অক্টোবর ২৮, ২০২১

The Bangla Kagoj

বিশ্বের সব দেশে, সব ভাষায়, সব সময় । বাংলা কাগজ । আপনার কাগজ । banglakagoj.net (আমাদের কোনও জাতীয় পত্রিকা নেই)।

মোহাম্মদপুরে জাল টাকা তৈরির কারখানার সন্ধান, গ্রেপ্তার ৪

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে জাল টাকা তৈরির একটি কারখানার সন্ধানসহ বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে ঢাকা মেট্রাপলিটন পুলিশের ডিবি গুলশান বিভাগ। এ সময় উপর্যুক্ত মালামালসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মো. হুমায়ন কবির খান (৪৫), মো. জামাল (৪২), সুখী আক্তার (৩০) ও তাসলিমা আক্তার (৩০)।

ডিবি গুলশান বিভাগের সহকারি পুলিশ কমিশনার মহিউদ্দীন আহমেদ বাংলা কাগজকে জানান- রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকাল সোয়া ৪টার দিকে মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ওই অভিযান চালায় সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম।

এ সময় ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার বাংলাদেশি জালনোট উদ্ধার করা হয়। সেইসঙ্গে জালনোট তৈরির কাজে ব্যবহৃত ১টি ল্যাপটপ, ২টি প্রিন্টার, ৫টি স্ক্রীন প্রিন্ট দেওয়ার ফ্রেম, জালনোট তৈরির জন্য ২ হাজার ৫শ পিস সাদা কাগজ, ৯টি বিভিন্ন রংয়ের কালির কার্টিজ, সিকিউরিটি থ্রেট পেপারের রোল ১টি, প্লাস্টিকের কালির কৌটা ৩টি ও অন্যান্য সামগ্রি উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে উদ্ধার হওয়া সরঞ্জাম দিয়ে আনুমানিক ৫ কোটি টাকার জালনোট তৈরি সম্ভব ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মহিউদ্দীন আহমেদ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আরও বলেন- গ্রেপ্তারকৃত হুমায়ন ও জামাল ২০০৮ সালের দিকে দুরুল হুদা নামের এক কারিগরের কাছে জাল টাকা তৈরির কৌশল রপ্ত করে। এরপর নিজেই জাল টাকা তৈরির কারখানা চালু করে হুমায়ন। গ্রেপ্তারকৃত জামাল শুরু থেকেই হুমায়নের তৈরিকৃত জাল টাকার ডিলার হিসেবে কাজ করে আসছে।

বিজ্ঞাপন

গ্রেপ্তারকৃত দুই নারী তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করতো।

সহকারি পুলিশ কমিশনার মহিউদ্দীন আহমেদ আরও জানান- এই চক্রের মূলহোতা প্রথম পাইকারি বিক্রেতার নিকট প্রতি লাখ জাল নোট বিক্রি করতো ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায়। পাইকারি বিক্রেতা প্রথম খুচরা বিক্রেতার নিকট বিক্রি করতো ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকায়। প্রথম খুচরা বিক্রেতা দ্বিতীয় খুচরা বিক্রেতার নিকট বিক্রি করতো ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায়।

মাঠ পর্যায়ে দ্বিতীয় খুচরা বিক্রেতার হাত ধরে সেই টাকার মূল্য হয়ে যায় আসল টাকার সমান। মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বা দ্রবাদি ক্রয়ের মাধ্যমে এই জালনোট বাজারজাত করতো।

‘চলমান মহামারি করোনাভাইরাসের সংকটের মধ্যেও তাঁরা ব্যাপক প্রস্তুতির মাধ্যমে আবারও জাল টাকা তৈরিতে সক্রিয় হয়ে উঠেন। এই চক্রটি আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় জালেনোট বিস্তারের পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রুজু হয়েছে।

উল্লেখ্য, একই টিম গেল ২৪ আগস্ট রাজধানীর পল্টন থানা এলাকা থেকে ৬১ লাখ ৫০ হাজার টাকার জালনোটসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে।

এ বিষয়ক : জালনোট চক্রের টার্গেট ইদ, কঠোর অবস্থানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী

Facebook Comments Box
Contact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share