কিশোরগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে মায়ের সামনে মেয়ে নিহত

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে পা পিছলে ট্রেনে কাটা পড়েন মেয়ে। মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেন থেকে লাফ দিয়েছিলেন মা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেয়ের জীবন বাঁচাতে পারেন নি তিনি। ট্রেনে কাটা পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে মারা যান মেয়ে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যাওয়া মেয়েটির নাম আনতারা মোকাররমা (১৮)। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের ৩২ নুরানি সড়ক এলাকার মোকাম্মেল হকের মেয়ে। আনতারার এবার কিশোরগঞ্জের সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। এলাকায় তিনি সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে- শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে আনতারা ও তাঁর মা আছমা বেগম ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনে আন্তনগর এগারসিন্দুর প্রভাতী ট্রেনে উঠতে যান। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এ সময় চলতি ট্রেনে দৌড়ে প্রথমে আনতারার মা আছমা বেগম ওঠেন। এরপর মায়ের হাতে ব্যাগ দিয়ে চলন্ত ট্রেনে ওঠার সময় পা পিছলে ট্রেনের নিচে পড়ে যান আনতারা। এতে তাঁর দুই পা কাটা পড়ে এবং শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। চোখের সামনে মেয়েকে ট্রেনের নিচে পড়ে যেতে দেখে আছমা বেগমও ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে কম্পার্টমেন্টে পড়ে সামান্য আহত হয়েছেন। এ দৃশ্য দেখে রেলস্টেশনে উপস্থিত লোকজন হতবাক হয়ে যান।

বিজ্ঞাপন

কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার আতাউল করিম জানান- মেয়েকে ট্রেনের নিচে পড়া দেখে তাঁর মা আছমা বেগম যেভাবে ট্রেন থেকে লাফ দেন, এটা ঠিক হয় নি। এতে তিনিও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারতেন। অবশ্য তাঁর তেমন কিছু হয় নি। পরিবারের অনুরোধে ঘণ্টা দুয়েক পর আনতারার লাশ তাঁর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ক : রাজাপুরের আঞ্চলিক মহাসড়কে গর্ত, দুর্ঘটনার শঙ্কা

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.