জুলাই ২৩, ২০২১

The Bangla Kagoj

আপনার কাগজ । banglakagoj.net

‘বেপরোয়া’ ট্রাফিক পুলিশ, ‘ঘুষ চায়’ বিআরটিএ!

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : রেহান (ছদ্মনাম) সম্প্রতি বাইক নিয়েছেন। তাঁকে শোরুম থেকে দেওয়া হয়েছে বাইকের সকল কাগজপত্র। সেসব নিয়ে তিনি গেলেন বিআরটিএ’তে (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) মোটরসাইকেল নিবন্ধনের জন্য। কিন্তু তাঁকে কোনও ধরনের সহযোগিতা করেন নি বিআরটিএর কর্মকর্তারা।

বিপরীতে তাঁকে এ দরজা থেকে ও দরজা ঘোরানো হয়। অবশেষে তিনি ১৩ হাজার ৬শ টাকা জমা দিলেন মোটরবাইকটি নিবন্ধনের জন্য।

এরপরও কোন কক্ষে যাবেন, সেটি ওয়ান স্টপ সেন্টার কিংবা অন্য কক্ষে জিজ্ঞেস করেও জানতে পারেন নি। অবশেষে ডিজিটাল লাইসেন্স করতে আসা একজন জানান ৩০২ নম্বর কক্ষে যাবার জন্য। গেলেন তিনি সেখানে।

তবে সেখানকার কর্মকর্তাও কোনোভাবেই তাঁকে সহযোগিতা করেন নি। সঙ্গে বলেন- আপনি কাগজের সকল তথ্য পূরণ করুন।

কাগজের তথ্য (ইঞ্জিন নম্বর, চেসিস নম্বর ইত্যাদি) পূরণে ওই কর্মকর্তার সহযোগিতা চাওয়া হলেও তিনি কোনও প্রকার সহযোগিতা করেন নি।

পরে রেহান বাধ্য হয়ে এক দালালকে দেন তাঁর মোটরবাইকটি নিবন্ধনের জন্য। সেখানে সকল কাজ শেষ হবার পরও শুধু শুধু দালালকে দিতে হয়েছে ১০ হাজার টাকা। শুধু বাকি ছিল কিছু তথ্যপূরণের কাজ।

এইতো গেল রেহানের একটি ঘটনা। এমন হাজারও ঘটনা এখন বিআরটিএর নিত্যদিনের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে- বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষে কোনও কাজই হয় না ঘুষ ছাড়া। এক্ষেত্রে কর্মকর্তারা কোনও ধরনের সহযোগিতা করেন না সেবাগ্রহীতাদের। বিপরীতে ঘোরান এ দরজা থেকে ও দরজায়।

এ তো গেল মোটরবাইক নিবন্ধনের একটি গল্প। এ ধরনের আরও বেশকিছু কেসস্টাডি রয়েছে এ প্রতিবেদকের হাতে।

এমনই একটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিষয়।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্যও বিআরটিএর কোনও কর্মকর্তা কোনও সহযোগিতা করেন না। বরং তারা বলেন- এ বিষয়ে তারা কিছুই বলতে পারবেন না। এমন অভিযোগ অসংখ্য ভুক্তভোগীর।

এ বিষয়ে বাংলা কাগজের কাছে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী বলেন- ড্রাইভিং লাইসেন্সের লার্নার অনলাইনে নিবন্ধন করতে ৭শ টাকার মতো প্রয়োজন হলেও তিনি এক দালালের মাধ্যমে সেটি করিয়েছেন ২ হাজার টাকায়।

কিন্তু ঘটনাটি এখানেই শেষ হয়ে যেতে পারতো। পরে তিনি অন্য এক দালালের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা প্রদান করে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন।

এক্ষেত্রে প্রথমদিন ১০ হাজার টাকা জমা দিয়েই পরদিন তিনি লিখিত, ভাইভা ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

অপরদিকে লার্নারে যে তারিখ রয়েছে, সেই তারিখ অনুযায়ী সংশ্লিষ্টজনকে পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে অপেক্ষা করতে হয় আরও অন্তত ছয়মাস।

তবে এক্ষেত্রে লার্নারের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় আগেভাগেই।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে- বিআরটিএর কর্মকর্তারা কোনও সেবা গ্রহিতাকে সহযোগিতা না করার মূল কারণ হলো- এসব কর্মকর্তা চান- যেন সংশ্লিষ্টজন দালালদের মাধ্যমেই তাঁদের কাজ করেন। যার মাধ্যমে বিআরটিএর অসাধু কর্মকর্তারা ঘুষের ক্ষেত্রে তাদের ‘পারসেন্টেজ’ বুঝে নিতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

নানা অনিয়মের ব্যাপারে জানার জন্য শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাংলা কাগজের এ প্রতিবেদক বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদারকে ফোন দেন। তবে ওপ্রান্ত থেকে কোনও ধরনের সাড়া আসে নি। অর্থাৎ ফোন ধরেন নি নুর মোহাম্মদ।

পরে শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিষয়গুলোর ব্যাপারে জানার জন্য নুর মোহাম্মদ মজুমদারকে আবারও কল দেন বাংলা কাগজ প্রতিবেদক। তবে ওই সময় তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বেপরোয়া ট্রাফিক পুলিশ : প্রথম বিষয় হলো- একটি গাড়ি নিবন্ধন বা ড্রাইভিং লাইসেন্স বা অন্য কোনও বিষয়ে বিআরটিএ যেমন কোনও ধরনের সহযোগিতা করে না মোটরবাইক চালক বা অন্য ড্রাইভারদের। তেমনি গাড়ি চালাতে গিয়েও নানা হয়রানির শিকার হতে হয় ট্রাফিক পুলিশের।

কাগজপত্র : ট্রাফিক পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য দেশের বিভিন্নস্থানে কাগজপত্র দেখার কথা বলে কিছু সময় বিনা কারণেই মামলা দিয়ে থাকেন। আবার কিছুক্ষেত্রে গাড়ি পাঠিয়ে দেন ডাম্পিংয়ে।

এক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্সের রশিদ কিংবা গাড়ির (নিবন্ধনের পূর্বে) ক্যাশমেমো দেখিয়েও কোনও ধরনের রক্ষা পাওয়া যায় না। পাঠিয়ে দেওয়া হয় ডাম্পিংয়ে। সেখানে ডাম্পিংয়ের টাকা জমা দিয়েই গাড়ি আনতে হয় সংশ্লিষ্টজনকে।

নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে কারণ ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি : দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শাক-সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্য পরিবহনে ট্রাকে প্রতিনিয়তই চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে। এক্ষেত্রে গাড়ির কাগজপত্র চেক করার জন্য সর্বনিম্ন সার্জেন্ট পর্যায়ের কর্মকর্তার প্রয়োজন হলেও কনস্টেবলরাও কাগজপত্র চেকের নামে অহরহ করছে চাঁদাদাবি। পাশাপাশি করছে চাঁদা আদায়। মূলত এ কারণেই নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায় বলেই জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

‘প্রাইভেট’ সিএনজিতে মাসোয়ারা : ‘প্রাইভেট’ লেখা সিএনজি রাজধানীজুড়েই ভাড়ায় চলছে। যেখানে হচ্ছে বড় ধরনের লেনদেনের ঘটনা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে- ‘প্রাইভেট’ লেখা সাদা রংয়ের সিএনজিগুলো শুধু ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার হওয়ার কথা থাকলেও, সেগুলোতেও যাত্রী আনা-নেওয়া করা হচ্ছে। কিন্তু কিছুই বলছে না ট্রাফিক পুলিশের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এক্ষেত্রে সবুজ রংয়ের সিএনজিগুলোর ড্রাইভারদের যেমন ড্রেসকোড রয়েছে, সেখানে সাদা রংয়ের সিএনজিগুলোর ড্রাইভারেরা যে কোনও পোশাক পড়েই গাড়ি চালাতে পারছেন।

এসবক্ষেত্রে কোনও না কোনও অসাধু ট্রাফিক সার্জেন্টের সঙ্গে ৫শ টাকা চুক্তিতে ‘প্রাইভেট’ সিএনজিগুলো চলছে রাজধানীজুড়ে।

এক্ষেত্রে কোনও সার্জেন্ট এসব সিএনজি ধরলেও ঘুষের চুক্তি কথা ড্রাইভার জানানোর পরপরই সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।

বক্তব্য : নানা অভিযোগের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়ে জানার জন্য ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মল্লিক ফখরুল ইসলাম, বিপিএম, পিপিএমের সঙ্গে টেলিফোনে শনিবার (১৭ অক্টোবর) যোগাযোগ করা হলে অপরপ্রান্ত থেকে এক কনস্টেবল ফোন ধরে বলেন- ‘স্যার (মল্লিক ফখরুল ইসলাম) অফিসে নেই। বাসায় আছেন।’

এ বিষয়ক : পুলিশ : দেশব্যাপী ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বিরোধী সমাবেশ শনিবার

Facebook Comments Box

Call Now ButtonContact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share