এটিএম বুথে হামলার শঙ্কা! শঙ্কা হ্যাকিংয়েও!!

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : দেশের এটিএম (অটোমেটেড টেলার মেশিন) বুথগুলো এখন খোলা থাকছে রাত ১১টা কি ১২টা অব্দি। আর লোক সমাগম কম- এমন এলাকায় বুথ খোলা থাকছে রাত ৮টা নাগাদ। তবে কি এটিএম বুথগুলোতে হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ম্যালওয়্যার বিষয়ক সতর্কতার অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলোকে দেওয়া হয়েছে নির্দেশনা। এরপরও ওই নির্দেশনার পরই ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক লেনদেনে বাড়তি সতর্কতা জারির সঙ্গে এটিএম বুথগুলো চালু রাখার সময় কমিয়ে দিয়েছে। যা ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। এ বিষয়ে বাংলা কাগজের অর্থনীতি বিষয়ক প্রতিবেদক জেনে বিশেষজ্ঞমত দিয়েছেন, এ রকম- তাহলে কি বুথগুলোতেও হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে!

আরও পড়ুন : রিজার্ভ চুরির তদন্তে আরও একমাস সময়

উল্লেখ করা যেতে পারে- সাংবাদিক খুন ও ইউএনও’র ওপর হামলা পরপরই শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নারায়ণগঞ্জের মসজিদে এসি বিস্ফোরণের ঘটনা ভাবিয়ে তুলছে সাধারণ মানুষকে।

জানা গেছে- এখনও (শনিবার- ৫ সেপ্টেম্বর) রিজার্ভ চুরির অর্থ পুরো ফেরত পায় নি বাংলাদেশ। একইসঙ্গে বাংলাদেশে করা মামলারও দেওয়া হয় নি প্রতিবেদন। তবুও শঙ্কা দেখা দিয়েছে ফের হ্যাকিংয়ের। এ ধরনের অবস্থা অর্থাৎ ব্যাংকিং চ্যানেলের অনলাইন সিস্টেমে এক ধরনের ম্যালওয়্যার (এক ধরনের ভাইরাস; যা দ্বারা তথ্য চুরি করা সম্ভব) এর সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)।

সূত্রমতে (বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর)- গেল সপ্তাহে (আজকের দিন-তারিখ : শনিবার- ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ) ব্যাংকিং চ্যানেলের অনলাইন সিস্টেমে ম্যালওয়্যার শনাক্তের ঘটনা বাংলাদেশ ব্যাংককে জানায় বিসিসি। আর ওই ঘটনা জানার পরই ব্যাংকগুলোকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয় আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দেশীয় বিভিন্ন ব্যাংক আন্তর্জাতিক লেনদেনে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন শুরু করেছে। একইসঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের পর বন্ধও রাখছে এটিএম বুথ। অর্থাৎ সব সময়ের ন্যায় দিনে ২৪ ঘণ্টা সপ্তাহে সাতদিন (২৪☓৭) এখন ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথ খোলা থাকছে না। এক্ষেত্রে জনবহুল এলাকায় রাত ১১টা বা সর্বোচ্চ ১২টা পর্যন্ত এটিএম খোলা রাখা হচ্ছে বলেই জানা গেছে। আবার প্রত্যন্ত এলাকা কিংবা লোক সমাগম কম হয়- এমন এলাকায় বুথ খোলা থাকছে রাত ৮টা পর্যন্ত।

বিজ্ঞাপন

সূত্র আরও জানায়- ম্যালওয়্যারের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে। নজরদারি বাড়ানো হয়েছে দেশেও। এক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা ক্লান্তিহীন কাজ করছেন বলেই জানা গেছে।

প্রসঙ্গত- ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক- ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোড জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা (হ্যাকার)। ওই অর্থ পাঠানো হয় ফিলিপাইনে। তবে বড় অংকের অর্থ শ্রীলঙ্কায় পাঠাতে গিয়েও সুইফট কোডে গরমিল পরিলক্ষিত হওয়ায় সেটি (লেনদেন) ফেড আটকে দেওয়ায় তা আর সম্ভবপর হয়ে উঠে নি। এক্ষেত্রে অন্তত ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ফেডারেল রিজার্ভ। ওই ঘটনা বাংলাদেশে জানাজানি হওয়ার পর চাপের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমান। একইসঙ্গে মামলা করা হয় রাজধানীর মতিঝিল থানায়। তবে বাংলাদেশ সময় রাতের বেলায় ওই হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে বরাবরের মতোই তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে নিজেদের দোষ অস্বীকার করে আসছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। অথচ অর্থ চুরির সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকটি শাখায় কর্মকর্তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে সিসিটিভির ফুটেজে। যদিও এ পর্যন্ত বেশ কয়েক দফায় পেছানোর পরও এখনও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারে নি সিআইডি (ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট- পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ)। সর্বশেষ পিছিয়ে রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় তিন বছর পেরিয়ে যায় যায়- এমন অবস্থায় ফিলিপাইনের আদালতে দায়সারা মামলা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ থেকে তদন্তদলও গিয়েছে ফিলিপাইনে।

একই ঘটনায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) সেন্ট জুপিটার শাখাকে দায়ীও করা হয়েছে। অভিযুক্ত হয়েছেন ব্যাংকটির কর্মকর্তা মায়া সান্তোষ দেগুইতো।

সবমিলে রিজার্ভ চুরির পুরো অর্থ ফেরত পাওয়া এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটে নি বা চূড়ান্ত বোঝা যায় নি দিনক্ষণ।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.