ইউএনও’র ওপর হামলা : আসাদ-জাহাঙ্গীরের গডফাদার শাহেনশাহ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বালুমহালের ব্যবসা, খাসজমি ও পুকুর দখল, মাদক ব্যবসা এবং চাঁদাবাজি কোনটি করেন না ঘোড়াঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাফে খোন্দকার শাহেনশাহ। আর খাসজমি দখল করতে গিয়েই মূলত ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের প্রকাশ্য শত্রু হয়ে পড়েন খোন্দকার শাহেনশাহ। আর ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনায় যুবলীগ সদস‌্য আসাদুল ইসলাম ও ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম (জাহাঙ্গীর হোসেন) গ্রেপ্তারের পর খোন্দকার শাহেনশাহ-এর ব্যাপারে অভিযোগের তীর আরও তীক্ষ্ণ হয়েছে। কারণ এ দু’জন মূলত শাহেনশাহ-এর ক্যাডার। সবমিলে ইউএনও’র ওপর হামলার ঘটনায় অনুসন্ধানে নিম্ন শ্রেণির বা প্রাথমিক গডফাদার হিসেবে খোন্দকার শাহেনশাহ-এর নাম বেরিয়ে এসেছে।

আবদুর রাফে খোন্দকার শাহেনশাহ- বাংলা কাগজ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে- নানা অনৈতিক কাজ করতে গিয়েই মূলত ওয়াহিদাকে ‘হাতে রাখতে’ চেয়েছিলেন শাহেনশাহ। কিন্তু সেটি তিনি করতে পারেন নি। এতে ওয়াহিদার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন শাহেনশাহ।

জানা গেছে- ২০১৭ সালে জাহাঙ্গীর আলম (জাহাঙ্গীর হোসেন) যুবলীগের ঘোড়াঘাট উপজেলার আহ্বায়ক নির্বাচিত হলেও এর মাস কয়েক আগেই ওই থানার সম্মেলন করে কমিটি দেওয়া হয়েছিল। রাতারাতি শাহনেশাহ এক হয়ে যুবলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে ‘হাত করে’ সুপারিশের মাধ্যমে জাহাঙ্গীরকে আহ্বায়ক করেন।

আর ওই সময় থেকেই জাহাঙ্গীর গ্রুপ ও স্থানীয় যুবলীগকে সঙ্গী করে নানা অনৈতিক কাজ শুরু করেন শাহেনশাহ। শাহেনশাহর সঙ্গে আছেন স্থানীয় কৃষকদলের সাবেক সভাপতি বর্তমানে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউনুস আলীও।

অনুসন্ধানে জানা গেছে- শাহেনশাহ এক সময় দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক ও দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের শিষ্য ছিলেন। তবে ‘জবরদখল’ করে উপজলো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর শিবলী সাদিকের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়। অন্যদিকে জেলা সভাপতি ফিজারের সঙ্গে এখন সম্পর্ক রক্ষা করে চলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এলাকাবাসী মনে করছেন- ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে হত্যার উদ্দেশেও হামলার ঘটনা হয়ে থাকতে পারে। কিংবা উদ্দেশ থাকতে পারে ভয়ভীতি প্রদর্শন। আবার কিছু জরুরি কাগজপত্র চুরি করতে গিয়েও ওই ঘটনা ঘটে থাকতে থাকতে পারে। তবে বাংলা বাংলা কাগজের অনুসন্ধানে বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় নি।

সার্বিক অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে আবদুর রাফে খোন্দকার শাহনেশাহ বাংলা কাগজকে বলেন- ‘আমি রাজনীতিবিদ, রাজনীতি করি। সবাই আমার কাছে আসে। তবে কোনও অপরাধীকে আমি প্রশ্রয় দিই না। রাজনৈতিক কারণে আমার অবস্থান নষ্ট করতে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’ ইউএনও’র ওপর হামলার ঘটনায় আসাদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর হোসেন (জাহাঙ্গীর আল) তার ক্যাডার কি-না, এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হন নি তিনি।

আরও পড়ুন : ওয়াহিদার মাথার খুলি ভেতরে ঢুকে গেছে, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ

জ্ঞান ফিরেছে ওয়াহিদার

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.