আগস্ট ১, ২০২১

The Bangla Kagoj

আপনার কাগজ । banglakagoj.net

ধর্ষণের অভিযোগকারী ঢাবির শিক্ষার্থী অনশনে অসুস্থ, ১১ বার বমি

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় : ধর্ষণ মামলার পর সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হাসান আল মামুন ও যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অপরাধের উস্কানিতে অভিযোগকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই শিক্ষার্থী অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি ইতোমধ্যে ১১ বার বমি করেছেন।

টানা ২৭ ঘণ্টা অনশনের পর শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ায় তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনকারী ওই শিক্ষার্থী মামুনের মতোই ইসলামি স্টাডিজ বিভাগে পড়ছেন।

ধর্ষণে সহযোগিতা করায় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরসহ বাকি তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ডা. শেখ আল আমিনের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক টিম রাতে ওই ছাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের সাবেক এজিএস ফাল্গুনী দাস তন্বী।

তিনি বাংলা কাগজকে বলেন- ‘আমরা তাঁকে খাবার গ্রহণের জন্য অনেক অনুরোধ করেছি। কিন্তু তিনি আসামিদের না ধরা পর্যন্ত আমরণ অনশনে করতে সংকল্পবদ্ধ। টানা ২৭ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার ফলে রাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে চিকিৎসক টিম এসে তাঁকে স্যালাইন দিয়েছে।’

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে ওই ছাত্রীর পাশে সংহতি জানিয়ে অবস্থানরত সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক জেসমিন আক্তার রিপা বাংলা কাগজকে বলেন- একটানা না খাওয়ার কারণে রাতে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তার অবস্থার খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তিনি ১১ বার বমি করেছেন। আমরা আপাতত স্যালাইন চালিয়ে নিচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বাংলা কাগজকে বলেন- আমাদের প্রক্টরিয়াল টিম ওই ছাত্রীর সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজ করছেন। রাতে আমাদের সহকারী প্রক্টর তাঁকে দেখে এসেছেন। ওই শিক্ষার্থীর পাশে আমরা আছি। তাঁর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যা যা করা দরকার, তা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

গত ২১ ও ২৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর লালবাগ ও কোতোয়ালি থানায় ধর্ষণ, অপহরণ ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে চরিত্রহননের অভিযোগে মামুন, নূর এবং তাদের চার সহযোগির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুটি মামলা করেন ওই ছাত্রী।

প্রথম মামলায় প্রধান আসামি করা হয় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ মামুনকে।

এই অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করলেও মামলার পর ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় মামুনকে।

মামলার অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। নূর ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা ও কর্মী আবদুল্লাহ হিল বাকি।

ধর্ষণের মামলা দায়েরের দুই সপ্তাহ পরেও আসামিদের কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে অনশনে বসেন ওই ছাত্রী।

অনশনে বসে তিনি বলেছিলেন, ধর্ষকরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। মামলা তদন্তের স্বার্থে আমি একাধিকবার থানায় যোগাযোগ করেছি। তারা বলেছেন, আসামি ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু কোনও এক অদৃশ্য শক্তির বলে আসামিরা গ্রেপ্তার হচ্ছে না।

মামলার এজহারে ওই ছাত্রীর ভাষ্য- একই বিভাগে পড়া এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের কাজে থাকার কারণে হাসান আল মামুনের সঙ্গে তার ‘প্রেমের সম্পর্ক’ গড়ে ওঠে। এর সুযোগ নিয়ে মামুন চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি তার লালবাগের বাসায় নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন।

পরে সোহাগও তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।

এজাহারে বলা হয়েছে- এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ওই তরুণী নূরের সঙ্গে দেখা করেন। নূর তাঁকে প্রথমে ‘মীমাংসা’ করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে ‘বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করে অপপ্রচার চালিয়ে সম্মানহানি করার’ হুমকি দেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হয়।

এ বিষয়ক : নূরদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ধর্ষিতার অবস্থান দ্বিতীয় দিনে, একাত্ম শিক্ষার্থীরা

ধর্ষণ মামলায় নূরদের গ্রেপ্তার দাবিতে ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

সাবেক ভিপি নূরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

Facebook Comments Box
Call Now ButtonContact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share