আগস্ট ১, ২০২১

The Bangla Kagoj

আপনার কাগজ । banglakagoj.net

রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার রায় বুধবার : মিন্নিসহ সব আসামির মৃত্যুদণ্ড দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন রিফাতের বাবা-মা। অন্যদিকে মিন্নি বেকসুর খালাশ পাবেন বলে আশা করছে তার পরিবার ও আইনজীবী।

রিফাত হত্যা মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিচারের রায় হবে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর)। বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

১৫ মাস আগে বাংলাদেশকে স্তম্ভিত করে দেওয়া সেই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ যে ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছিল, তাঁদের মধ্যে ১০ জনের বিচার চলে জজ আদালতে। বাকি ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিচার চলছে বরগুনার শিশু আদালতে আলাদাভাবে।

এ মামলার ১ নম্বর আসামি রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী (২৩) বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে। আর নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নি (১৯) অভিযোগপত্রের ৭ নম্বর আসামি, যার নাম এ মামলার এজাহারে ছিল এক নম্বর সাক্ষী হিসেবে।

প্রাপ্তবয়স্ক বাকি আট আসামি হলেন- আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২), হাসান (১৯), মুসা (২২), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), সাগর (১৯) ও কামরুল হাসান সায়মুন (২১)।

এদের মধ্যে মুসা পলাতক, মিন্নি আছেন জামিনে। বাকিরা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

মামলার বাদি রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বলেন- মিন্নিসহ সব আসামির শাস্তি চাই আমরা। দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর আমাদের আস্থা আছে। আদালত রিফাতের খুনের সঙ্গে জড়িতদের এমন শাস্তি দিক যাতে আমরা স্বস্তি পাই। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে না—এটাই প্রমাণ হোক। রাষ্ট্র বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে দেশবাসীকে জানিয়ে দিক, অপরাধ করে কেউ বাঁচতে পারে না।

সব আসামির ফাঁসি চেয়েছেন রিফাতের মা ডেইজি আক্তারও।

তিনি বলেন, আমি সব আসামির ফাঁসি চাই। এমন জঘন্য হত্যাকাণ্ড যেন আর না হয়। আমার মতো আর কোনও মায়ের বুক যেন খালি না হয়।

রিফাতরা দুই ভাইবোন ছিলেন। ভাইকে হারিয়ে শোকাহত বোন ইসরাত জাহান মৌ।

তিনি বলেন, আমরা দুই ভাই-বোন। ভাই ছিল কলিজার টুকরা। ভাই ছিল আমার সাহস ও ভরসা। ভাইকে হারিয়ে আজ আমরা নিঃস্ব। ভাইকে তো আর ফিরে পাব না। মিন্নিসহ সব খুনির দৃষ্টান্তমূলক সাজা হলে কিছুটা শান্তি পাব। ভাইয়ার আত্মাও শান্তি পাবে। ভাইয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

গত এক বছর ঠিকমত ঘুমাতে পারেন না বলে জানান রিফাতের বন্ধু মঞ্জুরুল আলম জন।

তিনি বলেন, চোখ বন্ধ করলেই ভেসে ওঠে রিফাতের মুখ। রিফাতকে নিয়ে আমি বরিশাল পর্যন্ত গেছি। নিস্তেজ শরীরে আমি রিফাতের বেঁচে থাকার আকুতি দেখেছি। কিন্তু বাঁচাতে পারলাম না। সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

বরগুনার নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি আইনজীবী আনিসুর রহমান আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন।

অন্যদিকে নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নিকে নির্দোষ দাবি করছে তার বাবা-মা। মিন্নি অভিযোগপত্রের ৭ নম্বর আসামি, যার নাম এ মামলার এজাহারে ছিল এক নম্বর সাক্ষী হিসেবে। পরে পুলিশের তদন্তের পর তাকে আসামি করা হয়।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, আমরা আসলেই হয়রানির শিকার। জীবন বাজি রেখে মিন্নি তার স্বামীকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। অথচ মিন্নি প্রধান সাক্ষী থেকে এখন আসামির কাঠগড়ায়। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। মিন্নি বেকসুর খালাস পাবে বলে আমরা আশা করি।

একই প্রত্যাশা মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলামেরও।

এ বিষয়ক : সোহাগ হত্যা : কিশোর গ্যাংয়ের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

Facebook Comments Box
Call Now ButtonContact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share