রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী : আজ জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : চতুর্থবারের মতো ২২ অক্টোবর সারাদেশে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ উদযাপন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘মুজিব বর্ষের শপথ, সড়ক করবো নিরাপদ’।

দিবসটি যথাযথভাবে উদ্যাপনের নিমিত্ত কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর বানানীর বিআরটিএ (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) ভবনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে (ভার্চুয়ালি) উপস্থিত থাকবেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

স্বাগত বক্তব্য দেবেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম।

ওই আলোচনা সভায় সড়ক পরিবহন সেক্টর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারেরা উপস্থিত থাকবেন।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশ, সচিবালয় ও বিআরটিএ সদর কার্যালয় গেট, ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন সড়কদ্বীপ এবং ফুটওভারব্রিজ ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ইত্যাদি দিয়ে সজ্জিতকরণ, ড্রাইভার প্রশিক্ষণ, ঢাকা মহানগরীর ৪টি বাস টার্মিনালে (গাবতলী, মহাখালী, সায়দাবাদ ও ফুলবাড়িয়া) মোটরযান মালিক, চালক, যাত্রী ও জনসাধারণের অবলোকনের জন্য টিভি মনিটরের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান প্রদর্শনের আয়োজনসহ সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত লিফলেট, পোস্টার, স্টিকার বিতরণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা ইত্যাদি।

এ ধরনের কর্মসূচি সকল জেলা শহরেও পালিত হবে।

রাষ্ট্রপতির বাণী : নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পরিবহন সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে সারাদেশে চতুর্থবারের মতো ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২০’ পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে এ বছরে দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘মুজিব বর্ষের শপথ, সড়ক করবো নিরাপদ’ যথার্থ হয়েছে বলে মনে করি।

টেকসই অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নে উন্নত পরিবহন সেবার বিকল্প নেই। সড়ক দুর্ঘটনাজনিত জীবনহানি, জখম এবং আর্থিক ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে সড়ক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি গ্রহণের গুরুত্ব অপরিসীম। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ও বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট নির্মাণসহ গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনয়নের নিমিত্তে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজ এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, রোড সেফটি অডিট পরিচালনাসহ জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি এ লক্ষ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।

বিজ্ঞাপন

দেশের সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সড়কপথে মোটরযানের সংখ্যা বৃদ্ধি, ক্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বিপদজনক বাঁক, অপ্রতুল প্রশিক্ষণ, বেপরোয়া গতি এবং আইন না মানার প্রবণতা ইত্যাদি সড়ক নিরাপত্তার জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে পরিবহন মালিক, শ্রমিক, যাত্রি, পথচারী নির্বিশেষে সকলের এ সংক্রান্ত আইন ও বিধি বিধান জানা এবং তা মেনে চলা আবশ্যক। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে আমি সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

আমি ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২০’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

জয় বাংলা।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী : দেশে চতুর্থবারের মতো ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ উদযাপন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য- ‘মুজিববর্ষের শপথ, সড়ক করবো নিরাপদ’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে মনে করি।

মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দ্বারা দেশের অধিকাংশ সড়ক অবকাঠামোসহ সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থাকে স্বল্প সময়ের মধ্যে সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ করে তিনি একটি শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থার সূচনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সড়ক-মহাসড়ক অবকাঠামো নির্মাণ ও বাস্তবায়ন করে সড়ক পরিবহনের ক্ষেত্রে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে। আমাদের সরকারের আমলে মহাসড়কের নেটওয়ার্ক ২১ হাজার ৩০২ দশমিক শূন্য ৮ কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে।

৪৫৩ দশমিক শূন্য ৭ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক ৪ লেনে ও তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত করা হয়েছে।

১২০৯টি সেতু ও ৫৫৮১টি কালভার্ট নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ, ১৮টি ফ্লাইওভার ও ওভারপাস এবং ২৭টি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকার রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে পরিবহনখাতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও অগ্রাধিকার নিরূপণ ব্যবস্থা জোরদার, বিভিন্ন পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে আন্তঃভারসাম্য রক্ষা, সময় সাশ্রয়ী বিদ্যুৎচালিত আরবান মাস ট্রানজিট বা মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক চালু, পরিবহন সেবার মান নিশ্চিতকরণ, আধুনিক পরিবহন সুবিধাদির বাস্তবায়ন ইত্যাদি কৌশলকে এই রূপকল্পে প্রাধান্য দিয়েছি। সড়ক দুর্ঘটনাজনিত জীবন ও সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে সড়ক নিরাপত্তামূলক কর্মকাণ্ড জোরদার করা অপরিহার্য। এজন্য আমরা মহাসড়ক ৪ লেন বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীতকরণ, ফ্লাইওভার এবং ওভারপাস নির্মাণ, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করে এর প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, করিডোর উন্নয়নসহ ট্রাফিক সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন, মহাসড়কের পাশে বিশ্রামাগার নির্মাণ, চালকদের প্রশিক্ষণসহ নানামুখী উদ্যোগ ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঢাকা-আরিচা জাতীয় মহাসড়কের বিভিন্ন ঝুকিপূর্ণ বাঁক সরলীকরণ করা হয়েছে। এছাড়া সারা দেশের মহাসড়কে ১৪৪টি ব্ল্যাকস্পট চিহ্নিত করে ১২১টি নিরসন করা হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধ তথা সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক, শ্রমিক, যাত্রী, পথচারী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে একযোগে কাজ করতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা রোধ করতে পারব অনাকাঙ্খিত সড়ক দুর্ঘটনা। সড়ক নিরাপত্তাকল্পে সংশ্লিষ্ট সকলে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাবেন-এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।

আমি ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২০’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

এ বিষয়ক : রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী : বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস ১৫ অক্টোবর

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.