ড. হাছান : সম্প্রচার আইন হলে গণমাধ্যমকর্মীরা সুরক্ষা পাবেন

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; চট্টগ্রাম : গণমাধ্যমকর্মী আইন এবং সম্প্রচার আইন হলে গণমাধ্যমকর্মীদের বেতন কাঠামো থেকে শুরু করে সবকিছু সুরক্ষিত হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বাংলাদেশ বেতার আয়োজিত বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি ২০২০-২১ বিষয়ক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

তবে আইন পাস করা যেহেতু কোনও মন্ত্রণালয়ের একক বিষয় নয়, তাই এটি নিয়ে সুনির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়াও সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন- ‘আইন পাসের সঙ্গে মন্ত্রিসভা, আইন মন্ত্রণালয়, সংসদ ও সংসদীয় কমিটি যুক্ত। যেহেতু তথ্য মন্ত্রণালয়ের একক দায়িত্বে এটি করা সম্ভব নয়, সুতরাং এটি নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও সময় বেঁধে দেওয়াও সম্ভব নয়। তবে এটি সহসা করার চেষ্টা করছি।’

বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক হোসনে আরা তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ ও বাংলাদেশ বেতারের চট্টগ্রাম কেন্দ্রের পরিচালক এস এম আবুল হোসেন।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- বিএনপি নেতারা যখন কথা বলেন, তখন ভুলে যান-তারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন; তখন কি করেছেন। ফখরুল সাহেবরা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, দলগতভাবে বিভিন্ন অপকর্ম করতেন। নৌকায় ভোট দেওয়ার অপরাধে আট বছরের শিশু থেকে শুরু করে অন্তঃসত্ত্বা মহিলা এবং ষাট বছর বয়স্কা মহিলাও বাদ যায় নি বিএনপি কর্মীদের লেলিয়ে দেওয়া বাহিনীর হাত থেকে।’

‘নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে উন্নতি হয়েছে, সেটিকে পৃথিবীর সামনে বড় উদাহরণ’ মন্তব্য করেন তিনি বলেন- আজকে যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেগুলো পূর্বে ঘটে নি তা নয়। আগেও ঘটতো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপকতা ছিল না বিধায় সেগুলো মানুষ জানতে পারতো না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে কোনও ঘটনাই আর ঢাকা থাকছে না। এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি ভালো দিক। সরকার অতীতে ধর্ষণের ঘটনার বিচার করে শাস্তি দিয়েছে। এখনও যেগুলো ঘটছে, সেগুলো বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর এবং এজন্য যা যা করার সবই করছে।

অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা যুদ্ধে বেতারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ড. হাছান মাহ্‌মুদ বলেন-যতোদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততোদিন স্বাধীন বাংলা বেতারের কথা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

বিজ্ঞাপন

‘আমাদের কৃষ্টি সংস্কৃতিকে লালন করার ক্ষেত্রে বেতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুর্যোগ-দূর্বিপাকে বেতারই মানুষের কাছে খবর পৌঁছায়। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্মার্টফোনের ব্যাপকতা বেড়েছে, এখন একটি রেডিও বহন করা সম্ভবপর নয়। তাই রেডিওকে অ্যাপসের মাধ্যমে টেলিফোনে আনার উদ্যোগ নিয়েছি। এখন অ্যাপসের মাধ্যমে বিভাগীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ বেতার মোবাইলেও শোনা যায়।’

বেতারের ঢাকা কেন্দ্রের মতো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে আপলিঙ্ক করে সেটি আবার বিভিন্ন বেতার কেন্দ্রে ডাউনলিঙ্ক করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠানও সারাদেশে শোনানোর ব্যবস্থা করা হবে- জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ আরও বলেন- চট্টগ্রাম বেতার ১শ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন হলেও আশপাশে পাহাড়সহ নানাকারণে ফেনীতেও চট্টগ্রাম বেতারের অনুষ্ঠান শোনা যায় না।

‘১শ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন খুলনা কেন্দ্রের অনুষ্ঠান প্রতিবন্ধকতা থাকায় এখানে (চট্টগ্রামে) শোনা যায়। গুরুত্ব বিবেচনায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিসহ নানা সংবাদ ও কৃষ্টি সংস্কৃতির চাহিদা রয়েছে সারাদেশে।’

‘তাই আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, ঢাকা কেন্দ্রের মতো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে আপলিঙ্ক করে, সেটি আবার বিভিন্ন বেতার কেন্দ্রে ডাউনলিঙ্ক করে সারাদেশে শোনানো হবে।’

‘চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠানও খুব সহসা সেভাবে উদ্বোধন হবে। এটি চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের ইতিহাসে বিরাট মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

এ বিষয়ক : তথ্যমন্ত্রী : আন্দোলনের আড়ালে ছিল স্বার্থ চরিতার্থের অপচেষ্টা

তথ্যমন্ত্রী : বিএনপি নারী নির্যাতনকে রাজনীতিকীকরণের অপচেষ্টা করছে

তথ্যমন্ত্রী : নারী নির্যাতনকারী যেই হোক, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.