মন্ত্রিপরিষদ সচিব : মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে যেকোনও দিন অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা থাকলেও মাস্ক পরতে জনসাধারণের অনীহা থাকায় যেকোনও সময় মার্কেট-শপিংমলে অভিযান চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল সভায় করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

সভায় গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা অংশ নেন।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন- অনেক দেশেই, বিশেষ করে শীত প্রধান দেশে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নভেম্বরের শেষ থেকে সেকেন্ড ওয়েভ আসে কি-না, সেই প্রিপারেশন রাখতে হবে। ম্যাসিভ প্রিপারেশন যেন থাকে।

সরকারপ্রধানও করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভ নিয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান- প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, আমাদের যেন প্রস্তুতি থাকে।

‘প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন সেকেন্ড ওয়েভ যদি আসে, আমাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে যদি সচেতন হই, তাহলে আমাদের জন্য এটা সুবিধা হবে। পাশাপাশি উনি নির্দেশনা দিয়েছেন অক্টোবরের শেষ বা নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ঠাণ্ডার প্রকোপটা বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে আমাদের লোকজনের যদি নিউমোনিয়া, সর্দি, জ্বর বা অ্যাজমাটিক সমস্যা থাকে, তাহলে সবাইকে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। এসবে আক্রান্ত হলে যেন চিকিৎসা করান। কোভিডের সেকেন্ড ওয়েভ এলে মাঠ পর্যায়ে সেটাকে কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে, এর জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে বলেছেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান- দ্বিতীয় ওয়েভ নিয়ে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আহ্বন করেছি। আমরা বসে বিস্তারিত কর্মসূচি নেব।

দ্বিতীয় ওয়েভ আসার আগে সরকার মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন- মাস্ক ব্যবহার করা দরকার। সবাই মিলে ঠিকভাবে মাস্ক যদি ব্যবহার না করি তাহলে কিন্তু মুশকিল। কারণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন- দুই তরফ থেকে যদি মাস্ক পরা থাকে তাহলে ৯৫-৯৮ শতাংশ নিরাপদ। আর এক তরফ থেকে মাস্ক থাকলে ৬০-৬৫ শতাংশ নিরাপদ। মাস্ক যদি না পরে তাহলে কিন্তু কোনও কিছুই সফল হবে না। এজন্য সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

‘আমি সম্প্রতি একটি কাজে একটি মার্কেটে গিয়েছিলাম, আমি সেখানে বেশি লোককে মাস্ক পরতে দেখি নি। পরে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, আমরা ক্রসচেক করবো যে, যেকোনও দিন, সে মার্কেটে যদি সবাইকে মাস্ক পরা না দেখি তাহলে উই উইল টেক অ্যাকশন।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান- ধর্ম মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সব মসজিদে জোহর ও মাগরিবের নামাজের সময় যেনও ঘোষণা দেওয়া হয় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক, এটা রাষ্ট্রীয় কল্যাণকর নির্দেশ।

বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন- কেউ মাস্ক কিনতে না পারলে বাড়িতে কাপড় দিয়ে সহজেই তা তৈরি করে নেওয়া যায়। মাস্ক যেন সবাই পরে।

স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে অভিযান অব্যাহত আছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান- মোবাইল কোর্ট চলছে।

এ বিষয়ক : মন্ত্রিসভায় বন্যার্তদের পুনর্বাসনের ওপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

এক ব্যক্তির কোম্পানির সুযোগ দিয়ে আইনের খসড়া অনুমোদন মন্ত্রিসভায়

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.