সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১

The Bangla Kagoj

আপনার কাগজ । banglakagoj.net

প্রধানমন্ত্রী : অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করুন

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার (২ নভেম্বর) বাক স্বাধীনতার নামে সোশ্যাল মিডিয়া এবং গণমাধ্যমে অপপ্রচারের কঠোর সমালোচনা করে এর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন- দেশে কিছু আঁতেল শ্রেণীর লোক আছে যারা বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টির জন্য অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হলেই বলে ওঠেন বাক স্বাধীনতা নাকি খর্ব হচ্ছে। সংঘাত সৃষ্টি করাও কি বাক স্বাধীনতা? সেটাই আমার কথা।

‘তাই, কেউ যদি অপপ্রচার করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে এর প্রতিবাদটা আমাদের করতে হবে। আমরা চুপ করে বসে থাকলেও হবে না ডিফেন্সিভ হলেও হবে না।’

‘যেটা সত্য সেটা বললে হয়তো সাময়িকভাবে তা বিশ্বাস করাতে কষ্ট হবে, কিন্তু এটা সফল হবেই, এটা হলো বাস্তবতা।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকের প্রারম্ভিক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষ থেকে ভার্চুয়াল এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বৈঠকের বিষয়ে অবহিত করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখনই বাংলাদেশ কোন ভাল জায়গায় যাবে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যেখানে বাংলাদেশ সম্পর্কে আগাম আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে, সেখানে বাংলাদেশ তার থেকে এগিয়ে যাচ্ছে- এটা তাদের (তথাকথিত বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর) হয়তো পছন্দ হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ভিক্ষুক হয়ে থাকবো, তাদের কাছে হাত পাতবো, চেয়ে খাব-এটাইতো তারা চাইবে। কিন্তু আমরা তা থাকবো না। দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াবো।’

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনা আরও যোগ করেন- দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে গেলেই এই শ্রেণিটার খুব কষ্ট হয়। আর যাঁরা আমাদের স্বাধীনতাই চায় নি, তাদেরতো আরও কষ্ট হয়। এটাতো আমরা বুঝি, আর এটা হলো বাস্তব কথা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের একটা শ্রেণিতো রয়েছেই, যারা সমাজকে বা সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, মানুষের জীবন নিয়েও তাদের চিন্তা নেই।

‘কারণ, তাদের একটা অন্য উদ্দেশ্য থাকে। তাদের কন্ট্রোল করতে গেলেই বা তারা তাদের ষড়যন্ত্রটা সফল করতে না পারলেই সমালোচনামুখর হয়।’

‘যারা একটি সুন্দর পরিবেশকে নষ্ট করার জন্য বক্তব্য দেবে, তাদেরকে ধরলে (আটক করলে) এটা বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, এটাতো হয় না। সবারই দায়িত্ব ও কর্তব্য থাকবে।’

তিনি বলেন, সারা পৃৃথিবীর মানুষও বলবে অপপ্রচারটা কখনও বাক স্বাধীনতা নয়।

‘তবে, এখন সোশ্যাল মিডিয়া, ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং ডিজিটাল যুগ তাই, যার যা খুশি বলে যাচ্ছে, যা খুশি অপপ্রচার করে যাচ্ছে আবার তাদের কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হৈ চৈ এবং নানা কথা ছড়াবে। কিন্তু, কি কারণে হচ্ছে সেটা তারা দেখছে না।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন- আমাদেরর একটা দুর্বলতা রয়েছে, এটা নিয়ে (সংঘটিত আসল ঘটনা) কাউকে প্রশ্ন করলে কারণটা আর বলে না, তারা ডিফেন্সিভে চলে যায়। এই মানসিকতাটাও ভাল নয়। যেটা সত্য সেটা বলতেই হবে, বলতে হবে- ওই লোকটা এভাবে সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।

‘কোটার (বিসিএস) বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ব্যাগে যদি বড় বড় পাথর বা রামদা, কিরিচ-এগুলি থাকে! সেখানেতো বই-খাতা পাওয়া যায় নি। সেটা নিয়ে কোনও কথা নেই। তখনতো অনেক নিউজও বের হয়েছে এবং অনেক ছবিও বের হয়েছে।’

‘সে সময় আওয়ামী লীগ অফিসে আক্রমণ এবং পাথর ছুড়ে মেরে অফিস ভাঙচুর এবং ৪০/৫০ জন নেতাকর্মীকে আহত করা, যাঁদের দেশে-বিদেশে চিকিৎসা করাতে হয়েছে এবং কারও কারও চিকিৎসা এখনও চলছে বলেন তিনি।’

‘এটা নিয়ে কোনও মাথাব্যথা কারও ছিল না। রাস্তায় নিজেরা আগুন জ্বালিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগে যখন পুলিশ সেই ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে গেল সেটাই সব থেকে বড় হয়ে গেল। অথচ পিলখানায় বিজিবি গেটের সামনে গন্ডগোল করা হচ্ছিল, অনেকে বিজিবি গেট দিয়েও ঢুকে গিয়েছিল, কাজেই সেখানে বিজিবি যদি গুলি চালাতো তাহলে কি অবস্থা হতো।’

এ বিষয়ক : সদ্য পড়াশোনা শেষ হওয়াদের প্রধানমন্ত্রী : আমি চাকরির পেছনে না ছুটে বস হবো

Facebook Comments Box
Contact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share