ডিআরইউ’র রজত জয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী : বিভ্রান্তিকর সংবাদ নয়

বাসস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এমন রিপোর্ট করবেন না, যেটা মানুষের মধ্যে বা সমাজে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় বা মানুষ বিপথে যায়। সেদিকে আপনাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা রোববার (২৫ অক্টোবর) তাঁর সরকারি বাসভবন- গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি’র (ডিআরইউ) রজত জয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

এ সময় ডিআরইউ’র সাবেক সভাপতি এবং রজত জয়ন্তী উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান শাহজাহান সরদার, ডিআরইউ সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সংগঠনের সাবেক সভাপতি শাহেদ চৌধুরী, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা ফিরোজ, সহ-সভাপতি নজরুল কবির, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদের পক্ষে ‍শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন তথ্যসচিব কামরুন নাহার।

ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি’র (ডিআরইউ) রজত জয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদের পক্ষে ‍শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন তথ্যসচিব কামরুন নাহার- পিআইডি’র সৌজন্যে বাংলা কাগজ।

শেখ হাসিনা বলেন- আপনাদের বলবো, আপনারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে, মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে কাজ করবেন। কারণ, এই রিপোর্টগুলো অনেক সহযোগিতা করে।

‘বিভিন্ন পত্রিকায় অনেক সময় অনেক ঘটনা আসে, সেসব রিপোর্ট পড়ে সঙ্গে সঙ্গে আমরা অনেক অসহায় মানুষের পাশে যেমন দাঁড়াই, আবার অন্যায় ঘটনা ঘটলেও তার প্রতিকার করতে পারি। অনেক দোষীকে শাস্তি দিতে পারি এবং দিয়ে থাকি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন- অনেক সময় আপনারা অনেক ঝুঁকি নিয়ে রিপোর্ট করেন, সেজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

নীতিহীন সাংবাদিকতা পরিহারের জন্য জাতির পিতার এক ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন- সাংবাদিকতায় আমরা নিরপেক্ষতা চাই, বাস্তবমুখিতা চাই এবং দেশ ও জাতির প্রতি কর্তব্যবোধ থেকে যেন এটা হয়, সে রকমই আমরা চাই। নীতিহীন সাংবাদিকতা কোনও দেশের কল্যাণ আনতে পারেনা। বরং ক্ষতি করে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংবাদপত্র হচ্ছে সমাজের দর্পণ। সেই দর্পণ যেটা হবে, সেটা চিন্তা চেতনায় এবং দেশপ্রেমে যেন উদ্বুদ্ধ হয়। এর ভেতর মানবতাবোধ যেন থাকে।’

তিনি অতীতের উদাহারণ টেনে বলেন- আমাদের দেশে একটা সময় ছিল- যতই দুর্নীতি হোক, যতই অন্যায় হোক সেগুলোকে ধামাচাপা দেওয়া হোত। আর সমস্যাগুলো- ওই যে কথায় বলে যে- কার্পেটের তলে লুকিয়ে রাখা। আমাদের সরকারে সময়ে কিন্তু আমরা তা করছি না।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সংস্থাটির রজত জয়ন্তীর মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সেখানে সংগঠনটি বর্তমান এবং অতীতের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ সদস্যরা উপস্থিত হন।

অনুষ্ঠানটি গণভবন থেকে সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম হেলাল।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেখানে যা রিপোর্ট হচ্ছে বা আমরা খবর পাচ্ছি, কোথাও কোনও দুর্নীতি বা অন্যায় হলে, আমরা কিন্তু এটা চিন্তা করি না- এর পেছনে আমাদের দল জড়িত, এখানে সরকারের বদনাম কিংবা দলের বদনাম হবে। আমরা চিন্তা করি, এখানে অন্যায় হয়েছে এর বিরুদ্ধে আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে।’

‘তবে, এটা নিতে গেলে হয় এমন- অনেক সময় দোষটা আমাদের ওপর এসে পড়ে। অনেকে বলে আওয়ামী লীগ সরকারই বুঝি দুর্নীতি করছে, ঘটনা তা নয়। কারণ, দুর্নীতির বীজ বপণ করে গেছে ’৭৫-এর পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সরকারগুলো।’

বিজ্ঞাপন

‘প্রথমে জিয়াউর রহমান, এরপর এরশাদ এরপর খালেদা জিয়া। তারা দুর্নীতিকে কেবল প্রশ্রয়ই দেয় নি বরং নিজেরাও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল এবং দুর্নীতিকে লালন-পালনই করে গেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর আমরা কিন্তু সেটা করছি না।’

বিএনপি-জামায়াতের সময় দেশকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করার অতীত স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন- জঙ্গিরা প্রকাশ্যে এদেশে অস্ত্র নিয়ে মিছিল করেছে। সরকারিভাবে তাদেরকে প্রটেকশন দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন- পুলিশ পাহারা দিচ্ছে আর বাংলা ভাইরা ট্রাকে করে অস্ত্র নিয়ে মিছিল করেছে-সে ঘটনাওতো আপনারা দেখেছেন।

শেখ হাসিনা আরও বলেন- একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার পর সেই খুনীদের দেশ থেকে বের হতে দেওয়া হলো। আর কোথা থেকে জজ মিয়া নামে একজন গরীব মানুষকে ধরে এনে নাটক সাজানো হলো। আওয়ামী লীগ কিন্তু তা করে না।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে হলি অর্টিজান বেকারির সন্ত্রাসী হামলার অবসান ঘটানোকে তাঁর সরকারের সাফল্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন- ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমরা এটার সমাধান করেছিলাম। আর এরপরে এ ধরনের ঘটনা যেনও আর না ঘটে, এর জন্য যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।

জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন- মানুষ যদি সঙ্গে না থাকে, পাশে না থাকে তাহলে কোনও জায়গাতেই কোনও অর্জন করা যায় না। আমরা সেটাই বিশ্বাস করি এবং সেভাবেই কাজ করছি।

প্রধানমন্ত্রী নিজেকে সাংবাদিক পরিবারেরই একজন সদস্য উল্লেখ করে বলেন- জাতির পিতা নিজেও তাঁর জীবনে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

‘বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে সাপ্তাহিক মিল্লাত এবং ইত্তেহাদ পত্রিকায় এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দৈনিক ইত্তেফাকে সাংবাদিকতা করেন এবং নতুন দিন নামে আওয়ামী লীগের জন্য নিজেও একটি পত্রিকা বের করেন।’

বঙ্গবন্ধু সাপ্তাহিক বাংলার বাণীও বের করেছিলেন উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন- সাংবাদিকতার সঙ্গে তাঁর (বঙ্গবন্ধু) সব সময় একটা সম্পর্ক ছিলো। সেদিক থেকে আমি দাবি করতে পারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সন্তান হিসেবে আমি নিজেও সাংবাদিক পরিবারেরই একজন সদস্য।

জাতির পিতার খুনিদের বিচার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে বাংলাদেশের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনায় তাঁর সরকারের যে লক্ষ্য ছিলো, তা বর্তমানে অনেকাংশেই সফল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন- বাংলাদেশ বললে (বহির্বিশ্বে) মানুষ যেনও একটু সম্মানের চোখে দেখে এবং মর্যাদা দেয়। বর্তমানে এইটুকু দাবি আমরা করতে পারি এবং অল্প সময়ের মধ্যে আমরা সেই অবস্থাটা অর্জন করতে পেরেছি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন- তাঁর সরকারের অন্যতম সফলতা হচ্ছে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারেও নিয়ে আসা।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সংবাদ শিল্পের উন্নয়নে তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপগুলোর উল্লেখ করে বলেন- জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা, ২০১৭ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা এবং গণমাধ্যম কর্মীদের চাকরির সুরক্ষায় বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা তাঁর সরকার প্রণয়ন করেছে, যা আগে কখনও ছিল না।

‘এ ছাড়া, স্বাধীন সম্প্রচার কমিশনও সরকার গঠন করে দিয়েছে এবং এই সম্প্রচার কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সম্প্রচার আইন প্রণয়নেরও কাজ চলছে। যাতে বাস্তবমুখী কাজ হয় এবং অহেতুক মানুষকে বিভ্রান্ত করে সেই হলুদ সাংবাদিকতাটা যেন না থাকে।’

‘আর অনলাইনেও মানুষের কল্যাণমুখী একটি দৃষ্টি যেনও থাকে এবং সে ধরনের সাংবাদিকতাই যেন হয়।’

এ বিষয়ক : সাংবাদিকসহ ৯ ক্যাটাগরিতে ভিসার আবেদন নেবে ভারত

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.