অক্টোবর ২০, ২০২১

The Bangla Kagoj

বাংলা কাগজ । আপনার কাগজ । banglakagoj.net

রোহিঙ্গা হত্যার স্বীকারোক্তি দেওয়া ‘মিয়ানমারের ২ সেনা’ হেগে

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : মিয়ানামারের রাখাইনে ২০১৭ সালে সেনা অভিযানে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা হত্যার স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর দেশটির ‘দুই সেনাকে’ নেদারল্যান্ডসের হেগে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : মিয়ানামারের রাখাইনে ২০১৭ সালে সেনা অভিযানে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা হত্যার স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর দেশটির ‘দুই সেনাকে’ নেদারল্যান্ডসের হেগে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত দুটি গণমাধ্যম ও একটি মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ কথা জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের বাংলা অনলাইন ভার্সন।

ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- একটি ভিডিওতে ওই দুই সেনার বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন এবং মানবাধিকার সংস্থা ফর্টিফাই রাইটস জানায়- উত্তর রাখাইনে ওই দুজন (মিয়ানমারের দুই সেনা) কয়েকজন মানুষকে হত্যা করে গণকবর দিয়েছে। এগুলো তারা ওই ভিডিওতে স্বীকার করেছে।

রয়টার্স এখনও ওই ভিডিওগুলো দেখে নি এবং নিউইয়র্ক টাইমস এই দুই সেনা অপরাধের স্বীকারোক্তি কাকে দিয়েছে, তা নিরপেক্ষসূত্রে নিশ্চিত করে বলতে পারে নি বলে জানিয়েছে।

মিয়ানমার সরকার এবং ওই দেশের সামরিক মুখপাত্রদের কাছ থেকে এ বিষয়ে মতামত নেওয়ার চেষ্টা করেও তা সফল হয় নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়- রাখাইনে মিয়ানমার সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত আরাকান বিদ্রোহী বাহিনীর হেফাজতে ছিল ওই দুই সেনা। সেখানে থাকা অবস্থায় তারা ওই স্বীকারোক্তি দেয়। পরে, দু’জনকে নেদারল্যান্ডসের হেগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) তাদের বিরুদ্ধে শুনানি হতে পারে কিংবা তারা মামলার সাক্ষী করা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

তবে, এই দুজন কীভাবে আরাকান বাহিনীর হাতে ধরা পড়ল, তারা কেন হত্যার কথা স্বীকার করলো কিংবা নেদারল্যান্ডসে তারা কীভাবে গেল, কার দায়িত্বে গেল সেসব নিশ্চিত হওয়া যায় নি।

হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের হেফাজতে মিয়ানমারের ওই দুই সেনা এখন পর্যন্ত নেই বলে আদালতের এক মুখপাত্র জানান।

ফাদি আল আবদুল্লাহ নামের ওই মুখপাত্র বলেন, ‘না। এই তথ্য সঠিক নয়। আমরা এখনও তাদের আইসিসির হেফাজতে পাই নি।’

আইসিসিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী কানাডার আইনজীবী পায়াম আখভান বলেন, মিয়ানমার সীমান্তের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে দুই ব্যক্তি এসে বাংলাদেশ সরকারের কাছে তাদের জীবনের নিরাপত্তার চেয়ে আবেদন জানায়। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যা ও ধর্ষণের বিষয়ে তারা স্বীকারোক্তি দেয়।

তিনি বলেন, আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি যে এই দুই ব্যক্তি এখন আর বাংলাদেশে নেই।

আরাকান বাহিনীর এক মুখপাত্র খাইন থু খা বলেন, ওই দুজন মিয়ানমারের সেনাবাহিনী থেকে পালায়। তাদেরকে যুদ্ধবন্দী হিসেবে রাখা হয় নি।

তবে, ওই দুই সেনা এখন কোথায় আছে সে সম্পর্কে তিনি আর কিছু বলেন নি। তিনি বলেন যে তাদের বাহিনী মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থদের ‘ন্যায়বিচার’ দিতে ‘প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।

মিয়ানমার বারবার গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে যে ২০১৭ সালে সীমান্ত চৌকিতে পুলিশকে আক্রমণ করা রোহিঙ্গা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে তারা সামরিক অভিযান চালিয়েছিল।

এ সম্পর্কিত : বন্ধের পরও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থ্রিজি-ফোরজি কেন?

৫ লাখ রোহিঙ্গার তালিকা হারিয়ে ফেলেছে মিয়ানমার!

রোহিঙ্গারা করছে লেনদেন, হচ্ছে সন্ত্রাসে অর্থায়ন- বড় জালিয়াতি বিকাশে!

Facebook Comments Box
Contact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share