জুন ২২, ২০২১

The Bangla Kagoj

আপনার কাগজ । banglakagoj.net

প্রধানমন্ত্রী : বিত্তবানেরা নিজের এলাকার দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ান

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বিত্তবানদের নিজের এলাকার দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।

শনিবার (৩‌১ অক্টোবর) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ‘মুজিববর্ষে গৃহহীন মানুষকে সরকারের সচিবগণের গৃহ উপহার’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানে সরকারের ৮০ জন জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিব নিজ নিজ এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে ১৬০টি গৃহহীন, ভূমিহীন পরিবারের কাছে তাঁদের জন্য নির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন- যাঁরা আমাদের বিত্তশালী, তাঁরা যদি এভাবে তাঁর নিজ নিজ এলাকায় কিছু দুস্থ পরিবারের দিকে ফিরে তাকায়; ঘর নাই তো ঘর করে দিল, তাঁদের কিছু কাজের ব্যবস্থা করে দিলো, তাঁদেরকে সহযোগিতা করলো…

‘শুধু নিজে ভালো থাকবো, নিজে সুন্দর থাকবো, নিজে আরাম-আয়েশে থাকবো, আর আমার দেশের মানুষ, আমার এলাকার মানুষ তাঁরা কষ্টে থাকবে, এটা তো মানবতা না।’

সবাইকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন- আপনারা যেসব স্কুলে পড়াশোনা করেছেন, সেসব স্কুলগুলোর উন্নয়নের জন্য একটু কাজ করেন। আপনি যেই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছেন, সেই গ্রামে যেই কয়টা মানুষকে পারেন, সহযোগিতা করেন। সবাই মিলে সম্মিলিত কাজ করলে পরে এ দেশে দারিদ্র্য থাকবে না।

মুজিববর্ষে বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না, সরকারের সেই ঘোষণা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসায় সচিবদের ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন- জাতির পিতা সরকারি অফিসারদের এই কথাই বলেছিলেন যে, আপনারা আজকে যা কিছু পান, তার মূলে কারা…এই গ্রামের মানুষগুলোই তো। মাথার ঘাম পায়ে ফেলেই তো এরা অর্থ উপার্জন করে। তাঁদের জন্য আপনারা কিছু করেন।’

জাতির পিতার জীবনের মূল লক্ষ্যই ছিলো, ‘দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। আজকে এই একটা ঘর পাবার পর, সেই দুঃখী মানুষের মুখে যখন হাসি ফোটে, তখন তার যে আনন্দ আসে, আমার মনে হয় এটাই সব থেকে বড় পাওয়া।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাওয়ার কথা বলেন শেখ হাসিনা।

‘আমি যদি একটু কিছু করে যেতে পারি মানুষের জন্য, এটাই আমার জীবনের স্বার্থকতা। কী পেলাম, না পেলাম, সেই চিন্তা আমি কখনও করি না।’

বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামমুখর জীবন তুলে ধরার পাশাপাশি ১৯৭৫ সালে তাঁকে হত্যার পর নিজের নির্বাসিত জীবনের কথা তুলে ধরেন তাঁরই মেয়ে শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

‘জাতির পিতাকে হত্যা করার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জিয়াউর রহমান খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলো, রাষ্ট্রদূত করেছিলো। আর যাঁরা যুদ্ধাপরাধী…পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে ঘরবাড়ি পুড়িয়েছে, গণহত্যা চালিয়েছে, মা-বোনদেরকে তুলে নিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে, লুটপাট করেছে, তাঁদেরকেই মন্ত্রী বানিয়েছে, তাঁদেরকেই ক্ষমতায় বসিয়েছে।’

জাতির পিতাকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে বাংলাদেশের হাঁটার কথাও বলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।

‘পরবর্তীতে দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে মানুষের কল্যাণে কাজ শুরু করলে বাঙালি জাতি বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলতে শুরু করে।’

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে- ঘর নাই এমন ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১টি পরিবার এবং জমি আছে ঘর নাই এমন ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৬১টি পরিবারসহ সর্বমোট ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি পরিবারের তালিকা করেছে সরকার, যাঁদের ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে।

২০২০-২১ অর্থ বছরে ১ হাজার কোটি টাকায় প্রায় ৬০ হাজার পরিবারকে ঘর করে দেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/দপ্তর, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তি উদ্যোগে নিজস্ব অর্থায়নে সর্বমোট ৬ হাজার ২শ ২২টি গৃহ নির্মাণের জন্য প্রতিশ্রুত হয়েছেন।

এর মধ্যে জনপ্রতিনিধি ২ হাজার ৮৩২ জন, মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠান ২ হাজার ৫৬২টি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোগে ৮২৮টি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। এটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

এ বিষয়ক : রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী : কমিউনিটি পুলিশিং দিবস আজ

Facebook Comments Box

Call Now ButtonContact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share