সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১

The Bangla Kagoj

আপনার কাগজ । banglakagoj.net

মুখোমুখি হয়ে পড়ছে সাংসদ, স্থানীয় সরকার ও প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত কিছু সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকারের কিছু সদস্যের সঙ্গে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে। অবশ্য তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের ব্যাপারেই আগে থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে সমালোচনা ছিল। এসবক্ষেত্রে উভয়পক্ষের ব্যাপারেই নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে।

সর্বশেষ এ ধরনের ঘটনার নজির ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুজিবর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মামলা। মামলাটি করা হয়েছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে। যেখানে ডিসিকে (জেলা প্রশাসক) রাজাকার বলে এক সভায় গাল দেওয়ার পর মুঠোফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে গালাগাল দেওয়ার অভিযোগ উঠে নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। যদিও নিক্সন চৌধুরী দাবি করেন- মুঠোফোনের ওই কথোপকথন ‘সুপার এডিটেড’। এরপরও জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার নোয়াবুল ইসলাম ১৫ অক্টোবর সকাল ১০টায় ফরিদপুরের চরভদ্রাসন থানায় নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। যা দেশে প্রথম ঘটনা বলেই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করা হবে জানিয়ে বক্তব্য দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।

করোনাকালে উভয় পক্ষ নিয়েই সমালোচনা : করোনাভাইরাসের সময় নানা ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা ও ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে প্রশাসনের মাধ্যমেই। এক্ষেত্রে স্থানীয় সাংসদ ও স্থানীয় সরকার তথা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের মাধ্যমে এ কাজ করা হয় নি। প্রাথমিকভাবে কিছু ত্রাণ সাংসদ ও স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে বিতরণ করা হলেও পরে ‘দুর্নীতির অভিযোগ আসায়’, সেগুলো বিতরণ করা হয় প্রশাসনের মাধ্যমেই। এক্ষেত্রে ত্রাণ বিতরণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাই (ইউএনও) মূলত সংশ্লিষ্ট এলাকায় মূল ভূমিকা পালন করেন। পরে ইউএনওদের বিরুদ্ধেও উঠে আসে নানান অভিযোগ।

সবমিলিয়ে কয়েকজন সাংসদ ও স্থানীয় সরকারের কয়েকজন সদস্য এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তথা প্রশাসন চলে আসে মুখোমুখি অবস্থানে।

ইউএনওদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ : ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের মতো কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যে এ বছর জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল মিয়ার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে।

উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানেরা সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে তাঁর অপসারণ ও শাস্তি দাবি করে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেন।

ওই অনুলিপি সচিব, এনএসআই (ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স), দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) ও বিভাগীয় কমিশনারসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়।

এর আগে গেল এপ্রিলে স্থানীয়রা ‘নানান অনিয়মের’ অভিযোগ তুলেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈকা সাহাদাতের বিরুদ্ধে।

মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর রহমানের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে গত ২৪ জুন স্থানীয় কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

গত ১২ আগস্ট নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের’ অভিযোগে নরসিংদী সার্কিট হাউজে দিনব্যাপী তদন্ত করেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের পরিচালক এম ইদ্রিস সিদ্দিকী (যুগ্ম-সচিব, স্থানীয় সরকার)।

মুখোমুখি সাংসদ, স্থানীয় সরকার এবং প্রশাসন : মূলত করোনাভাইরাসের ত্রাণ প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণ করায় কিছু সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকারের সঙ্গে প্রশাসন বিশেষ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এক্ষেত্রে কিছু ইউএনওর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলেই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এ বিষয়ক : অবশেষে নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা

Facebook Comments Box
Contact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share