মে ১৩, ২০২১

Bangla Kagoj । News from Bangladesh, World and Universe at any Language

বাংলা ভাষাসহ পৃথিবির সব ভাষায় সর্বশেষ ও প্রধান খবর, বিশেষ প্রতিবেদন, সম্পাদকীয়, পাঠকমত, খেলাধুলা ও বিনোদনসহ সব প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ সকল খবর।

ঝিনাইদহে নূপুর হত্যায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে নি পুলিশ

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; রাম জোয়ার্দার, কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার দূর্বাকুণ্ডু গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রী চাঞ্চল্যকর নূপুর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পৃথক দুটো মামলা দায়ের হওয়ার ২১ দিন অতিবাহিত হলেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে নি পুলিশ। যে কারণে হত্যার শিকার নূপুরের স্বজনরা মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে- দুবাই প্রবাসী মোজাম্মেল হকের স্ত্রী নূপুর খাতুন (৩৫) গত (৩ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় প্রতিবেশি মুসার বাড়িতে পাওনা টাকা আনতে গিয়ে নিখোঁজ হলে রাতে খোঁজাখুজির পর তার কোনও সন্ধান মেলে নি।

পরদিন (৪ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নূপুরের বসতভিটা থেকে ৪শ’ গজ দূরে একটি বাগান থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে- নূপুরকে হত্যা করার সময় দুর্বৃত্তরা তাঁর বাম চোখ উপড়ে ফেলে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায় সিআইডি ও পিবিআই-এর ক্রাইমসিন ইউনিট। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা- প্রবাসীর স্ত্রী নুপুরকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে দুর্বৃত্তরা তাঁর বাম চোখ উপড়ে ফেলে।

ওইদিনই নিহতের জ্যেষ্ঠ কন্যা শোভা খাতুন বাদি হয়ে সন্দেহভাজন মূসার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে কোটচাঁদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে মামলায় নির্দিষ্টভাবে কাউকে আসামি করা হয় নি। শুধু প্রতিবেশি মুসাকে সন্দেহ করে লেনদেনজনিত কারণে তাঁর মাকে হত্যা করতে পারে বলে এজাহারে উল্লেখ করেন মামলার বাদি নিহত নূপুরের জ্যেষ্ঠ কন্যা শোভা।

মামলা প্রসঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা কোটচাঁদপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) ইমরান আলম বাংলা কাগজকে বলেন- নূপুর হত্যা মামলার বাদি শোভা এজাহারে নির্দিষ্ট কাউকে আসামি করেন নি। মুসা তাঁর মাকে হত্যা করতে পারে বলে সন্দেহভাজন হিসাবে আসামি করা হয়েছে। তবে এ মামলার রহস্য দ্রুততম সময়েই উন্মোচন করা হবে। মামলায় বাদি মুসাসহ বেশ ক’জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করেন। মামলা নম্বর- ১। তারিখ- ৪-৯-২০২০।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- নূপুর নিখোঁজ হওয়ার রাতে মুসা তাঁর নিজ বাড়িতেই ছিলেন। পরদিন সকালে লাশ উদ্ধার হওয়ার পর তিনি গা ঢাকা দেন। মুসার স্বজনদের দাবি নূপুরের সঙ্গে মুসার ছিল জামাই-শাশুড়ি সম্পর্ক। তাদের সঙ্গে অর্থনৈতিক লেনদেনও ছিল।

নূপুরের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তাঁর মা-বড় ভাইসহ স্বজনরা দূর্বাকুণ্ডু যান। ঘটনাস্থলে পৌঁছে হত্যার বিষয়টি রহস্যজনক মনে হলে নিহতের বড় ভাই নুরুজ্জামান নিজে বাদি হয়ে কোটচাঁদপুর থানায় মামলা করতে চান। বড় ভাই নুরুজ্জামানের অভিযোগ তাকে মামলার বাদি না করে ভাগ্নি শোভাকে বাদি করে মামলা নেয় পুলিশ।

এ অবস্থায় নুরুজ্জামান গত ৭ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিহতের স্বামী মোজাম্মেল হককে হুকুমের আসামিসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর ৪৬/২০। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পিবিআই ঝিনাইদকে আগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে তদন্তপূর্বক আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে ৪ সেপ্টেম্বর থানা পুলিশের নেওয়া মামলাটি পিবিআই সদর দপ্তরের নির্দেশে ৮ সেপ্টেম্বর মামলার যাবতীয় নথিপত্র পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) তাঁদের হেফাজতে নেয়। দায়ের হওয়া মামলা দুটো বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে।

নুরুজ্জামান বলেন, ‘হত্যার মূল রহস্য আড়াল করতে শোভাকে মামলার বাদি করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমার বোন নূপুরকে তাঁর স্বামীর নির্দেশে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।’

এ বিষয়ক : মুক্তিপণ না পেয়ে আশুলিয়ায় কিশোর পিটিয়ে হত্যা!

সোহাগ হত্যা : কিশোর গ্যাংয়ের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

ট্রাক চাপায় ছাগল মারা যাওয়ায় চালক পিটিয়ে হত্যা!

Facebook Comments Box

Contact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share