সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১

The Bangla Kagoj

আপনার কাগজ । banglakagoj.net

প্রধানমন্ত্রী : সমুদ্রসীমা রক্ষায় নৌবাহিনীকে আমরা শক্তিশালী করে গড়ে তুলেছি

বাসস : সমুদ্রসীমা রক্ষায় তাঁর সরকার নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নৌবাহিনীতে পাঁচটি জাহাজ কমিশনিংকালে এ কথা জানান।

কমিশনিং করা জাহাজগুলো হলো- নতুন দুটো আধুনিক ফ্রিগেট বানৌজা ওমর ফারুক ও আবু উবাইদাহ; একটি করভেট যুদ্ধজাহাজ প্রত্যাশা এবং দুইটি জরিপ জাহাজ বানৌজা দর্শক ও তল্লাশী।

প্রধানমন্ত্রীর কমিশনিংয়ের ফলে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকেই বাংলাদেশের জলসীমা সুরক্ষা ও নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির করে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করলো এসব জাহাজ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন- বিশাল এই সমুদ্রের সম্পদ আহরণ এবং একে কাজে লাগানোই আমাদের লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আর জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের সমুদ্রসীমাকে রক্ষার জন্য নৌবাহিনীকেও আমরা শক্তিশালী করে গড়ে তুলছি।

‘সমুদ্রসীমা অর্জন কেবল নয় এই সমুদ্র সম্পদটা যেন দেশের উন্নয়নে ব্যয় হয়, সেজন্য আমাদের কাজ করতে হবে এবং সেজন্যই আমরা সুনীল অর্থনীতি পদক্ষেপ বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন- বাংলাদেশ নৌবাহিনী তার ক্রমাগত অগ্রযাত্রায় আরও একধাপ এগিয়ে গেলো। দিনটি (কমিশনিং করার দিন বৃহস্পতিবার- ৫ নভেম্বর) শুধু বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য নয়, সমগ্র দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের।

এর আগে চট্টগ্রামে বানৌজা ঈশাখান নৌ জেটিতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল জাহাজগুলোর অধিনায়কদের হাতে কমিশনিং ফরমান তুলে দেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীর রীতি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে নামফলক উন্মোচন করেন।

অনুষ্ঠানে নৌবাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকশ দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবসর) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং গণভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন- আমাদের নৌবাহিনীর সদস্যরা প্রতিনিয়ত লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে অনেক প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে সমুদ্র এলাকার সার্বিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান করছে, যা প্রশংসার দাবিদার।

জাতির পিতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত দেশের পরাষ্ট্রনীতির আলোকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আারও বলেন- ‘আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই না।’

‘কিন্তু যদি বাংলাদেশ কখনও বহিঃশত্রুর দ্বারা আক্রান্ত হয়, একে মোকাবেলা করার মতো সক্ষমতা আমরা অর্জন করতে চাই।’

সরকারপ্রধান আরও বলেন- আমাদের সুশৃৃঙ্খল সশস্ত্রবাহিনী দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আজ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বিপুল প্রশংসিত পেশাদার একটি বাহিনী।

‘২০১০ সাল থেকে ভূ-মধ্যসাগরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অংশ হিসেবে আমাদের যুদ্ধজাহাজ সার্বক্ষণিকভাবে অংশগ্রহণ করছে। এই বছরের আগস্ট মাসে আমরা সেখানে পাঠিয়েছি আমাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির একটি করভেট বানৌজা ‘সংগ্রাম’, যা বহির্বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে।’

‘এ ছাড়া দক্ষিণ সুদানেও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন- শান্তিরক্ষা মিশন ছাড়াও এ বাহিনী (নৌবাহিনী) নিয়মিতভাবে বহুজাতীয় এক্সারসাইজ, বঙ্গোপসাগরে ‘কোর্ডিনেটেড প্যাট্রল’ ও কূটনৈতিক সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের ‘মেরিটইম সিকিউরিটি’-কে সুসংহত করে চলেছে।

শেখ হাসিনা বলেন- মালদ্বীপে যখন সুপেয় পানির অভাব হয়েছিলো, তখন আমরা আমাদের নৌবাহিনীর জাহাজ দিয়ে সুপেয় পানি সেখানে পাঠাই এবং তাঁদের সহযোগিতা করি।

এভাবেই দেশে এবং প্রতিবেশি দেশেও বাংলাদেশ নৌবাহিনী নানারকম সহযোগিতা প্রদান করে যাওয়ায় তিনি এই বাহিনীকে ‘কর্মমুখর’ আখ্যায়িত করে তাঁদের ধন্যবাদ জানান।

‘ভূ-রাজনৈতিক প্রয়োজনে একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী গঠন করা হবে’- বঙ্গবন্ধুর ভাষণের এই উদ্ধৃতি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, তাঁরই (জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) পদাঙ্ক অনুসরণ করে নৌবাহিনীকে আধুনিক দক্ষ ও শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ তাঁর সরকার নিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন- আমাদের সরকার নৌবাহিনীতে বর্তমান প্রজন্মের উন্নত সাবমেরিন, যুদ্ধ জাহাজ, মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্র্যাফট, হেলিকপ্টার ও বিশেষায়িত বাহিনী সংযোজন করেছে এবং এর মাধ্যমে ‘একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ’ মোকাবিলায় আমরা একটি ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী গঠনের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি।

‘কমিশনপ্রাপ্ত জাহাজগুলো নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী, দক্ষ এবং বেগবান করবে বলেই বিশ্বাস করি।’

এ বিষয়ক : বিচারকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী : আদালতের রায় ইংরেজির সঙ্গে বাংলায়ও লিখুন

Facebook Comments Box
Contact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share