রাত পোহালেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন : হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : রাত পোহালেই তেসরা নভেম্বর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিন।

এদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁরা কাকে হোয়াইট হাউজে দেখতে চান। ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি জো বাইডেন।

জানা গেছে- নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ৩ নভেম্বর রাতে যে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হবে, সেটা খুব সহজেই আন্দাজ করা যায়। ওই রাতে বিভিন্ন রাজ্য থেকে নির্বাচনের যেসব ফলাফল আসতে থাকবে সেগুলোসহ আরও কিছু বিষয়ের দিকে নজর রাখতে হবে। এখানে এরকম কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো-

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার জন্যে জনগণের ভোট, যা পপুলার ভোট হিসেবে পরিচিত, বেশি পাওয়ার দরকার হয় না। এর পরিবর্তে প্রার্থীরা বরং ইলেকটোরাল কলেজে বেশি ভোট পাওয়ার দিকেই তাকিয়ে থাকেন।

গত নির্বাচনে সাধারণ জনগণের ভোট কম পেয়েও ডোনাল্ড ট্রাম্প ইলেকটোরাল কলেজের ভোটে হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আগের যে কোনও সময়ের নির্বাচনের তুলনায় এবার প্রচুর সংখ্যক মানুষ ডাকযোগে ভোট দিচ্ছেন। এসব পোস্টাল ভোট গণনার জন্য আরো বেশি সময় লাগতে পারে, এবং কোনো কোনো রাজ্য ভোটের আগের দিন পর্যন্ত এই গণনা শুরু হবে না, ফলে কিছু কিছু রাজ্য থেকে ফলাফল পেতে নিশ্চিতভাবেই বিলম্ব ঘটবে।

এবার যেহেতু এতো বেশি সংখ্যক মানুষ ডাকযোগে ভোট দিচ্ছে, প্রাথমিক ফলাফলে একজন প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও পরে সেটা বদলে যেতে পারে। একারণে এসব সংখ্যার ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকতে হবে।

নির্বাচনের কিছু শব্দ বা টার্ম :

বেলওয়েদার স্টেট: ওহাইও এবং মিজৌরির মতো কিছু রাজ্যকে বেলওয়েদার স্টেট বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দেখা গেছে এসব রাজ্যে ভোটাররা যে প্রার্থীকে বেশি ভোট দিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত তিনিই জাতীয়ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

এক্সিট পোল বা বুথফেরত সমীক্ষা: ভোটাররা যখন ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসেন তখন তাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে এই সমীক্ষা পরিচালিত হয়। অল্প কিছু সংখ্যক ভোটারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। ফলে এই এক্সিট পোলের ফলাফলও চূড়ান্ত ফলাফল থেকে ভিন্ন হতে পারে।

ইলেকটোরাল কলেজ : প্রত্যেকটি রাজ্যের ভোটের সংখ্যা ভিন্ন। এই ভোটকে বলা হয় নির্বাচক বা ইলেকটর। রাজ্যের জনসংখ্যার অনুপাতে ওই ইলেকটরের সংখ্যা নির্ধারিত হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যেটা হয়, যে প্রার্থী একটি রাজ্যে জয়ী হন, তিনি ওই রাজ্যের সবগুলো ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে যান। এই ইলেকটররা পরে একত্রিত হয়ে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন। ইলেকটোরাল কলেজে (নির্বাচকমণ্ডলী) মোট ভোটের সংখ্যা ৫৩৮ এবং নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট হতে হলে একজন প্রার্থীকে ২৭০টি ভোট পেতে হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রজেকশন (ধারণা) বনাম কলিং (চূড়ান্ত) : নির্বাচনের রাতে ব্যালট গণনা থেকে ধারণা বা প্রজেক্ট করা হয় প্রত্যেক রাজ্যে ও জাতীয়ভাবে কোন প্রার্থী বিজয়ী হতে চলেছেন। যথেষ্ট তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত কোনো একটি রাজ্যে কে বিজয়ী হয়েছেন সেটা ঘোষণা করা হয় না। এসব তথ্যে মধ্যে রয়েছে আগাম ভোট, এক্সিট পোল এবং নির্বাচনের দিন যেসব ভোট গণনা করা হয় সেগুলো।

সুইং স্টেট বা ব্যাটেলগ্রাউন্ড রাজ্য : যেসব রাজ্যে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী বেশি ভোট পাবেন তা স্পষ্ট নয় সেগুলোকে বলা হয় সুইং স্টেট বা ব্যাটেলগ্রাউন্ড স্টেট। এর অর্থ হচ্ছে তারা ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান যে কোন প্রার্থীকেই বেছে নিতে পারেন।

লাল রাজ্য বনাম নীল রাজ্য : এসব রাজ্যে পরিষ্কার যে তারা বিশেষ কোনো একটি দলের প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিচ্ছে। রিপাবলিকান দলের সমর্থন বেশি যেসব রাজ্যে সেগুলো লাল এবং ডেমোক্র্যাট দলের প্রাধান্য যেখানে সেসব নীল।

টপ লাইন

ডোনাল্ড ট্রাম্প : টিভি তারকা থেকে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট
জো বাইডেন : এবারের দৌড় হোয়াইট হাউসের জন্য
দুই রানিং মেট : কমালা হ্যারিস ও মাইক পেন্স

বটম লাইন :
কীভাবে জানা যাবে কে জয়ী হচ্ছেন : যেহেতু এবার ডাকযোগে প্রচুর ভোট পড়েছে তাই প্রাথমিক ফলাফলে কে এগিয়ে আছে সেটা বোঝা কঠিন হবে। ধারণা করা হচ্ছে ২০১৬ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবার দ্বিগুণ পোস্টাল ভোট পড়েছে।

এসব পোস্টাল ভোট কখন ও কীভাবে গণনা করা হবে তার জন্য একেক রাজ্যে রয়েছে একেক ধরনের আইন। সেকারণে এসব রাজ্য থেকে বিভিন্ন সময়ে ফলাফল পাওয়া যাবে এবং কখনও কখনও সময়ের এই ব্যবধান খুব বেশিও হতে পারে। কিছু কিছু রাজ্যে, যেমন ফ্লোরিডা এবং অ্যারিজোনা, সেখানে পোস্টাল ভোটের গণনা শুরু হয়ে যাবে ৩রা নভেম্বরের ভোটের দিনের আগে। কিন্তু উইসকনসিন ও পেনসিলভানিয়ায় ৩রা নভেম্বরের আগে সেগুলো স্পর্শ করা হবে না। ফলে সেখান থেকে ভোটের ফলাফল দেরিতে আসবে।

এখানে আরও কিছু জটিলতা আছে। পোস্টাল ভোট দেওয়ার সময়সীমা একেক রাজ্যে একেক রকমের। কিছু রাজ্য, যেমন জর্জিয়া, সেখানে ৩রা নভেম্বর পর্যন্ত যেসব ভোট কর্তৃপক্ষের হাতে এসে পৌঁছাবে সেগুলো গণনা করা হবে। কিন্তু অন্যান্য রাজ্য, যেমন ওহাইও, সেখানে ৩ তারিখে ভোট দিলেও (অর্থাৎ খামের মধ্যে ৩রা নভেম্বর সিল থাকতে হবে) সেসব ভোট গণনা করা হবে।

এটা আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, কিছু কিছু রাজ্যের সম্পূর্ণ ফলাফল পেতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যাবে। ফলে আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্টের নাম কখন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে সেটা আগে থেকে ধারণা করা কঠিন।

আগের নির্বাচনগুলোতে এ রকম হয় নি। ২০০৮ সালে ফলাফল পাওয়া গেছে পূর্বনির্ধারিত সময়ে। আর ২০১২ সালের ফল পাওয়া গেছে নির্ধারিত সময়ের মাত্র ১৫ মিনিট পর। ২০১৬ সালে আরো একটু দেরি হয়েছিল। পেনসিলভেনিয়াতে জয়ী হওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল যে হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এ বিষয়ক : যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ৯ কোটি আগাম ভোটের রেকর্ড

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.