প্রধানমন্ত্রী : যুদ্ধ নয়, তবে আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি মোকাবিলা

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ‘বাংলাদেশ যুদ্ধ নয় বরং শান্তি চায় এবং সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রেখেই এগিয়ে যেতে চায়’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহিশত্রুর আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষায় শক্তিশালী সশস্ত্রবাহিনী প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বারোপ করেছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তিনটি বিগ্রেড ও পাঁচটি ইউনিটের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুরুত্বারোপ করেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৭ম পদাতিক ডিভিশনের সদর দপ্তর লেবুখালি, পটুয়াখালি সেনানিবাসের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সদর দপ্তর ৭ স্বতন্ত্র এডিএ ব্রিগেড (চট্টগ্রাম), সদর দপ্তর প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড (সিলেট), সদর দপ্তর ২৮ পদাতিক ব্রিগেড, ৪৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ৬৬ ইস্ট বেংগল, ৪৩ বীর, ৪০ এসটি ব্যাটালিয়ন এবং ১২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নের আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলন করা হয়।

এ সময় সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও সেনানিবাসের জিওসিসহ ঊর্ধ্বতন সেনাকর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন- যদি কখনো আমরা আক্রান্ত হই, সেটা মোকাবিলা করার মতো শক্তি যেন আমরা অর্জন করতে পারি, সেভাইে আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে চাই এবং সেভাবেই আমরা তৈরি থাকতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আবারো বলবো আমরা শান্তি চাই। বন্ধুত্ব চাই। বৈরিতা চাই না, যুদ্ধ চাই না।

‘যুদ্ধের ভয়াবহ রূপ তিনি নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেছেন’- উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন-আমরাও সেই ভুক্তভোগী। কাজেই আর সেই ধ্বংসযজ্ঞে আমরা যুক্ত হতে চাই না। কিন্তু শান্তির পথ বেয়ে আমরা প্রগতির পথে এগিয়ে যেতে চাই।

যখনই আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে তখনই সশস্ত্রবাহিনীর উন্নয়নে তাঁর সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন-আমরা চেয়েছি সশস্ত্রবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের জীবন মান উন্নত হোক এবং সমগ্র বাংলাদেশের মানুষেরই জীবন মান উন্নত হোক। আমরা সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনকালে মাত্র ৯ মাসের মধ্যে জাতির পিতার দিয়ে যাওয়া সংবিধানে দেশের পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়,’ এ বিষয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন- আমাদের পররাষ্ট্রনীতি অত্যন্ত স্পষ্ট- আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই না, সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে নিয়ে আমরা বাংলাদেশকে আর্থ-সামাজিকভাবে উন্নত করতে চাই।

শেখ হাসিনা সেনা সদস্যদের উদ্দেশে বলেন- পবিত্র সংবিধান এবং দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আপনাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে অভ্যন্তরীণ কিংবা বাহ্যিক যে কোনও হুমকি মোকাবিলায় সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন- আপনারা সেনাবাহিনীর ভেতরের মূল চালিকা শক্তিগুলো অর্থাৎ ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা, পারস্পারিক বিশ্বাস, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, কর্তব্য পরায়ণতা, দায়িত্ববোধ এবং সর্বোপরি শৃঙ্খলা বজায় রেখে আপনাদের স্বীয় কর্তব্য যথাযথভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাবেন, সেটাই আমি আশা করি।

‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের মানুষের ভরসা ও বিশ্বাসের প্রতীক। সেভাবেই মানুষের আস্থা অর্জন করেই আপনাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

‘সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দেশের জন্য কাজ করার লক্ষ্যে সর্বপ্রথম ‘পেশাদারিত্ব এবং প্রশিক্ষণ প্রয়োজন’, উল্লেখ করেন তিনি।

সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাঁজোয়া এবং আর্টিলারি কোরের জন্য আধুনিক গান ও মিসাইল ক্রয় করা হচ্ছে।’

‘পদাতিক বাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক ইনফ্যান্ট্রি গেজেট ক্রয় করা হয়েছে। আমাদের মিলিটারি একাডেমির ভিত্তিটা জাতির পিতা করে গিয়েছিলেন, আজকে তা বিশ্বে প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি যে একদিন একটি বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে রূপ নেবে, সেটা সে সময়ই জাতির পিতা তাঁর বক্তৃতাতেও আশাবাদ ব্যক্ত করে যান’, বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন- সেনাবাহিনী এবং নৌ বাহিনীর সদস্যদের হাত ধরেই আমরা ভূমিহীন মানুষের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প শুরু করি এবং সেভাবেই জাতির পিতার স্বপ্ন- ‘দেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না’ সে স্বপ্ন আমরা পূরণ করতে চাই।

‘দেশ ও জাতির প্রতি আপনাদের যে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ এবং দেশ মাতৃকার প্রতি ভালবাসা নিয়েই আপনারা স্ব-স্ব দায়িত্ব পালন করবেন, সেটাই আমরা চাই। ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠবে।’

মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালির দুমকি উপজেলার লেবুখালিতে দেশের দক্ষিণবঙ্গের একমাত্র সেবানিবাসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পায়রা নদীর তীর অবস্থিত নয়নাভিরাম সৌন্দর্যমণ্ডিত এই সেনানিবাসটি প্রায় ১৫শ’ ৩২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত।

এ বিষয়ক : ডিআরইউ’র রজত জয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী : বিভ্রান্তিকর সংবাদ নয়

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.