আগস্ট ৪, ২০২১

The Bangla Kagoj

আপনার কাগজ । banglakagoj.net

স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতিবাজদের সম্পত্তির উৎসের খোঁজ করছে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : স্বাস্থ্য খাতের অন্তত ১৫০ জনের তালিকা রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে এর (তালিকার) অর্ধেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পত্তির উৎসের খোঁজ শুরু করেছে দুদক। তবে সকল দুর্নীতিবাজেরই সম্পত্তির উৎসের খোঁজ করা হবে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

দুদকের এক উপ-পরিচালকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বিশেষ টিম স্বাস্থ্যখাতের এসব দুর্নীতির অনুসন্ধান করছেন।

১৫০ জনের তালিকা দুদকে : স্বাস্থ্য খাতের ১৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর যে তালিকা দুদকের হাতে রয়েছে, তাদের মধ্যে ৩০ জন চিকিৎসক।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ২৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথক চিঠি দিয়েছে দুদক।

চিঠিতে বলা হয়- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে বিভিন্ন কার্যালয়ে কিছু দুর্নীতিবাজ, স্বেচ্ছাচারী ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে থাকার সুবাদে দুর্নীতির সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্ষমতার অপব্যবহার করে অঢেল সম্পদের মালিকও হয়েছেন। দুদকে তাদের বিরুদ্ধে এরইমধ্যে অনেক অভিযোগ জমা হয়েছে।

দুদক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে যে ২৩ জন কর্মকর্তার বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন, তারা হলেন- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের সহকারী প্রধান (পরিসংখ্যানবিদ) মীর রায়হান আলী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফারুক হাসান, প্রধান সহকারী আশরাফুল ইসলাম, প্রধান সহকারী সাজেদুল করিম, উচ্চমান সহকারী তৈয়বুর রহমান, সাইফুল ইসলাম।

চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কার্যালয়ের প্রধান সহকারী ফয়জুর রহমান, মাহফুজুল হক ও কম্পিউটার অপারেটর আজমল খান।

সিলেটের স্বাস্থ্য অধিপ্তরের পরিচালকের কার্যালয়ের প্রধান সহকারী নুরুল হক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা গাউস আহমেদ, উচ্চমান সহকারী আমান আহমেদ, অফিস সহকারী-কাম কম্পিউটার অপারেটর নেছার আহমেদ চৌধুরী।

তালিকায় রয়েছেন- খুলনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কার্যালয়ের ব্যক্তিগত সহকারী ফরিদ হোসেন, অফিস সহকারী মো. মাসুম ও প্রধান সহকারী আনোয়ার হোসেন।

ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ও প্রধান সহকারী-কাম হিসাবরক্ষক আবদুল কুদ্দুস।

বরিশাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. রাহাত খান, উচ্চমান সহকারী জুয়েল। রংপুর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী আজিজুর রহমান, স্টেনোগ্রাফার সাইফুল ইসলাম ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম।

দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক টিমের অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির যে ১১ খাত চিহ্নিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অনুরোধ করেছে দুদক।

দুদকের প্রতিবেদনে উঠে আসা দুর্নীতির অন্যতম হচ্ছে- স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটা, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন, চিকিৎসাসেবা এবং চিকিৎসাসেবায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও ওষুধ কারসাজি। প্রতিবেদনে এসব দুর্নীতি প্রতিরোধে ২৫ দফা সুপারিশও করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে- স্বাস্থ্য মন্ত্রণায়ের চিঠির প্রেক্ষিতে ৩৪ জনের একটি তালিকা করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। তারা হলেন- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা-শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. এম এ রশিদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) অধ্যাপক ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল, গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের স্টোর অফিসার নাজিম উদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিপ্তরের আবদুল মালেক, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সচিব আনোয়ার হোসেন, সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ল্যাব সহকারী আবদুল হালিম ও ল্যাব সহকারী সুব্রত কুমার দাশ।

এছাড়া তালিকায় রয়েছে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিসাব রক্ষক ইমদাদুল হক, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক মো. আজাদ, টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজের সচিব সাইফুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিপ্তরের মো. শাহজাহান, রাজশাহী সিভিল সার্জন অফিসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসাব সহকারী আনোয়ার হোসেন, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের হিসাবরক্ষক আবদুল মজিদ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিসাবরক্ষক আবদুল্লাহেল কাফি, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মহিউদ্দিন মারুফ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্টোর ম্যানেজার হেলাল তরফদার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন চৌধুরী, জালাল উদ্দিন, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আলিমুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী প্রধান পরিসংখ্যানবিদ মীর রায়হান আলী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা (পরিচালক স্বাস্থ্য বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর) ফারুক হাসান, প্রধান সহকারী আশরাফুল ইসলাম, সাজেদুল করিম, উচ্চমান সহকারী তৈয়বুর রহমান, উচ্চমান সহকারী সাইফুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিসাবরক্ষক এ টি এম দুলাল, চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচ্চমান সহকারী মো. ফয়জুর রহমান, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহমুদুজ্জামান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিস সহকারী তোফায়েল আহমেদ, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মুজিবুল হক মুন্সী ও অফিস সহকারী কামরুল ইসলাম।

যাদের ব্যাপারে তদন্ত শুরু : জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুন্সী সাজ্জাদ হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাখালী অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (প্রশাসন-২) কবির আহমেদ চৌধুরী ও হুমায়ুন কবীর, কুয়েত মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলীমুজ্জামান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিক্যাল অ্যাডুকেশন শাখার অফিস সহকারী খাইরুল আলম।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের হিসাব রক্ষক মজিবুর রহমান, খুলনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শহীদ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার উচ্চমান সহকারী রেজাউল ইসলাম ও মহাপরিচালক দপ্তরের সহকারী প্রধান মো. জোবায়ের হোসেন।

পাশাপাশি সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান সহকারী এম কে আশেক নওয়াজ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইপিআই ভবন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর তোফায়েল আহমেদ ভূইয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার অফিস সহকারী কামরুল হাসান, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (ইপিআই) মজিবুল হক মুন্সি, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ওবাইদুর রহমান ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিসাব রক্ষক ইমদাদুল হকও রয়েছেন দুদকের অনুসন্ধানের তালিকায়।

এছাড়া র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আলোচিত গাড়িচালক আব্দুল মালেক, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহমুদুজ্জামান, শহীদ তাজউদ্দীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের স্টোর অফিসার নাজিম উদ্দিন, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিসাবরক্ষক আনোয়ার হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী প্রধান পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মীর রায়হান আলী, গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের স্টেনোগ্রাফার কাম কম্পিউটার অপারেটর সাইফুল ইসলামও রয়েছেন।

আর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের হিসাব রক্ষক এ টি এম দুলাল, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, মুগদা মেডিক্যাল কলেজের হিসাব রক্ষক আবদুল্লাহ হেল কাফি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফারুক হাসান, প্রধান সহকারী আশরাফুল ইসলাম ও সাজেদুল করিম, উচ্চমান সহকারী তৈয়বুর রহমান ও সাইফুল ইসলামেরও নাম রয়েছে।

তালিকায় রয়েছে চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচ্চমান সহকারী ফয়জুর রহমান, রংপুর মেডিক্যাল কলেজের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আলিমুল ইসলাম, সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজের ল্যাব সহকারী আব্দুল হালিম ও সুব্রত কুমার দাস, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সচিব আনায়ার হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়ি চালক শাহজাহান, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের স্টোর কর্মকর্তা দেলোয়ার হাসেন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্টোর ম্যানেজার (ইপিআই) হেলাল তরফদারের নামও।

এছাড়া ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ডা. আবুল কালাম মো. আজাদ, কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতারের স্টোর কিপার সাফায়েত হোসেন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের সিনিয়র স্টোর কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম এবং কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের হিসাব রক্ষক আব্দুল মজিদ মিয়ার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক।

জানা গেছে- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোটিপতি গাড়িচালক আব্দুল মালেক র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এ বিষয়ে আরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

সূত্রমতে- স্বাস্থ্যখাতের ১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের স্ত্রীসহ ২০ জনের সম্পত্তির হিসাব ইতোমধ্যেই চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

ওই ২০ জনসহ মোট অন্তত ৭০ থেকে ৭৫ জনের সম্পত্তির খোঁজ প্রাথমিকভাবে শুরু করেছে দুদক।

Facebook Comments Box

Call Now ButtonContact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share