অক্টোবর ২৮, ২০২১

The Bangla Kagoj

বিশ্বের সব দেশে, সব ভাষায়, সব সময় । বাংলা কাগজ । আপনার কাগজ । banglakagoj.net (আমাদের কোনও জাতীয় পত্রিকা নেই)।

মহাদেবপুরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; আমিনুর রহমান খোকন, মহাদেবপুর (নওগাঁ) : দেশের উত্তরের অন্যতম জনপদ- মহাদেবপুর। নওগাঁর এ উপজেলা উত্তরের খাদ্য ভাণ্ডার হিসেবেই খ্যাত।

মহাদেবপুরে চলতি মৌসুমে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে আমন ধানের সোনালী শীষ বাতাসে দোল খাচ্ছে। দৃষ্টিসীমা ছাপিয়ে চারিদিকে বিরাজ করছে অপার দুলুনি। আর এ দোলায় লুকিয়ে আছে হাজারও কৃষকের রঙিন স্বপ্ন।

পোকামাকড় ও রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ ছাড়াই বেড়ে ওঠা ধানের শীষে ভরে গেছে মাঠ। দিগন্তজোড়া সোনালী ফসলের মাঠ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও বিকশিত করে তুলেছে। উপজেলার হাজারও কৃষক পরিবারের চোখে মুখে এখন স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অন্য কোনও বিপর্যয় না ঘটলে কৃষকদের বাড়ির আঙ্গিনা ভরে উঠবে সোনালী ধানের হাসিতে।

বর্তমানে শেষ মহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ধান কাটা-মাড়াই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ফলে নতুন ধান উঠবে কৃষকের গোলায়। ধান ঘরে তোলার স্বপ্নে চাষীরা বিভোর। গৃরস্থ আর কৃষাণ-কৃষাণীরা গোলা, খলা, আঙ্গিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করায় ব্যস্ত এখন।

সরকারের কৃষিবান্ধব কর্মসূচি, কৃষি অফিসের ব্যাপক তৎপরতা, কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রম, অনুকূল আবহাওয়া, সার ও কীটনাশকসহ বাজারে কৃষি উপকরণের পর্যাপ্ত সরবরাহ, সহনশীল দাম, সহজলভ্যতা ও সেচের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের সরবরাহ এবং আবাদ উপযোগী পরিবেশ ইত্যাদি বিবেচনায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে- উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে এবার আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ হাজার ৩৩৫ হেক্টর। সেখানে আবাদ হয়েছে ২৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪৪৫ হেক্টর বেশি। উৎপাদনেও লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রমের প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা গেছে- কৃষকেরা তাঁদের ক্ষেতের ধান কাটার অপেক্ষায় রয়েছেন। খুশিতে কৃষক পরিবারসহ ব্যবসায়ীরা।

ক্ষেতের মধ্যে পোতা বাঁশের কঞ্চি ও গাছের ডালের ওপর ফিঙ্গে, শালিক ও দোয়েলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির নিত্য আনাগোনা।

তারা মূলত কৃষকের বন্ধু। এরই অংশ হিসেবে পাখিগুলো পোকামাকড় সাবাড় করছে।

উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের কৃষক আবদুর রহমান বলেন- গতবারের চেয়ে এবার ধান ভালো হয়েছে। আর কয়েকদিন পর কাটা শুরু করা যাবে।

‘ক্ষেতে রোগ-বালাই ও পোকা আক্রমণ করতে পারে নি। প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে স্বপ্নের সোনালী ধান যথাসময়ে ঘরে তুলতে পারব।’

বাংলা কাগজকে সুলতানপুর গ্রামের অপর কৃষক তারেক বলেন- সেচ খরচ এবং শ্রমের অধিক মূল্য ও কৃষি শ্রমিকের কিছু সমস্যা থাকলেও অনুকূল আবহাওয়ায় সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত সার, কীটনাশক ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় এ বছর আমন ধান খুবই ভাল হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ধান ক্ষেতের পাশে দাঁড়ালে বুক জুড়িয়ে যায়। এ বছর তিন একর জমিতে আমন আবাদ করেছি। গত বছরের তুলনায় এবার অধিক ফলন হবে বলেও আশা করছেন তিনি।

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অরুন চন্দ্র রায় বলেন- বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করছি আমরা।

‘কৃষকেরা যাতে লাভবান হতে পারে এবং কোনও প্রকার সমস্যায় না পড়েন এ জন্য আমরা সার্বক্ষণিক নজর রাখছি। আশা করি, বিগত মৌসুমের মতো এবারও আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে।’

এ বিষয়ক : ফুলে ফুলে ভরে গেছে ‘পল্লা’ ক্ষেত

Facebook Comments Box
Contact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share