অক্টোবর ২৮, ২০২১

The Bangla Kagoj

বিশ্বের সব দেশে, সব ভাষায়, সব সময় । বাংলা কাগজ । আপনার কাগজ । banglakagoj.net (আমাদের কোনও জাতীয় পত্রিকা নেই)।

ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশের বড় অগ্রগতি

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ক্ষুধামুক্তির লড়াইয়ে গত এক বছরে বাংলাদেশের বড় অগ্রগতি হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (আইএফপিআরআই) চলতি বছরের ‘বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে’ ১০৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ উঠে এসেছে ৭৫তম অবস্থানে। গত বছর এই সূচকে ১১৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৮৮তম। এক বছরে ১৩ ধাপ উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। এর আগের তিন বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল যথাক্রমে ৮৬, ৮৮ ও ৯০ নম্বরে।

শুধু সূচকের অবস্থানে অগ্রগতি নয়, যে চার মাপকাঠিতে বিচার করে বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক (জিএইচআই) করা হয়, এর সবগুলোতেই গতবারের তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়েছে।

অপুষ্টি, পাঁচ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে উচ্চতার তুলনায় কম ওজনের শিশু, পাঁচ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কম উচ্চতার শিশু এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার- এ চারটি মাপকাঠিতে প্রতিটি দেশের পরিস্থিতি বিচার করে তৈরি হয় জিএইচআই। প্রতিটি দেশের স্কোর হিসাব করা হয়েছে ১০০ পয়েন্টের ভিত্তিতে। সূচকে সবচেয়ে ভালো স্কোর হলো শূন্য। স্কোর বাড়লে বুঝতে হবে, ক্ষুধার রাজ্যে সেই দেশের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। আর স্কোর কমা মানে সে দেশের খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আইএফপিআরআই বলছে, গত এক বছরে বাংলাদেশ স্কোরের দিক দিয়েও অনেকটা উন্নতি করতে পেরেছে। মোট স্কোর গতবারের ২৫.৮ থেকে কমে হয়েছে ২০.৪। আর এর ফলেই সার্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এক লাফে ১৩ ধাপ এগিয়ে এসেছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার নির্ধারিত সংজ্ঞা অনুযায়ী, একটি শিশুর প্রতিদিনের গ্রহণ করা খাদ্যের পুষ্টিমান গড়ে ১৮০০ কিলোক্যালরির কম হলে বিষয়টিকে ক্ষুধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ক্ষুধা সূচক বলছে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১৩ শতাংশ অপুষ্টির শিকার; পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৯ দশমিক ৮ শতাংশের উচ্চতার তুলনায় ওজন কম; ওই বয়সী শিশুদের ২৮ শতাংশ শিশুর উচ্চতা বয়সের অনুপাতে কম এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার ৩ শতাংশ। গত বছর এই চার ক্ষেত্রে হার ছিল যথাক্রমে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ, ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ, ৩৬ দশমিক ২ শতাংশ এবং ৩ দশমিক ২ শতাংশ।

এই সূচকে প্রতিবেশি দেশ ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে গত কয়েক বছর ধরেই। তবে নেপাল ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে পিছিয়ে আছে এখনও। গতবারের মতো এবারও ক্ষুধার সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে শ্রীলঙ্কা। আর সাত দেশের মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান। মিয়ানমার ছাড়া সূচকে আসা এ অঞ্চলের সব দেশেরই অবস্থার উন্নতি হয়েছে। ভারত তালিকায় আছে ৯৪ নম্বরে। দেশটিকে ‘মারাত্মক’ অবস্থার কাতারে ফেলেছে আইএফপিআরআই।

সংস্থাটির মতে, ক্ষুধামুক্তির লড়াইয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো গত এক বছরে বেশ খানিকটা উন্নতি দেখাতে পারলেও সাত দেশই রয়েছে সূচকের সেই ৪০ দেশের কাতারে, যেখানে ক্ষুধা এখনও ‘মারাত্মক’ একটি সমস্যা। তবে সরকারি যে তথ্যের ওপর ভিত্তি তরে ২০২০ সালের এ সূচক তেরি করা হয়েছে, তাতে চলমান করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাব আসে নি।

এ বিষয়ক : প্রধানমন্ত্রী : দেশে আর কেউ না খেয়ে থাকবে না

Facebook Comments Box
Contact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share