সামরিক অভিধান থেকে ‘মার্শাল ল’ শব্দটি বাদ দিন : প্রধানমন্ত্রী

বাসস ও আইএসপিআর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘সামরিক অভিধান’ থেকে ‘মার্শাল ল’ শব্দটি বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন- এটা দেশ ও সশস্ত্র বাহিনীর কোনও কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর্মড ফোর্সেস সিলেকশন বোর্ড মিটিং ২০২০-এর ভার্চুয়াল বৈঠকে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অংশ নেন- পিআইডি।

তিনি আর্মড ফোর্সেস সিলেকশন বোর্ড মিটিং ২০২০-এর ভার্চুয়াল বৈঠকে গণভবন থেকে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন।

স্ব স্ব বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে ওই ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর্মড ফোর্সেস সিলেকশন বোর্ড মিটিং ২০২০-এর ভার্চুয়াল বৈঠকে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অংশ নেন- পিআইডি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান এমডিরাল এম শাহীন ইকবাল এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত।

পাশাপাশি গণভবন প্রান্তে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবসর) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জে. মাহফুজুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

শেখ হাসিনা বলেন- মার্শাল ল রক্তপাত ছাড়া দেশ ও সশস্ত্র বাহিনীর কোনও কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। তাই সামরিক অভিধান থেকে আমাদের মার্শাল ল শব্দটি বাদ দেওয়া উচিত।

জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসন আমলের ১৯টি ক্যু-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন- ওই সময়ে বহু সামরিক কর্মকর্তা ও সৈনিককে হত্যা করা হয়।

তিনি আরও বলেন- সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানের আমলে সশস্ত্র বাহিনীর এতো বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা ও সৈন্যকে হত্যা করা হয়েছে যে যুদ্ধেও এতো সংখ্যক সৈন্য নিহত হন নি। আমরা (সশস্ত্র বাহিনীতে) আর কোনও ছেলেহারা পিতা বা পিতাহারা ছেলের কান্না শুনতে চাই না।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর একের পর এক ক্যুয়ের কারণে সশস্ত্র বাহিনী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন- এইসব ক্যু-এর নামে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সশস্ত্র বাহিনীর অনেক সদস্যকে বর্বরোচিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও একে সময়োপযোগী করে গড়ে তোলা তাঁর সরকারের লক্ষ্য- পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন- আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আমাদের পরিবারের সম্মানিত সদস্য। তাঁরা আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। এই বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য এবং এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তাঁর সরকার দেশের সুরক্ষা ও কষ্টার্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বহিনীকে আরও সুসজ্জিত করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে বলেই জানান।

অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর পদোন্নতি পর্ষদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার (৭ আগস্ট) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে- সেনাবাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদ শেষে হবে ১১ সেপ্টেম্বর আর বিমান বাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদ চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.