একদিনের জন্য স্থগিত ইন্টারনেট ও ডিশ বন্ধের ধর্মঘট

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ইন্টারনেট ও ডিশ বন্ধের ধর্মঘট আপাতত একদিনের জন্য স্থগিত করেছে আইএসপিএবি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) ও কোয়াব (কেবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ)।

এর আগে ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত করতে ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক।

পরে সন্ধ্যায় ইন্টারনেট ও কেবল টিভি সেবাদাতাদের সঙ্গে জুম মিটিং করেন টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও জুনাইদ পলক।

রোববার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে প্রতিদিন তিন ঘণ্টা ইন্টারনেট ও কেবল টিভি (ডিশ) সংযোগ বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত নেয় আইএসপিএবি ও কোয়াব।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ‘বিনা বিচারে’ তার কাটায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা গেছে- বিষয়টি নিয়ে রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে দক্ষিণ সিটির মেয়র ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে নগরভবনে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে আইএসপিএবি ও কোয়াব।

টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সঙ্গে শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ইন্টারনেট ও কেবল টিভি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আইএসপিএবি ও কোয়াবের নেতারা জুম মিটিং করে করেন।

আইএসপিএবির উদ্যোগে আয়োজিত ওই সভায় মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ছাড়াও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব আফজাল হোসেনসহ দুই সংগঠনের নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন- দক্ষিণের মেয়র কোনও না কোনোভাবে ভুল ধারণা নিয়ে বসে রয়েছেন। তবে এলজিআরডি মন্ত্রী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে লিখিত চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন এই সময়ে তার আর না কাটতে।

মন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেট ছাড়া এক মুহূর্ত চলার মতো সুযোগ নেই। এতে আপনাদের বাধ্য করা হলে বিষয়টা সুখকর হবে না। এই সমস্যার সমাধানের জন্য সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন।

আইএসপিএবি ও কোয়াবের নেতাদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী আরও বলেন- বিকল্প কোনও ব্যবস্থা না করে তার কাটার সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এ বিষয়ে একাধিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা ইতিবাচক রয়েছেন। মুখ্য সচিব আপনাদের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানাবেন।

‘আর কোনও তার কাটা হবে না। আপনাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। আমাদের সুযোগ দেন, আপনাদের সমস্যার সমাধান করা হবে।’

গত ৫ আগস্ট থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) রাস্তার ওপরে ঝুলে থাকা তার অপসারণে অভিযান পরিচালনা করছে।

বিজ্ঞাপন

সংস্থাটির ভাষ্য- করপোরেশন এলাকায় ব্যবসা করতে হলে তাদের লিখিত অনুমতি নিতে হবে। উত্তর সিটিতে চিত্র ভিন্ন। উত্তরের মেয়র সেবাদাতাদের সঙ্গে আলোচনা করে একেকটি এলাকা বা সড়ক নির্ধারণ করে পর্যায়ক্রমে সেখানকার ঝুলন্ত তার অপসারণ করছেন।

দক্ষিণ সিটির এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১২ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন আইএসপিএবি ও কোয়াব নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- মাটির নিচ দিয়ে কেবল নেওয়ার স্থায়ী ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত কোনও ঝুলন্ত কেবল অপসারণ করা যাবে না।

সম্মেলনেই ১৮ তারিখ (রোববার) থেকে তিন ঘণ্টা করে সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন তাঁরা।

জুম মিটিংয়ে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক বলেন- আপনারা আপনাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসেন। আমাদের এক সপ্তাহ সময় দেন। এই সমস্যার যৌক্তিক সমাধান করা হবে।

টেলিযোগাযোগ সচিব আফজাল হোসেন বলেন, দক্ষিণ সিটির মেয়র দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি এই আলোচনায় উপস্থিত থাকলে আলোচনায় আরও অগ্রগতি হতো। তবে আপাতত আর তার কাটা হবে না।

জীবন চলমান রাখতে সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আইএসপিএবি ও কোয়াবের নেতাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ইন্টারনেট ও কেবল সংযোগ স্বাভাবিকভাবে চালু রাখতে অনুরোধ করা হয়।

কোয়াব সভাপতি আনোয়ার পারভেজ বলেন- কাউকে কষ্ট দিতে কিংবা হয়রানি করতে চাই নি। করোনা পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে সেবা চালু রাখা হয়েছে। মন্ত্রী যেহেতু আমাদের আশ্বস্ত করেছেন পরের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কালকের জন্য (রোববার) কর্মসূচি স্থগিত করা হলো।

আইএসপিএবির সভাপতি এম এ হাকিম বলেন- মন্ত্রীর আহ্বানে একাত্মতা ঘোষণা করে ধর্মঘট স্থগিত করছি। আগামীকাল (রোববার) সকালে মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করে পরের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে।

সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত শুধু রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন ও দেশের আরও ১২টি সিটি করপোরেশনে যাতে কোনও তার না কাটা হয়, এই অনুরোধ করেন তিনি।

দুই সংগঠনের পক্ষে আইএসপিএবির সভাপতি ঝুলন্ত তারের সমস্যার স্থায়ী সমস্যা সমাধানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিটিসিএল, আইএসপিএবি ও কোয়াবের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি গঠনেরও আহ্বান জানান।

এ বিষয়ক : ১৮ অক্টোবর থেকে ৩ ঘণ্টা করে ডিশ-ইন্টারনেট বন্ধের হুমকি

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.