ডিসেম্বর ৫, ২০২১

The Bangla Kagoj

বিশ্বের সব দেশে, সব ভাষায়, সব সময় । বাংলা কাগজ । আপনার কাগজ । banglakagoj.net (আমাদের কোনও জাতীয় পত্রিকা নেই)।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ৮ সেপ্টেম্বর, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

তথ্যবিবরণী : আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ৮ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার)। এ উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তথ্যবিবরণী : আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ৮ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার)। এ উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সরকারের তথ্যবিবরণীতে বিষয়টি জানানো হয়।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন-

“বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২০’ পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এবারের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘Literacy teaching and learning in the COVID-19 crisis and beyond with a focus on the role of educators and changing pedagogies’ অর্থাৎ ‘কোভিড-১৯ সংকটঃ সাক্ষরতা শিক্ষায় পরিবর্তনশীল শিখন-শেখানো কৌশল এবং শিক্ষাবিদদের ভূমিকা’ চলমান প্রেক্ষাপটে যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি।

সরকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি সাক্ষরতা ও দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। রুপকল্প ২০৪১, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূরীকরণসহ দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের সমগ্র জনগোষ্ঠীকে কর্মক্ষম মানবসম্পদে পরিনত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সে লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, প্রশিক্ষণ প্রদান, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, শতভাগ উপবৃত্তি বিতরণ, স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক মহামারিতে শিক্ষার্থীদের শিখন কার্যক্রমের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে ইতোমধ্যে কোমলমতি শিশুদের জন্য একযোগে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও সকল কমিউনিটি রেডিওতে ‘ঘরে বসে শিখি’ শিখন প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে।

বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশু-কিশোরদের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান, নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরতা প্রদান, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে তাদেরকে সুযোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে চলমান সাক্ষরতা কর্মসূচি একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। দেশের বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে যথাযথ শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করে বাংলাদেশকে উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমি সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বেসরকারি সংস্থা, সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত হবে -এ প্রত্যাশা করি।

আমি ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২০’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করছি।
জয় বাংলা।

খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।’’

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী :

“বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস’ পালন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এবারের প্রতিপাদ্য ‘Literacy teaching and learning in the COVID-19 crisis and beyond with a focus on the role of educators and changing pedagogies’ তথা ‘কোভিড-১৯ সংকটঃ সাক্ষরতা শিক্ষায় পরিবর্তনশীল শিখন-শেখানো কৌশল এবং শিক্ষাবিদদের ভূমিকা’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদ্যাপিত হয়। স্বাধীনতার পর পরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সরকার কর্তৃক প্রণীত সংবিধানের ১৭(গ) অনুচ্ছেদে আইনের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার করে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার সে অঙ্গীকার পূরণে দেশের ৪৫ লক্ষ নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরতা প্রদানের লক্ষ্যে ৬৪টি জেলায় মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তাছাড়া, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয় বহির্ভূত ও ঝরেপড়া ৮-১৪ বছর বয়সী ১০ লক্ষ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করে তাদেরকে শিক্ষা ব্যবস্থার মূলধারায় নিয়ে আসার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

আমাদের নিরলস ও অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে গত ১০ বছরে সাক্ষরতার হার ২৮.৯২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৭৪.৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সাক্ষরতা ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সংক্রান্ত উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে দেশকে আমরা নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে চাই। এছাড়াও জাতিসংঘ প্রণীত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-৪ (এসডিজি-৪) অনুযায়ী মানসম্মত ও সর্বজনীন শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

বর্তমানে কোভিড-১৯ এর মহামারির পরিস্থিতিতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সচল রাখতে সরকার অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে। বিভিন্ন স্তরের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ক্লাশসমূহ অনলাইনে নেয়ার জন্য ইতোমধ্যেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে নিয়মিত পাঠদান করা হচ্ছে।

সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় শতভাগ সাক্ষরতা অর্জন ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতামুক্ত সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে পারব বলে আমি বিশ্বাস করি।
আমি আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২০ উদ্যাপন উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

এ সম্পর্কিত আরও : জেএসসি-জেডিসিও হচ্ছে না, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ তেসরা আগস্ট পর্যন্ত

প্রাথমিকের অর্ধেক শিক্ষার্থী একদিন, বাকিরা অন্যদিন স্কুলে যাবে

হ্যাঁ, আপনাকেই বলছি মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী (ডা. দীপু মনি, এমপি, এমবিবিএস (ডিএমসি), এলএলবি

Facebook Comments Box
Contact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share