নূরের বিরুদ্ধে এবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা : পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের বিরুদ্ধে এবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ৭ দিন ধরে (৮ অক্টোবর- বৃহস্পতিবার থেকে ১৪ অক্টোবর- বুধবার) ধর্ষণের বিচার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া ওই শিক্ষার্থীকে ‘দুশ্চরিত্রা’ বলায় ওই মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর ওই মামলা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পিবিআইকে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)।

এদিকে নুরুল হকের রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘নিজস্ব গুজবকারী চক্র’। এ ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন এক গণমাধ্যমকর্মী।

মামলা : ধর্ষণের বিচার চাওয়া ওই ছাত্রী বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জগলুল হোসেনের আদালতে ওই মামলা দায়ের করেন।

এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে ফেসবুক লাইভে এসে নূর বলেছিলেন- ‘ভিক্টিমের পরিচয় তো ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। ঢাবির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের না কি ছাত্রী…।’

‘আমরা ধিক্কার জানাই যে, এতো নাটক করছে, যেই দুশ্চরিত্রাহীন। যে ধর্ষণের নাটক করছে। স্বেচ্ছায় একজন ছেলের সাথে বিছানায় গিয়ে, লঞ্চে হাসিখুশিভাবে।’

এদিকে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় ঢাবির ওই ছাত্রীর নামে আপত্তিকর মন্তব্য করার পরদিন (মঙ্গলবার- ১৩ অক্টোবর) দিনের বেলায় মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী ও সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা সংহতি সমাবেশে ‘নূরকে ধর্ষণের পক্ষ অবলম্বনকারী’ হিসেবে আখ্যা দেন।

এর আগে ধর্ষণের ঘটনায় আন্দোলনকারী ওই ছাত্রীর মামলায় ইতোমধ্যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরা হলেন- বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম ও সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি মো. নাজমুল হুদা।

পাশাপাশি ঢাকার মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভুইয়া সোমবার (১২ অক্টোবর) তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ওই ছাত্রী গত ২৩ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ করে ধর্ষণ ও সামাজিক যোগাযোগে মাধ্যমে চরিত্র হননের অভিযোগ এনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কোতোয়ালি থানায় এই মামলা করেন। একই ঘটনায় দু’দিন আগে লালবাগ থানায় একটি মামলা করেছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মামলায় ৪ নম্বর আসামি সাইফুল এবং ৫ নম্বর আসামি নাজমুল। ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরকে মামলা দুটোর আসামি করা হয়েছে।

ওই ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন নূরের অপর দুই সহকর্মী ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন সোহাগের বিরুদ্ধে।

বাকিদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ওই ছাত্রীর চরিত্র হননের অভিযোগ আনা হয়।

নূরের আছে গুজবকারী চক্র! : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের রয়েছে গুজব ছড়ানোর চক্র। যার প্রমাণ মেলেছে গণমাধ্যমে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে একাত্তর টিভি।

যাতে বলা হয়েছে- নূরকে একাত্তর টেলিভিশনের টক শোতে অংশগ্রহণ করার জন্য কল করেন টিভিটির এক সাংবাদিক। তখন নূরের পক্ষ থেকে টকশোতে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়।

কিন্তু ঘটনা এখানেই শেষ নয়। নূর তখন ওই সংবাদকর্মীর নম্বর দিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসের পরপরই একাত্তর টিভির ওই সাংবাদিককে ফোন ও খুদে বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে হয়রানি করা হয়। তাকে দেওয়া হয় গালাগাল। তবে নূর তার ফেসবুকের স্ট্যাটাস মুছে ফেললেও এখনও ওই সাংবাদিককে ফোন করে ও খুদে বার্তা পাঠিয়ে গালাগাল দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ক : আসামি নূর এবার ওই ছাত্রীকে লাইভে এসে বললেন ‘দুশ্চরিত্রা’

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.