প্রধানমন্ত্রী : ধারাবাহিকভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের চেষ্টা চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ধারাবাহিকভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনের শেষদিনে বিরোধীদলীয় নেতা জিএম কাদেরের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ইস্যুতে দৃষ্টি আকর্ষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কথা বলছেন। কিন্তু এটা কে শুরু করেছিল? এটি শুরু হয়েছিল জিয়াউর রহমানের আমলে। তখন আমাদের অনেক নেতাকর্মীর লাশ পাওয়া যায় নি এবং এরপরে, এটি (বিচারবহির্ভূত হত্যা) প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে (খালেদা জিয়ার আমলে)। আমরা এর ধারাবাহিকতা বন্ধ করার চেষ্টা করছি।’

প্রধানমন্ত্রী আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমালোচনা করার ক্ষেত্রে সকলকে বাস্তবববাদী ও গঠনমূলক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন- তাঁরা মাদক, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। মনে রাখতে হবে তাঁরা (আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) যেনও এ কাজে তাঁদের উদ্যম হারিয়ে না ফেলে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন- সমালোচনা ভালো তবে এটি মনে রাখা উচিত যে যাঁরা জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করে চলেছেন এবং যে কোনও বিপদে মানুষ যাঁদের কাছে ছুটে আসছে তাঁরা যেনও আগ্রহ হারিয়ে না ফেলে।

সামগ্রিক উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনের উপর কোভিড-১৯ এর আক্রমণ রুখতে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন- বিশ্বে করোনাভাইরাস নিরাময়ে যে টীকা প্রথম আসবে, তাঁর সরকার সেটি ব্যবহারে প্রস্তুত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন- বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কোভিড-১৯ এর টীকা নিয়ে গবেষণা করছে। আমরা অনেক দেশের কথা শুনেছি (তাদের টীকা উদ্ভাবনের কথা)। আমরা টীকা পেতে সব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং এই লক্ষ্যে অর্থ বরাদ্দ করেছি। আমরা প্রথমে আসা টীকা গ্রহণ করব এবং আমাদের জনগণকে করোনাভাইরাস থেকে আরোগ্য লাভের জন্য ব্যবহার করব।

স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে জি এম কাদেরের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন- করোনাভাইরাস মহামারি থেকে উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় এবং অর্থনীতি ও উন্নয়নের চাকা অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং এজন্য পানির মতো অর্থ ব্যয় করছে।

জনগণের জীবন বাঁচানোকেই প্রথম অগ্রাধিকার হিসাবে গণ্য করে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বা কোনও অনিয়ম হয়েছে কিনা তা বিবেচনা করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কত অর্থ ব্যয় হয়েছে তার চেয়ে জনগণের জীবন রক্ষা করা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন- পৃথিবীর যে প্রান্তেই করোনার টিকা আবিষ্কার হোক, বাংলাদেশের জন্য তা নিয়ে আসা হবে।

আরও পড়ুন : প্রধানমন্ত্রী : ইউএনও’র ওপর হামলার কারণ ও মদতদাতাদের বের করা হবে

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.