ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের পথে বাহরাইন, ঐতিহাসিক বললেন ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ইসরায়েলের সঙ্গে আরব আমিরাতের কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি সহজভাবে নেয় নি মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশ। ওই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার একই পথে হাঁটতে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ বাহরাইন।

দীর্ঘ দিন ধরেই এ অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) তিনি বাহরাইনের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি ঘোষণা করেন।

এর আগে কয়েক দিন ধরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ও বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফার সঙ্গে ফোনালাপ হয় তাঁর।

এক যৌথ বিবৃতিতে এ তিন দেশের প্রধান জানান ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’। ইসরায়েল-বাহরাইনে মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা মনে করেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে এ বিষয়ক আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হবে। মার্কিন প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, বাহরাইনের ক্রাউন প্রিন্স হামাদ বিন ইসা আল খলিফা ও আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া :
কূটনৈতিক ওই চুক্তির খবরে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ। তবে চুক্তিকে স্বাগতও জানিয়েছে অন্যরা।

বিজ্ঞাপন

ফিলিস্তিন :
কূটনীতি শুরুর এ চুক্তিকে আরব দেশগুলোর বিশ্বাসঘাতকতা বলে নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিন। পশ্চীম তীরের সমাজ বিষয়ক মন্ত্রী আহমাদ মাজদালানি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘গত মাসে হওয়া আরব আমিরাত চুক্তির মতোই বাহরাইনের এ চুক্তিটি ফিলিস্তিনের জনগণের ও তাদের উদ্দেশের ওপর ছুরিকাঘাত।’

তুরস্ক :
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে- ফিলিস্তিনের স্বার্থের ওপর এ চুক্তিটি একটি বড় আঘাত। কূটনৈতিক সম্পর্কের এ পদক্ষেপ ইসরায়েলকে এ অঞ্চলে বেআইনি কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে সমর্থন দেবে এবং ফিলিস্তিনে স্থায়ী দখলদারিত্বের পথ তৈরি করবে বলেও মনে করে দেশটি।

ইরান :
চুক্তির সংবাদ প্রকাশের পর বাহরাইনকে ইসরায়েলের ‘অপকর্মের সহযোগী’ বলে উল্লেখ করেছে ইরান। এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়- এখন থেকে বাহরাইন ইহুদিবাদি সরকারের সব অপকর্মের সহযোগী, যারা এ অঞ্চলের জন্য হুমকি।

মিশর :
মধ্যপ্রাচ্যে দুটি দেশের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক রয়েছে কেবল দুটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের। দেশ দুটি হচ্ছে মিশর ও জর্ডান। বাহরাইন ও ইসরায়েলের এ সম্পর্ককে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসি। এক টুইটে তিনি বলেন- চুক্তিটি এ অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।

আরব আমিরাত :
চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়- এ পদক্ষেপ নিরাপত্তা ও উন্নয়নের একটি নতুন যুগের সূচনা করবে এবং অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বিজ্ঞান চর্চার সুযোগকে সমৃদ্ধ করবে।

আরও পড়ুন : এবার আমিরাতে মোসাদ প্রধান

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.