সিনহা হত্যা : টুটুলের পর জবানবন্দি দিতে পারেন প্রদীপ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি বরখাস্তকৃত এসআই (উপ-পরিদর্শক) নন্দদুলাল রক্ষিত (টুটুল) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছেন। সেজন্য তাকে সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে আদালতে হাজির করা হয়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে র‌্যাব কার্যালয় থেকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ’র আদালতে হাজির করা হয় তাকে। কোর্ট পরিদর্শক প্রদীপ কুমার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে লিয়াকত ও টুটুলের পর টেকনাফ থানার সাবেক পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাশও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে রোববার একই ঘটনায় একই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার প্রধান আসামি লিয়াকত আলী। আদালতে টানা পৌনে ৫ ঘণ্টা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। সিনহা হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি লিয়াকত আলী।

লিয়াকত আলী ওই সময় টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ছিলেন। তিনি পুলিশের বরখাস্ত হওয়া পরিদর্শকও।

বিজ্ঞাপন

৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ির নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা। এ সময় সিনহার সঙ্গে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতকেও আটক করে পুলশে। পরে নীলিমা রিসোর্ট থেকে শিপ্রা দেবনাথকেও আটক করা হয়। এর পর দু’জনই জামিনে মুক্ত হন।

জানা গেছে- গত ৩১ জুলাই রাতের ঘটনায় টেকনাফ থানায় করা পুলিশের মামলায় বলা হয়, সিনহা গাড়ি থেকে নেমে অস্ত্র তাক করলে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী গুলি করেন। এতে সিনহা মাটিতে লুটে পড়েন। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সিনহা হত্যায় করা দুটি মামলায় আসামিরা হলেন- টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী, থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত (টুটুল), এসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্য এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ এবং টেকনাফের মারিশবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আইয়াস।

উল্লেখ করা যেতে পারে- এসব আসামির মধ্যে এপিবিএনের তিন সদস্য রিমান্ড শেষে কয়েক দিন আগে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে তারা তিনজন জেলা কারাগারে অবস্থান করছেন। ঘটনার সময় এপিবিএনের তিন সদস্য শামলাপুর তল্লাশিচৌকির দায়িত্বে ছিলেন।

এদিকে, সিনহা হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিতকে গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে নেয় মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব। তাদের মধ্যে একজন রোববার এবং নন্দদুলাল সোমবার (৩১ আগস্ট) ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিচ্ছেন। মামলার অপর আসামি ওসি প্রদীপ কুমার দাশও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.