কাল শুরু দুর্গোৎসব, চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি ও কেনাকাটা

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : কাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব।

আজ (বুধবার- ২১ অক্টোবর) দেবীর বোধন, আগামিকাল ষষ্ঠী। পূজোর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বোধনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙার জন্য বন্দনাপূজা করা হয়।

মণ্ডপে-মন্দিরে সায়ংকালে হচ্ছে বন্দনাপূজা।

শরৎকালের দুর্গাপূজায় বোধনের বিধান আছে। বোধন শব্দের অর্থ হচ্ছে জাগরণ।

দুর্গাপূজা শুরুর আগে বেলশাখায় দেবীর বোধন দুর্গাপূজার অঙ্গ।

ঢাকের তাল, কাঁসর ঘণ্টা, ধূপের গন্ধ, শাঁখের ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে পুজোমণ্ডপসহ ভক্তের মন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস অনুযায়ী- শরতে কৈলাস ছেড়ে মা দুর্গা মর্তে আসেন শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যে।

মেয়ে-ছেলে, কার্তিক-গণেশ-সরস্বতী-লক্ষ্মীকে নিয়ে নির্দিষ্ট তিথি পর্যন্ত মায়ের বাড়িতে থেকে আবার স্বামীর বাড়ি কৈলাসে ফিরে যান। দশমীর দিন কষ্টে বুক ফাটে ভক্তদের। আবারও সেই ৩৬৫ দিনের অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়, দেবী দুর্গা আসবেন বাপের বাড়ি।

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সুন্দর এবং শান্তিপূর্ণ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুর্গাপূজা উদযাপনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।

বাংলাদেশ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের পুজো মণ্ডপগুলো কনটেনমেন্ট জোন করে দেওয়া হয়েছে। ভক্তরা বাইরে থেকেই দেখবেন। কোনও সমাগম নয়।

বাংলাদেশেও পূজো প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। ছিমছাম করেই পূজোপ্যান্ডালের আয়োজন করা হচ্ছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) মহাদশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

শেষ সময়ের কেনাকাটা : বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে ঘটা করে শুরু হবে পূজা। বাজবে শঙ্খ। উলুধ্বনিতে মুখরিত হবে চারদিক। আনন্দে ভাসবে শহর-নগর। ভক্তদের দর্শন দিতে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আসবেন দেবী দুর্গা।

ইতোমধ্যে উৎসবের আমেজ লেগেছে নগরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে। ভক্তদের মাঝেও এখনও উৎসবের আমেজ। ঘুরে ঘুরে দেখছেন রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলো। উৎসবের দিন যতই ঘনিয়ে এসেছে, হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে ততোই বেড়েছে দেবীকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব। তাই চলছে শেষ সময়ের কেনাকাটা। ছবিটি বুধবার (২১ অক্টোবর) তোলা- বাংলা কাগজ।

দেবীকে বরণ করে নিতে পূজোয় নতুন পোশাক না হলে কি চলে! পরিবারের সবার নতুন পোশাক চাই। তাই পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। কেনাকাটা করেছেন অন্য ধর্মের মানুষও।

নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে শিশু-কিশোররা নিজের পছন্দের পোশাক কিনতে ভিড় জমিয়েছেন দোকানে-দোকানে। পূজোতে যাঁরা ঢাকার বাইরে যাবেন, তাঁরা দ্রুত শেষ করেছেন কেনাকাটা।

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, ধানমন্ডি হকার্স, চাঁদনী চক, মেট্রো শপিং মল, অরচার্ড পয়েন্ট, ইস্টার্ন প্লাজা, এলিফ্যান্ট রোড, অরচার্ড প্লাজা, প্রিয়াঙ্গন শপিং কমপ্লেক্স, সীমান্ত স্কয়ার, রাপা প্লাজা ও আড়ংসহ বেশ কয়েকটি শপিং মলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে- প্রত্যেকটিতেই চলছে পূজোর কেনাকাটা।

বিজ্ঞাপন

ক্রেতাদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং মল।

সরেজমিনে বসুন্ধরা শপিং মলে গিয়ে দেখা গেছে- পোশাকের দোকানগুলোতে ভিড় বেশি। নিচ তলায় শিশুদের দোকানগুলোতে চলছে কেনাবেচা। শিশুদের পোশাকের মধ্যে রয়েছে থ্রি-কোয়ার্টার, ফোর-কোয়ার্টার প্যান্ট, গেঞ্জি, পাঞ্জাবি, ফ্রক, টপস ও স্কার্টসহ নানান ধরনের পোশাক।

দোকানি ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- এবারের পূজোর বাজারে মেয়েদের শাড়ি ও সালোয়ার-কামিজের চাহিদা বেশি।

এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কাতান, জর্জেট, সিল্ক, শিপন ও এমব্রয়ডারি দিয়ে কাজ করা ভারতীয় শাড়ির প্রতি আগ্রহ বেশি ক্রেতাদের। কদর রয়েছে টাঙ্গাইলের তাঁত ও জামদানি শাড়িরও।

ক্রেতা বুঝে যার যাই পছন্দ হোক না কেন, বেশিরভাগ ক্রেতাই আবহাওয়া উপযোগী শাড়িই কিনছেন। গরমের সময় হওয়ায় হালকা ও কম ওজনের শাড়ি বেশি বিক্রি হচ্ছে।

জ্যোতি শাড়ি দোকানের সেলসম্যান আরিফ আহমেদ বাংলা কাগজকে বলেন- বিক্রি ভালোই হচ্ছে। পূজার কালেশনও ভালো ছিল। কাস্টমারের বেশ আনাগোনা, তবে মিডিয়াম রেজ্ঞের কাস্টমারই বেশি। অষ্টমী পর্যন্ত আমাদের ব্যবসা চলবে।

অন্যদিকে এবার তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে সারারা, ফ্লোরটাচ গাউন বা ব্রাইডাল গাউন, ক্যাপ গাউন, নরমাল পার্টি গাউন, লং গাউন বুটিকস, লং কামিজসহ বাহারি রং ও নানা ডিজাইনের চোখধাঁধানো পোশাক।

ছেলেদের পোশাকের ক্ষেত্রে এবার পাঞ্জাবির সঙ্গে মিলিয়ে কটি বেশ চলছে। অনেকে পাঞ্জাবির সঙ্গে পরার জন্য পূজার আমেজের সঙ্গে মিলিয়ে কিনছেন ধুতিও।

বসুন্ধরার শপিং মলের দেশি দশে পূজার আবহ পাওয়া গেল।

সুতি, সিল্ক, অ্যান্ডি ও খাদি কাপড়ে তৈরি এসব ফতুয়াতে প্রিন্ট করা হয়েছে সংস্কৃত ভাষার বিভিন্ন বাণী ও স্বস্তিকা চিহ্ন।

লেখা হয়েছে ওঁম, হরে কৃষ্ণ হরে রাম, ওম শান্তি ওমসহ বিভিন্ন শ্লোক ও মা দুর্গার বন্দনাসূচক বিভিন্ন বাক্য।

এ ছাড়া রঙতুলিতে ফতুয়ার ওপর আঁকা হয়েছে দেবী দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী এবং দেবতা গণেশ ও কার্তিকের প্রতিচ্ছবি।

পাঞ্জাবিতে প্রাধান্য পেয়েছে সাদা, কালো, সবুজ, কমলা ও লাল রং।

এ বিষয়ে বাংলার মেলার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম বাংলা কাগজকে বলেন- অনেকেই পোশাকে পূজার আবহ পেতে চায়। ক্রেতাদের আগ্রহের বিষয় মাথায় রেখেই করা হয় ডিজাইন। এবারের পূজোতে এখন পর্যন্ত আমাদের ব্যবসা মোটামুটি ভালোই হয়েছে। আর কালারের দিক থেকে ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ লাল-সাদা।

ব্র্যান্ডের দোকানগুলোর মধ্যে আড়ং ছাড়াও ইয়োলো, ক্যাটস আই, ইনফিনিটি, লুবনান, স্মার্টেক্স ও ফ্রিল্যান্ডসহ প্রায় সব দোকানে ক্রেতার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

এ বিষয়ক : উপলক্ষ দুর্গাপূজা : মমতাকে উপহার পাঠালেন শেখ হাসিনা

দুর্গাপূজা উদযাপনে স্বাস্থ্যবিধির গাইডলাইন

দুর্গাপূজার সিদ্ধান্ত : অঞ্জলি দান অনুষ্ঠান টিভি চ্যানেলে লাইভ

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.