আগস্ট ৪, ২০২১

The Bangla Kagoj

আপনার কাগজ । banglakagoj.net

গ্রেনেড হামলা : আরিফ-বাবরসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; সিলেট : সাবেক মন্ত্রী ও প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ওপর গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলায় সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহারিয়ার কবিরের আদালত ওই মামলার অভিযোগ গঠন করেন।

একই আদালতে সুরঞ্জিত সেনের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত বিস্ফোরক মামলা এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত বিস্ফোরক মামলারও অভিযোগ গঠন করা হয় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর)।

এই তিন মামলায়ই সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জের সাবেক মেয়র জি কে গৌছকেও আসামি করা হয়েছে।

জানতে চাইলে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট সরওয়ার হোসেন আবদাল বাংলা কাগজকে বলেন- সুরঞ্জিত সেনের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনার দুটি মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গৌছসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আর শাহ এ এম এস কিবরিয়ার সমাবেশে গ্রেনেড হামলার বিস্ফোরক মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীদের আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে এই তিন মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলো বলে জানান তিনি।

‘বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কিবরিয়া হত্যা মামলার স্বাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ থাকলেও সাক্ষীরা হাজির না হওয়ায় এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে গেছে। এই মামলার কার্যক্রমও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।’

এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ কিবরিয়া হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা আসামিদের সিলেট আদালতে আনা হয়।

বিজ্ঞাপন

জামিনে থাকা সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গৌছও আদালতে হাজির হন। মোট ১১ জন আসামি বৃহস্পতিবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

২০০৪ সালের ২১ জুন দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ওই বোমা হামলায় এক যুবলীগকর্মী নিহত ও ২৯ জন আহত হন। ওই ঘটনায় পুলিশের তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন বাদি হয়ে দিরাই থানায় মামলা দায়ের করেন।

অপরদিকে, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভা শেষে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া ও তাঁর ভাতিজা শাহ মঞ্জুর হুদাসহ ৫ জন। এ ঘটনায় আহত হন ৭০ জন।

ওই বোমা হামলার ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান বাদি হয়ে সদর থানায় হত্যা এবং বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা করেন।

ওই মামলায় ১০ জনকে আসামি করা হয়। পরে ২০১১ সালে তদন্তের প্রেক্ষিতে আরও ২৬ জনকে আসামি করা হয়।

পরে তৃতীয় দফায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফর জামান বাবর, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী ও সিলেটের সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ প্রায় ৩৫ জনকে আসামি করা হয়।

এর মধ্যে দু’জন মারা গেছেন। নানা কারণে ১৫ বছর ধরে ঝুলে আছে ওই মামলার কার্যক্রম।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পরও মামলার কার্যক্রমে গতি পাচ্ছিলো না।

বৃহস্পতিবারও সাক্ষীরা হাজির না হওয়ায় আরেক দফা পিছিয়ে যায় চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তারিখ।

এ বিষয়ক : তারেক-হারিছের যাবজ্জীবন বাবর-পিন্টুর ফাঁসি : গ্রেনেড হামলা মামলার ঐতিহাসিক রায়

Facebook Comments Box
Call Now ButtonContact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share