রিমান্ডের আগেরদিন হাসপাতালে, ১১ মাস পর সম্রাট কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : গেল বছরের ১৭ নভেম্বর ঢাকার জজ আদালত দুদকের মামলায় সম্রাটকে ছয় দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। সে অনুযায়ী ২৪ নভেম্বর থেকে তাকে হেফাজতে পাওয়ার কথা ছিল দুদকের।

কিন্তু তার আগের দিন ‘বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট’ নিয়ে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন সম্রাট। পরে তাকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল নিয়ে আসা হয়।

পরে আদালত রিমান্ড মঞ্জুরের নয় মাস পর ওই হাসপাতালে গিয়েই দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা গত ২৫ অগাস্ট সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এমন অবস্থায় ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ১১ মাস পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন, ফিরেছেন কারাগারে।

জানতে চাইলে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার সুভাষ কুমার দাশ বাংলা কাগজকে বলেন- সম্রাটকে বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এরপর তাকে আমাদের এখানে নিয়ে আসা হয়। তবে তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় কারাগারের হাসপাতালেই তাকে রাখা হয়েছে।

সুভাষ বলেন- অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত বছরের ২৪ নভেম্বর কাশিমপুর কারাগারের ‘হাই সিকিউরিটি সেল’ থেকে সম্রাটকে প্রথমে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে স্থানান্তর করা হয় ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। তখন থেকে তিনি সেখানেই ছিলেন।

ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি। গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

এরপর ৭ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সেদিন বিকালে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূইয়া ট্রেড সেন্টারে তার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অভিযান শেষে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ১ হাজার ১৬০ পিস ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং ‘নির্যাতন করার’ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাওয়ার কথা জানানো হয় র‌্যাবের পক্ষ থেকে।

ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ার কারণে সম্রাটকে তাৎক্ষণিকভাবে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইনে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ঢাকার রমনা থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অস্ত্র আইনে আরও দুটি মামলা করা হয় তার বিরুদ্ধে।

কারাগারে নেওয়ার দু’দিন পর বুকে ব্যথা অনুভব করলে সম্রাটকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে চারদিন চিকিৎসা দিয়ে ১২ অক্টোবর আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয় সম্রাটকে।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক আফজালুর রহমান সে সময় জানিয়েছিলেন- ১৯৯৮ সালে সম্রাটের হৃদপিণ্ডের একটি ভাল্ভ ‘রিপ্লেস’ করা হয়েছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নতুন কোনও সমস্যা ধরা পড়ে নি।

রমনা থানার অস্ত্র মামলায় গত ৬ নভেম্বর সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরপর ১২ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা করে দুদক।

ক্যাসিনো চালানোর পাশাপাশি ‘চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মত অপকর্মের’ মাধ্যমে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয় ওই মামলায়।

আরও খবর : জঙ্গিদের খুঁজছে পুলিশ

বাংলাদেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ ভারতে!

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.