সংসদের সঙ্গেই সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও সার্ভিসিং সেন্টার! ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল। দুপুর দেড়টা। খুলশি সার্ভিস সেন্টার অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন। হঠাৎ বিস্ফোরণ। দগ্ধ তিনজন। যাঁদের একজন মারা যান পরে। এর ঠিক চারদিন পর ২০১৬ সালের ১৪ এপ্রিল সাভারের সিএনজি স্টেশনে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আরও দু’জন। আহত হন আরও তিন। ওই সময় সিএনজি স্টেশনের শেড এবং গাড়ি উড়ে গিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত পড়ে।

জাতীয় সংসদের পশ্চিম দিকে এবং এর সঙ্গে লাগোয়া তালুকদার ফিলিং স্টেশন, সিএনজি অ্যান্ড সার্ভিসিং সেন্টার- বাংলা কাগজ।

তারও দুই বছর আগে অর্থাৎ ২০১৪ সালের ২২ জুন ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় নূর মোহাম্মদ মজুমদার সিএনজি ফিলিং স্টেশন বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত হত ৩০ জন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় ১০ জনকে হাসপতালে নেওয়া হয়। এর একদিন পরই মারা যান একজন।

তারও চার বছর আগে- ২০১০ সালের ১২ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফকিরহাটে মোস্তফা সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ক্রেনযুক্ত গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গ্যাস সরবরাহ ইউনিট ও স্টেশনের শেড উড়ে গিয়ে অনেক দূরে পরে। ওই সময় গুরুতর আহত হন দু’জন। যাঁদের একজন মারা যান পরে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে- এসব সময়ের আগে ও পরে অসংখ্য গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে দেশজুড়ে। যাতে হতাহতের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়।

জাতীয় সংসদের পশ্চিম দিকে এবং এর সঙ্গে লাগোয়া তালুকদার ফিলিং স্টেশন, সিএনজি অ্যান্ড সার্ভিসিং সেন্টার- বাংলা কাগজ।

এরই অংশ হিসেবে চলতি বছরের ৩০ জুলাই কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের ডুবাইরচর এলাকায় খোরশেদ আলম ফিলিং স্টেশনে বিস্ফোরণের ঘটনায় দু’জন দগ্ধ হন। যাঁদের এখনও চিকিৎসা চলছে।

ঠিক এই যখন অবস্থা- তখন জাতীয় সংসদের সঙ্গে ‘লাগোয়া’ (জাতীয় সংসদ এবং ওই স্থাপনার আগে অন্য কোনও ব্যক্তিগত বা সরকারি স্থাপনা নেই) দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা তালুকদার ফিলিং স্টেশন, সিএনজি অ্যান্ড সার্ভিসিং সেন্টার চালু হয়েছে গেল ১৬ সেপ্টেম্বর। এ অবস্থায় জাতীয় সংসদ থেকে পশ্চিম দিকের রাস্তা দিয়ে বের হওয়া এবং ঢোকার ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়েছে বড় ঝুঁকি।

বিজ্ঞাপন

এক্ষেত্রে জাতীয় সংসদে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে যে কেউ দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে পারেন। আর সাংসদ তথা মন্ত্রীদের কথা যেন বলাই বাহুল্য।

এ ব্যাপারে জানার জন্য ২০ সেপ্টেম্বর (রোববার) দুপুরে তালুকদার ফিলিং স্টেশন, সিএনজি অ্যান্ড সার্ভিসিং সেন্টারে গেলে এর দ্বিতীয় তলায় পাঠানো হয়। তখন সেখানে যাবার পর দরজা অনেকক্ষণ ধরে নক করার পরও কেউ দরজা খুলেন নি। পরে এ প্রতিবেদক দরজা খুললেই এগিয়ে আসেন একজন। নিয়ে যান শেষ বয়সী একজনের কাছে। বলেন, ‌‘তিনিই আমাদের ম্যানেজার।’

তখন নিজের পরিচয় দিয়ে তালুকদার ফিলিং স্টেশন, সিএনজি অ্যান্ড সার্ভিসিং সেন্টারের ম্যানেজারের নাম জানতে চেয়ে অন্য প্রশ্ন করার আগেই জানানো হয়, তার নাম- এজাজ। আর এ ব্যাপারে তিনি কথা বলতে পারবেন না। আর কিছু জানতে হলে যেন এ প্রতিবেদক জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেন।

পরে একইদিন (২০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, এমপি’র কাছে বিষয়টি নিয়ে জানার জন্য দুইবার (বেলা ১টা ২২ মিনিট ও বেলা ১টা ৫২ মিনিট) কল দেওয়া হলেও তিনি এ প্রতিবেদকের কলটি কেটে দেন।

এ বিষয়ক : বাংলা কাগজে প্রতিবেদন প্রকাশ : সেই এসআই ক্লোজড

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.