতার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।

নির্বাচন নিয়ে বিএনপি এখন ‘নতুন কৌশল’ নিয়েছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন- তারা নির্বাচন নিয়ে খুব হইচই করবে। নির্বাচনের প্রচারও করবে, কিন্তু নির্বাচনের দিন কোনও এজেন্ট দেবে না, নির্বাচনে এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ দেওয়ার জন্য।

‘কিন্তু আপনারা সাংবাদিকেরা সবচেয়ে বড় সাক্ষী। একটা টু-শব্দ পর্যন্ত হয় নি। এতো শান্তিপূর্ণ, এতো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে।’

তার দাবি- বিএনপি হেরে যাবে জেনেই নির্বাচনকে বিতর্কিত করার এই কৌশল নিয়েছে।

‘জেতার বিষয়টা তারা বাদ দিয়ে দিয়েছে। তারা জানে, দেশরত্ন শেখ হাসিনার উন্নয়ন, সঙ্কট মোকাবিলার তার যে সাহসী নেতৃত্ব, ইভেন এই বৈশ্বিক মহামারিতে অন্য দেশের তুলনায় আমরা অনেক ভালো আছি। … বিএনপি জানে, জনগণের ভোটে তারা জিততে পারেবে না। সেজন্যই নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে তারা অংশ নিয়েছে।’

এ বিষয়ক : রাজধানীর ১০ বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ১০ মামলা, গ্রেপ্তার ২০

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.