সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১

The Bangla Kagoj

আপনার কাগজ । banglakagoj.net

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবোটিকস ও ক্লাউড কম্পিউটিং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মূল বিষয়

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য সহায়ক দীর্ঘমেয়াদী নীতিমালা প্রণয়ন, শিক্ষাব্যবস্থার যুগোপযোগীকরণ, অবকাঠামো ও মানব সম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্প-শিক্ষার সমন্বয়সহ এ খাতের উদ্যোক্তাদের আর্থিক প্রণোদনা প্রদানের উপর গুরুত্বারোপ করেন ডিসিসিআই আয়োজিত ‘কোভিড-১৯ প্রেক্ষাপটে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক ওয়েবিনারে অংশগ্রহণকারি বক্তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার সিকিউরিটি, রোবোটিকস, বিগ ডাট অ্যান্ড এনালাটিক্স এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রভৃতি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মূল বিষয়। একইসঙ্গে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য সহায়ক দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়ন, শিক্ষাব্যবস্থার যুগোপযোগীকরণ, অবকাঠামো ও মানব সম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্প-শিক্ষার সমন্বয় জরুরি।

আরও পড়ুন : ইদে চামড়া ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে : শিল্পমন্ত্রী

ইদুল আজহা উপলক্ষে ঋণ খেলাপি চামড়া ব্যবসায়ীদের ‘বাড়তি সুযোগ’

ঢাকা চেম্বার (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘কোভিড-১৯ প্রেক্ষাপটে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব তথ্য উঠে আসে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ওই ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগোযোগ এবং তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়কমন্ত্রী মোস্তাফা জাব্বার, এমপি।

বক্তব্যে মোস্তাফা জাব্বার বলেন- স্বাধীনতার পর আমাদের অর্থনীতি কৃষির উপর অধিক হারে নির্ভর থাকলেও আজকে আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লব নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখছি।

তিনি বলেন, বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোতে প্রথম চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রথম চিন্তা-ভাবনা আসলেও, যেটি বর্তমানে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগনকে অর্থনৈতিকভাবে আরো শক্তিশালী করতে হলে, জনগনের নিকট তথ্য-প্রযুক্তির সেবা দ্রুত পৌঁছাতে হবে। তিনি জানান, বাংলাদেশের জনগণের তথ্য-প্রযুক্তি গ্রহণের সক্ষমতা অত্যন্ত বেশি, যেটি করোনাভাইরাস মহামারির সময় সেটি প্রমাণিত হয়েছে এবং বর্তমানে মহামারির সময়ে দেশের টেলিকম খাত মানুষকে সর্বাত্মক সেবার চেষ্টা করেছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বেগম পরাগ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বলেন- আমাদের এসএমই খাতের উদ্যোক্তারা তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন নতুন পণ্য তৈরি করছে।

তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে নতুন পণ্য উৎপাদনের যেমন সুযোগ তৈরি করবে, সেইসঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং সে সুযোগ গ্রহণে আমাদেরকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও তার বস্তাবায়ন করতে হবে।

আয়োজিত ওয়েবিনার ডায়ালগে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনির্ভাসিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর সহযোগী অধ্যাপক সাজিদ আমিত।

মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন- চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাব সারা পৃথিবীতেই ছড়িয়ে পড়ছে এবং শিল্পখাতে বিশেষকরে পণ্য উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও গর্ভানেন্স’র ক্ষেত্রে অভাবনীয় পরিবর্তন সাধন করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন- চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রধান বিষয়গুলো হলো- আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার সিকিউরিটি, রোবোটিকস, বিগ ডাট অ্যান্ড এনালাটিক্স এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রভৃতি।

স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন- চতুর্থ শিল্প বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়নসহ সর্বোপরি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং আমাদের শিল্পখাতে এ বিপ্লবের সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন, শিক্ষাব্যবস্থার যুগোপযোগীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়নসহ এ খাতের উদ্যোক্তাদের আর্থিক প্রণোদনা প্রদান খুবই জরুরি।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আরও বলেন- কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে বাংলাদেশে তথ্য-প্রযুক্তি ভিত্তিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সেবা প্রাপ্তির বিষয়টি খুব স্বল্পসময়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে, তবে এ খাতের প্রয়োজনীয় অগ্রগতির জন্য আমাদের প্রস্তুতি এখনও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নয়। এ লক্ষ্যে তিনি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রস্তাবিত শিল্পনীতিতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা থাকা খুবই আবশ্যক বলে মত প্রকাশ করেন। শামস মাহমুদ বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব নতুন নতুন ব্যবসায়িক কার্যক্রম সূচনার দিগন্ত উন্মোচন করেছে, যার মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে, তবে এ সুবিধা গ্রহণ করতে বাংলাদেশকে সমন্বিত নীতিমালা গ্রহণ এবং তার যাথাযথ বাস্তবায়ন একান্ত জরুরি।

ওয়েবিনারে নির্ধারিত আলোচনায় পাঠাও-এর সভাপতি এবং চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার ফাহিম আহমেদ, এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক সিরাজুল হায়দার, বিজিএমইএ-এর পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাশেদুর রহমান, বুয়েট’র তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ আনোয়ারুল ফাতাহ এবং ইউনিডো-এর বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি জাকি উজ্জ জামান যোগ দেন।

Facebook Comments Box
Contact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share