দ্বিতীয় এনআইডি : সাবরীনার দুই দিনের রিমান্ড; প্রশ্নবিদ্ধ ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ডা. সাবরীনা আরিফ চৌধুরীর দ্বিতীয় এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) পাবার ঘটনায় করা মামলায় তাঁকে আরও দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। এদিকে সাবরীনার এনআইডিতে মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের কার্ড থাকার বিষয়টি জানাজানি হবার পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারাও কোনোভাবেই এর দায় এড়াতে পারেন না। কারণ আঙুলে ছাপের কারণে দ্বিতীয়বার কারও এনআইডি করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন : সাবরীনার দ্বিতীয় এনআইডি : জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে মিজানকে

সাবরীনার দুটো এনআইডি কেন, ইসির কাছে জানতে চায় দুদক

সাবরীনা ও আরিফসহ ৮ জনের জামিন নামঞ্জুর

সাবরীনা গেলেন তিনদিনের রিমান্ডে

আবার ইসির সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ আলমগীর বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন- ডা. সাবরীনা আরিফ চৌধুরীর দ্বিতীয় দফায় এনআইডি করার ক্ষেত্রে মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যানের চাপ থাকলে তিনিও আসামি হবেন।

এমন অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন- তাহলে কি চাপ প্রয়োগ করলেই ইসিতে অবৈধ কাজ করা সম্ভব হয়? নাকি তিনি না বুঝেই এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিও আমাদের দেখতে হবে। তবে অপরাধী যে-ই হোক না কেন; তাঁকেই আইনের আওতায় আনতে হবে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে- দ্বিতীয় দফায় এনআইডি করার মামলায় বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. তোফাজ্জল হোসেন ডা. সাবরীনা আরিফ চৌধুরীর জামিন নামঞ্জুর করে দু’দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত পহেলা সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম ডা. সাবরীনার উপস্থিততে তাঁর জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।

প্রসঙ্গত- ডা. সাবরীনা আরিফ চৌধুরীর দ্বিতীয় দফায় করা এনআইডি’র বিষয়ে গত ৩০ আগস্ট রাতে বাড্ডা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন গুলশান থানার নির্বাচন কর্মকর্তা মমিন মিয়া। জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন ২০১০-এর ১৪ ও ১৫ ধারা অনুযায়ী তথ্য গোপন ও জালিয়াতির অভিযোগে সাবরিনার বিরুদ্ধে ওই মামলা করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়- র্ব্তমানে ডা. সাবরীনার দুটো এনআইডি কার্ডই সক্রিয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি টের পাওয়ার পর বিস্তারিত জানতে ইসির কাছে তথ্য চেয়েছে। সাবরীনা ২০১৬ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় দ্বিতীয়বার ভোটার হন। তিনি প্রথমে ভোটার হন সাবরীনা শারমিন হোসেন নামে। একটিতে জন্ম তারিখ দেওয়া ১৯৭৮ সালের ২ ডিসেম্বর। অন্যটিতে ১৯৮৩ সালের ২ ডিসেম্বর। প্রথমটিতে স্বামীর নাম হিসেবে ব্যবহার করেছেন আর এইচ হক। আর দ্বিতীয়টিতে স্বামীর নাম লেখা হয়েছে আরিফুল চৌধুরী।

উল্লেখ করা যেতে পারে- তথ্য গোপন ও জালিয়াতির মাধ্যমে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেওয়ার অভিযোগে ডা. সাবরীনার এনআইডিগুলো ইতোমধ্যে ‘ব্লক’ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

আরও উল্লেখ করা যেতে পারে- জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে নানান সুবিধা ভোগ করতে পারেন বাংলাদেশের নাগরিকরা।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.