ঢাকায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য প্রথম মাদরাসা

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য ঢাকায় বেসরকারি উদ্যোগে একটি মাদরাসা চালু হয়েছে।

‘দাওয়াতুল কুরআন তৃতীয় লিঙ্গের মাদরাসা’টি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের লোহার ব্রিজের ঢাল এলাকায় শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তিনতলা একটি ভাড়া বাড়িতে কার্যক্রম শুরু করেছে।

বাড়িটির ওপর তলায় ১২শ বর্গফুট জায়গার ওই প্রতিষ্ঠানে শতাধিক শিক্ষার্থী পাঠ নিতে পারবেন বলে গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।

অনাবাসিক ওই মাদ্রাসায় যেকোনও বয়সি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ ভর্তি হতে পারবেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মাদ্রাসাটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, কেরানীগঞ্জ ও বাড্ডা এলাকার ৪০ জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ অংশ নেন।

তাঁদের মধ্যে যাত্রাবাড়ির মাতুয়াইলের হাজী মসজিদ এলাকা থেকেই এসেছেন অন্তত ১৮ জন।

দুই পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সকালে বাংলাদেশ হিজড়া কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবিদা সুলতানা মিতু প্রধান অতিথি ছিলেন।

বিকেলের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কামরাঙ্গীরচরের বাইতুল উলূম ঢালকানগর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি জাফর আহমাদ।

২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে হিজড়াদের ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ পরিচয়কে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে এ সংক্রান্ত নীতিমালা অনুমোদন করা হয়।

পরের বছর ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা প্রণয়নের সময়ই নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন ফরমে লিঙ্গ পরিচয় হিসেবে হিজড়া যুক্ত করে। এরপর থেকে তাঁরা বিভিন্ন নির্বাচনেও অংশ নিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

কামরাঙ্গীরচরে তৃতীয় লিঙ্গের মাদ্রাসাটির অর্থায়ন করছে মরহুম আহমেদ ফেরদৌস বারী ফাউন্ডেশন। এর অধ্যক্ষ পরিচালক মুফতি আবদুর রহমান আজাদ নিজেও অন্যতম একজন উদ্যোক্তা।

মুফতি আবদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘এই মাদ্রাসায় প্রথমে হিজড়াদেরকে কুরআন শিক্ষা দেওয়া হবে। এছাড়া কওমি শিক্ষা সিলেবাস অনুসারে নূরানী, নাজেরা, হিফজুল কুরআন ও কিতাব বিভাগ চালু হবে। শুক্রবার থেকেই তাঁদের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

পরে ওখানে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে অভিজ্ঞদের নিয়ে আরেকটি আলাদা বিভাগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন- তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের মূলধারায় ফিরিয়ে এনে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান- মাদরাসাটিতে ১০ জন প্রশিক্ষক দায়িত্ব নিয়েছেন।

হিজড়া কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবিদা সুলতানা মিতু বলেন- তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ যদি সার্বিক সহযোগিতা পায়, তাহলে তাঁরা দেশের সম্পদে পরিণত হবে। তাঁদেরকে বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে কাজের সুযোগ দিতে হবে, তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে তাঁরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে কিছু করতে যাবে না। অপরাধ কমে আসবে।

অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম শুভ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইদুল ইসলাম মাদবর বক্তব্য দেন।

এ সময় সাইদুল ইসলাম জানান- মাদ্রাসার জন্য স্থায়ী একটি জায়গার ব্যবস্থা করা হবে।

এ বিষয়ক : স্বাস্থ্যমন্ত্রী : প্রথম লটে ৩ কোটি ভ্যাকসিন ডোজ আনা হবে

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.