শুভ জন্মদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী : বাংলা কাগজ পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : শুভ জন্মদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মাননীয় সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ আপনার ৭৪তম জন্মদিনে বাংলা কাগজ পরিবারের পক্ষ থেকে অফুরান শুভেচ্ছা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৫ সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ শেখ হাসিনা। গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্ম। শেখ হাসিনা গ্রামবাংলার ধুলোমাটি আর সাধারণ মানুষের সঙ্গেই বেড়ে উঠেছেন। তাই গ্রামের সঙ্গেই তাঁর নিবিড় সম্পর্ক। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে তিনি ছাত্রজীবন থেকে প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এখন তিনি শুধু জাতীয় নেতাই নন, তৃতীয় বিশ্বের এক বিচক্ষণ নেতা হিসেবেও বিশ্বরাজনীতির অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্রলীগের নেত্রী হিসেবে তিনি আইয়ুববিরোধী আন্দোলন এবং ছয় দফা আন্দোলনেও সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজের ছাত্রসংসদের সহসভাপতি হন। একই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরের বছর সভাপতিও হন শেখ হাসিনা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় সদস্য ও ছাত্রলীগের রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক। ছাত্রজীবন থেকেই শেখ হাসিনা সকল গণআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়। তবে শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা ওই সময় পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় বেঁচে যান। পরে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে ৬ বছর ভারতে অবস্থান করেন। ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ডে থেকে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু করেন।

১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে অবশেষে তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন।

দেশে ফিরে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে লিপ্ত হন। এতে তিনি শাসকগোষ্ঠির রোষানলে পড়েন। তাঁকে বারবার কারান্তরীণ করা হয়। শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৯ বার চেষ্টা করা হয়েছে।

১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সামরিক সরকার তাঁকে আটক করে ১৫ দিন অন্তরীণ রাখে। ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি এবং নভেম্বর মাসে তাঁকে দু’বার গৃহবন্দি করা হয়। ১৯৮৫ সালের ২রা মার্চ তাঁকে আটক করে প্রায় ৩ মাস গৃহবন্দি করে রাখা হয়। ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে তিনি ১৫ দিন গৃহবন্দি ছিলেন। ১৯৮৭ সালে ১১ নভেম্বর তাঁকে গ্রেপ্তার করে এক মাস অন্তরীণ রাখা হয়। ১৯৮৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে গৃহবন্দি করা হয়। ১৯৯০ সালে ২৭ নভেম্বর তাঁকে আবারও বঙ্গবন্ধু ভবনে অন্তরীণ করা হয়।

১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ওই বছরের ১২ জুন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজয় বরণ করে। শেখ হাসিনা নির্বাচিত হন বিরোধীদলের নেতা। এর পাঁচ বছর পর ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতা হস্তান্তরে জটিলতা সৃষ্টি করলে সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। এরপর প্রায় ২ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ওই সরকার ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে। ওই নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন

ওই নির্বাচনের আগে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে সংসদ ভবন চত্বরে সাবজেলে পাঠায়। প্রায় এক বছর পর ২০০৮ সালের ১১ জুন তিনি মুক্তিলাভ করেন।

শেখ হাসিনা তৃতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হন ২০১৪ সালে। ওই বছরের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সে বছরের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

শেখ হাসিনা চতুর্থ দফায় প্রধানমন্ত্রী হন ২০১৮ সালে। ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। এরপর ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। বর্তমানে তিনি এ সংসদের দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে শেখ হাসিনা ৩টি সংসদীয় আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন তিনি বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ওই নির্বাচনের পরই দেশ থেকে সামরিক আইন প্রত্যাহার করে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। শেখ হাসিনা নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং এই আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয়।

১৯৯১ সালের সংসদীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনা পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন। তিনি রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দলসহ সকলকে সংগঠিত করেন।

১৯৯৬ সালে বিএনপি’র ভোটারবিহীন নির্বাচনের বিরুদ্ধে তিনি গণআন্দোলন গড়ে তোলেন। এই আন্দোলনের মুখে ৩০ মার্চ তৎকালীন খালেদা জিয়ার সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয়।

মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় শেখ হাসিনা সবসময়ই আপোসহীন। ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনায় দায়িত্ব নিয়ে তাঁর সরকার ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল স্থাপনের জন্য আইন প্রণয়ন করে। ওই আইনের আওতায় স্থাপিত ট্রাইবুনাল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করে এবং রায় কার্যকর করে।

এ বিষয়ক : আমাদের মা-আমাদের বোন ও আমাদেরই কন্যা শেখ হাসিনা

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.