আগস্ট ৩, ২০২১

The Bangla Kagoj

আপনার কাগজ । banglakagoj.net

ফুলে ফুলে ভরে গেছে ‘পল্লা’ ক্ষেত

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা) : মাচায় মাচায় ভরে গেছে পল্লা (ধুন্দুল) ফুল হলুদে হলুদে।

মাচার ওপর ফুটে আছে হলুদ ফুল এর নিচে ঝুলছে সবুজ পল্লা। ফুলে ফুলে ভোরে গেছে পল্লা ক্ষেত। মন ভোলানো চোঁখ জোড়ানো হলুদ ফুলের সমারোহ দেখে বিমুগ্ধ হচ্ছে পথিক।

পাইকগাছায় মাচায় পল্লার চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাজারে ভাল দাম পাওয়ায় পল্লা বিক্রি করে আর্ধিকভাবে লাভবান হচ্ছে চাষীরা।

পল্লা বা ধুন্দুল সবজি হিসেবে বেশ। এ অঞ্চলে এ সবজিটি পল্লা নামে সমাধিক পরিচিত। আমাদের দেশে দুই ধরনের পল্লা পাওয়া যায়। একটি আমরা যেটা খাই। এর শাঁস তিতা নয়, সুস্বাদু ও নরম। অন্যটি বন্য পল্লা যাকে তিত পল্লা বলা হয়। এর ফল শুকিয়ে স্পঞ্জের মত গায়ে শাবান মাখার খোশা তৈরি করা হয়।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে- পাইকগাছায় প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে পল্লার আবাদ হয়েছে।

বাড়ির আঙ্গিনায়, জমির আইলে ও মাচায় পল্লা চাষ করা হচ্ছে। উচু ও পানি জমেনা এমন জমিতে পল্লার চাষ ভালো হয়। দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ জমি ধুন্দুল চাষের জন্য উত্তম।

জমি চাষ ও মই দিয়ে আগাছামুক্ত ও ঝরঝরে করে নিতে হয়। এরপর মাদা তৈরি করতে হয়।

এক মাদা থেকে অপর মাদা ৮ থেকে ১০ ফুটের দূরত্ব হবে। মাটি থেকে মাদা ২ থেকে ৩ ফুট উচু করে তৈরি করতে হয়।

বিজ্ঞাপন

শতক প্রতি ১০ থেকে ১২ গ্রাম বীজ আর বিঘা প্রতি ৩৩০ থেকে ৩৪০ গ্রাম বীজ লাগে। বীজ বপণের আগে ভিজে রাখলে ভাল হয়। বীজ বপণের ৪০ থেকে ৪৫ দিন পর থেকে ফল সংগ্রহ করা যায়। উন্নত জাতের বীজ, রোগমুক্ত, আধুনিক চাষ পদ্ধতি ও সঠিক নিয়মানুযায়ী চাষ করলে শতক প্রতি ১২০ থেকে ১৪০ কেজি ফলন পাওয়া যায়।

পল্লা শরৎকাল পর্যন্ত সংগ্রহ করা যায়। বোটা কেটে ফল সংগ্রহ করতে হয়। খাওয়ার জন্য কচি ও সবুজ রঙের পল্লা তুলতে হয়। খোঁশা শক্ত হয়ে গেছে সেটি আর খুওয়ার উপযুক্ত থাকে না।

পাইকগাছা উপজেলার সলুয়া মৌজায় মেইন সড়কের পশ্চিম পাশে কৃষক আনন্দ দাশ এক বিঘা জমিতে মাচায় পল্লার আবাদ করেছেন।

রাস্তার পূর্ব পাশে লিয়াকত আলী গাজী দুটি অংশে করেছেন ১৫ কাটা জমিতে।

লিয়াকত গাজী বাংলা কাগজকে বলেন, ‘কয়েকবার ভারি বর্ষণে পল্লা ক্ষেতে পানি জমে যাওয়ায় গাছের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে তারপরও ফলন ভালো হয়েছে। কাটা প্রতি মাচা তৈরির সরঞ্জামসহ ১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি একদিন পরপর পল্লার ফল তুলে বিক্রি করছি।’

‘প্রথম দিকে ১ মণ ৮শ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৬শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।’

জানা গেছে- বাজারে পল্লার চাহিদা থাকায় কৃষকেরা পল্লা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

তাঁদের পল্লার চাষ দেখে পাশের কৃষকেরা পল্লা চাষে আগ্রহী হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম জানান- পল্লা একটি লাভজনক সবজি। মাচায় পল্লার চাষ করলে বৃষ্টির সময় গাছের ক্ষতি হয় না এবং ফলও পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে।

‘অল্প পরিশ্রমে পল্লা চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকেরা আর্থিকভাবে সাবলম্বী হচ্ছেন। আগামী মৌসুমে আরও অধিক জমিতে পল্লা চাষে কৃষকেরা আগ্রহী হচ্ছেন বলেেই জানান তিনি।’

আরও পড়ুন : আমাদের মা-আমাদের বোন ও আমাদেরই কন্যা শেখ হাসিনা

Facebook Comments Box
Call Now ButtonContact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share