‘নিহত’ কিশোরীর জীবিত ফেরার বিচারিক তদন্ত হবে

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামির ‘স্বীকারোক্তির’ পর ‘নিহত’ কিশোরীর জীবিত ফেরার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

নারায়ণগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিমকে আগামি ৪ নভেম্বরের মধ্যে তদন্ত করে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ওই কিশোরীর জীবিত ফিরে আসার প্রেক্ষাপটে করা এক রিভিশন আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্টে বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এ আদেশ দেয়।

আদালত আদেশে বলেছে- ভিকটিম, আসামি পক্ষ বা রাষ্ট্রপক্ষ চাইলে এ তদন্তে নিজেদের পক্ষে আইনজীবী রাখতে পারবেন।

আদালতে রিভিশন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

শিশির মনির পরে সাংবাদিকদের বলেন, নারায়ণগঞ্জেরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে বিষয়টি তদন্ত করতে বলেছেন হাইকোর্ট। তদন্তের সময় তিনি এ মামলার এফআইআর ও জবানবন্দি পর্যালোচনা করবেন এবং ভিকটিম, আসামি ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের বক্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করবেন।

ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর হাইকোর্ট ৫ নভেম্বর পরের আদেশ দেবেন জানিয়ে শিশির মনির বলেন- আদালত বলেছেন, আসামিরা যদি মনে করেন তদন্তে তাদের বক্তব্য দেওয়ার সময় তারা তাদের আইনজীবীকে সঙ্গে রাখবেন, তাহলে তারা সেটি পারবেন। সে সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীও সেখানে থাকতে পারবেন। আমি মনে করি এটি একটি যুগান্তকারী আদেশ। সাধারণত বক্তব্য বা জবানবন্দি নেওয়ার সময় আইনজীবীদের রাখা হয় না।

বিজ্ঞাপন

প্রসঙ্গত- গত ৪ জুলাই ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরী নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। তাঁকে না পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় জিডি ও মামলা করে তাঁর পরিবার। ওই মামলায় পুলিশ আব্দুল্লাহ, রকিব ও খলিলুর রহমান নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৯ আগস্ট তাঁরা আদালতে জবানবন্দি দেন। সেখানে তারা ‘অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার’ দায় স্বীকার করেন। ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই শামীম আল মামুন।

এদিকে ঘটনার ৫১ দিন পর ২৩ অগাস্ট ওই কিশোরী মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তাকে ফিরিয়ে এনে পুলিশ সোর্পদ করে পরিবারের লোকজন। আদালতের নির্দেশে মেয়েটি এখন পরিবারের জিম্মাতেই আছে।

ফিরে আসার পর ওই কিশোরী আদালতে বলেছে, ইকবাল নামের এক যুবককে বিয়ে করে বন্দর এলাকার এক ভাড়া বাড়িতে সংসার পেতেছিল সে।

এ বিষয়ক : ঝিনাইদহে নূপুর হত্যায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে নি পুলিশ

মুক্তিপণ না পেয়ে আশুলিয়ায় কিশোর পিটিয়ে হত্যা!

সোহাগ হত্যা : কিশোর গ্যাংয়ের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.