জুলাই ২৪, ২০২১

The Bangla Kagoj

আপনার কাগজ । banglakagoj.net

সিলেটে যুবকের মৃত্যু : এসআই আকবর লাপাত্তা!

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; সিলেট : সিলেট নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে যুবক রায়হান আহমদের (৩৪) মৃত্যুর ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ আকবর হোসেন ভূঁইয়ার খোঁজ মিলছে না। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও বক্তব্য দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ঘটনায় দোষীদের শাস্তি দাবিতে সিলেটে সাধারণ মানুষ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাস্তায় নেমে আসে। পাশাপাশি অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে।

এদিকে ওই ঘটনায় দায়ের মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলাটি পিবিআই’র কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জ্যোতির্ময় সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলা কাগজকে বলেন- নিহত রায়হান আহমদের স্ত্রী কোতোয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করেছিলেন। এখন পিবিআই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে।

অন্যদিকে এসআই আকবর লাপাত্তা রয়েছেন বলে পুলিশের একটি সূত্র জানায়। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ।

তবে এসআই আকবর লাপাত্তা কি-না সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও বক্তব্য দেন নি পুলিশ কর্মকর্তারা।

এ ব্যাপারে এসএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জ্যোতির্ময় সরকার বলেন- ‘তিনি লাপাত্তা কিনা, সেটা আমার জানা নেই।’

পুলিশ সূত্র জানায়, এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার ভগাইর গ্রামের জাফর আলী ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি প্রায় এক বছর আগে সিলেট বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পান।

গেল শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে নগরীর আখালিয়া নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে রায়হান আহমদকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে নেয় পুলিশ। এরপর টাকার জন্য তার ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়। তার হাতের নখ উপড়ে ফেলা হয় এবং হাত-পায়ে আঘাতের অসংখ্য চিহ্ন পাওয়া যায়। রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রায়হান মারা যান।

বিজ্ঞাপন

রায়হান সিলেট নগরীর রিকাবীবাজারে একজন চিকিৎসকের চেম্বারে সহকারির চাকরি করতেন। তিনি বিবাহিত এবং মাত্র ৩ মাস বয়সি তাঁর একটি মেয়ে রয়েছে। রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদি হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনার পরপরই এসএমপির গঠিত তদন্ত কমিটি যুবক রায়হানকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে নির্যাতনের প্রমাণ পায়। এএসআই আশেক এলাহী তাকে ধরে ফাঁড়িতে নিয়েছিলেন। পরে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরের নেতৃত্বে নির্যাতন চালানো হয়।

এ সময় কনস্টেবল তৌহিদের মোবাইল ফোন থেকে বাসায় ফোন করেন রায়হান। রায়হান তাকে বাঁচাতে দ্রুত ১০ হাজার টাকা নিয়ে ফাঁড়িতে যেতে বলেন তার চাচা হাবিবুল্লাহকে।

এ ঘটনায় ফাঁড়ির ইনচার্জ আকবর, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেনকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রধান এসএমপির উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ জানান, তদন্তের আলোকে তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ক : পুলিশের দাবি করা গণপিটুনির চিত্র মেলে নি সিসি ক্যামেরায়

Facebook Comments Box

Call Now ButtonContact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share