বাংলার বাঘের ১৪৮তম জন্মদিন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : শেরে বাংলা এ কে (আবুল কাশেম) ফজলুক হক ১৮৭৩ সালে ২৬ অক্টোবর বরিশাল জেলার রাজাপুর থানার সাতুরিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদ এবং সাইদুন্নেসা খাতুনের একমাত্র পুত্র।

শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক বাঙালি রাজনীতিক।

বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাঙালি কূটনীতিক হিসেবে বেশ পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের নিকট শেরে বাংলা (বাংলার বাঘ) এবং ‘হক সাহেব’ নামে পরিচিতি ছিলো তাঁর।

শেরে অনেক পদ অলংকৃত করেছেন, এর মধ্যে কলকাতার প্রথম মুসলিম বাঙালি মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩), পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী (১৯৫৪), পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (১৯৫৫), পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর (১৯৫৬-১৯৫৮) অন্যতম। যুক্তফ্রন্ট গঠনে প্রধান নেতাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।

র‌্যামজে ম্যাকডোনাল্ডের গোলটেবিল বৈঠক : ভারতের ভবিষ্যৎ শাসনতন্ত্রের রুপরেখা নির্ধারণের লক্ষ্যে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার র‌্যামজে ম্যাকডোনাল্ড (James Ramsay MacDonald) একটি গোলটেবিল বৈঠক আহ্বান করেন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মহাত্মা গান্ধী এই বৈঠক প্রত্যাখান করেন।

কিন্তু মুসলিম লীগ ওই বৈঠকে অংশ নেয়।

১৯৩০-১৯৩১ সালের প্রথম গোলটেবিল বৈঠকে ফজলুল হক বাংলা এবং পাঞ্জাবের মুসলমানদের জন্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিনিধিত্ব দাবি করেছিলনে। তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচনের পক্ষে বক্তব্য দেন।

১৯৩১-১৯৩২ সালে দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে কংগ্রেসও যোগ দেয়। কিন্তু তাতেও সাম্প্রদায়িক প্রশ্নের সমাধান না হওয়ায় ভারতের শাসনতন্ত্র রচনার দায়িত্ব চলে যায় বৃটিশের হাতে।

কৃষক রাজনীতি : ১৯২৪ সালে শিক্ষামন্ত্রীর পদে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকে আবুল কাশেম ফজলুল হক সম্পূর্ণরূপে জড়িয়ে পড়েন কৃষকদের রাজনীতি নিয়ে।

১৯২৯ সালের ৪ জুলাই বঙ্গীয় আইন পরিষদের ২৫ জন মুসলিম সদস্য কলকাতায় একটি সম্মেলনে মিলিত হন। ওই সম্মেলনে নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি নামে একটি দল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। বাংলার কৃষকদের উন্নতি সাধনই ছিল ওই সমিতির অন্যতম লক্ষ্য।

১৯২৯ সালেই নিখিল বঙ্গ প্রজা সম্মেলন অনুষ্ঠিথ হয় কলকাতায়। ঢাকায় প্রজা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৩৪ সালে। ওই সম্মেলনে এ কে ফজলুক হক সর্বসম্মতিক্রমে নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। ওই প্রজা সমিতির মধ্য দিয়েই পরে কৃষক-প্রজা পার্টির সূত্রপাত ঘটে।

১৯৩৭ এর নির্বাচন : ১৯৩৭ সালের মার্চে বঙ্গীয় আইন পরিষদের নির্বাচনে কৃষক প্রজা পার্টির পক্ষ থেকে পটুয়াখালী নির্বাচনী এলাকা থেকে এ কে ফজলুক হক ও মুসলিম লীগের মনোনীত পটুয়াখালীর জমিদার ও ঢাকার নবাব পরিবারের সদস্য খাজা নাজিমুদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

বিজ্ঞাপন

মুসলিম লীগ প্রার্থী খাজা নাজিমুদ্দিনের নির্বাচনী প্রতীক ছিল ‘হারিকেন’ আর এ কে ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টির প্রতীক ছিল ‘লাঙ্গল’।

কৃষক প্রজা পার্টির স্লোগান ছিল- লাঙল যার জমি তার, ঘাম যার দাম তার। পটুয়াখালীতে এ কে ফজলুক হক ১৩ হাজার ভোটে পেয়েছিলেন।

অপরদিকে খাজা নাজিমুদ্দিন ৫ হাজার ভোট পেয়ে ৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

বাংলার প্রধানমন্ত্রী হয়ে নানান পদক্ষেপ : প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এ কে ফজলুক হক বহু কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। শিক্ষাক্ষেত্রেই জোর দিয়েছিলেন বেশি। তাঁর আমলে দরিদ্র কৃষকের উপর কর ধার্য না করে সারাবাংলায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন করা হয়। ‘বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ’ -এর পদক্ষেপ তিনি গ্রহণ করেন। এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য বৃটিশ সরকার ১৯৩৮ সালে ‘ক্লাউড কমিশন’ গঠন করে।

মুসলিম লীগে যোগদান : ১৯৪৬ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গীয় আইন পরিষদের নির্বাচনে বরিশাল অঞ্চল ও খুলনার বাগেরহাট অঞ্চল থেকে প্রার্থী হয়ে আবুল কাশেম ফজলুল হক নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনের পর দলীয় নেতাকর্মীদের চাপে এ কে ফজলুল হক মুসলিম লীগে যোগ দেন। কিন্তু দলের সদস্য হিসেবে তিনি ছিলেন নীরব।

কৃষক শ্রমিক পার্টি গঠন : ১৯৫৩ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের সময় আবুল কাশেমের বাসভবনে কৃষক-প্রজা পার্টির কর্মীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে দলের নাম থেকে প্রজা শব্দটি বাদ দিয়ে ‘কৃষক শ্রমিক পার্টি’ গঠন করা হয়। আবদুল লতিফ বিশ্বাসকে সাধারণ সম্পাদক করে ওই পার্টির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এ কে ফজলুক হক।

যুক্তফ্রন্ট গঠন : ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর এ কে ফজলুক হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে নিয়ে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট।

যুক্তফ্রন্টের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করার জন্য এ সময় সাপ্তাহিক ‘ইত্তেফাক’কে দৈনিক পত্রিকায় রূপান্তর করা হয়।

তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ছিলেন ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।

১৯৫৪ সালের ১০ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ৩শ আসনের মধ্যে মুসলিম লীগ ৯টি আসন লাভ করে। ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল এ কে ফজলুক হক চার সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করেন।

পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পরিষদ গঠন করা হয় ১৫ মে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।

মৃত্যু : ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল সকাল ১০টা ২০ মিনিটে এ কে ফজলুক হক ৮৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

এ বিষয়ক : শুভ জন্মদিন মৃত্যুঞ্জয়ী শেখ রাসেল

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.