অক্টোবর ২৮, ২০২১

The Bangla Kagoj

বিশ্বের সব দেশে, সব ভাষায়, সব সময় । বাংলা কাগজ । আপনার কাগজ । banglakagoj.net (আমাদের কোনও জাতীয় পত্রিকা নেই)।

৪৪ বছরেও স্বীকৃতি মেলে নি জাতীয় কবির, মৃত্যুবার্ষিকীতে চাপা ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নজরুল সংগীতশিল্পী ফেরদৌস আরা।

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : একে একে পেরিয়ে গেল ৪৪টি বছর। কিন্তু এ সময়ের মধ্যেও সরকারিভাবে গেজেটে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় নি। অথচ আমরা কবে, ক’বছর পর; কত শত বছর পরে এমন কবি পাব কিংবা পাব কি-না; তাও জানি না। আবার একটি কথাও আছে, মেধার মূল্যায়ন করতে না পারলে মেধাবী জন্মায় না। এসবের পরও কবে আমাদের চোখ খুলবে সেটা আমরা জানি না। আর সংস্কৃতিপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মাঝে এমন ক্ষোভের সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে খোদ কাজী নজরুল ইসলামের পরিবারেও।

এ ব্যাপারে কবির নাতনী খিলখিল কাজী বাংলা কাগজকে বলেছেন- এভাবে চললে কয়েক যুগ পর নব প্রজন্ম জাতীয় কবি বিস্মৃত হতে পারে। সে কারণেই সরকারি গেজেটের মাধ্যমে জাতীয় কবির স্বীকৃতি হওয়া উচিৎ। আর বর্তমান সংস্কৃতিমনা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকার- আওয়ামী লীগ বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেটি করবেন, বলেই মনে করি। আমরা বিশ্বাস করি- বিষয়টি এতোদিন তাঁর নজরে আনা হয় নি। এখন অবশ্যই তিনি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

বাংলা ভাষার কবিতাপ্রেমিদের কাছে নজরুল প্রেমের কবি, চির যৌবনের দূত; সেইসঙ্গে তিনি বিদ্রোহী, গৃহত্যাগী বাউণ্ডুলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত।

১৯৭৬ সালের ২৯ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় কবির। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ছিল তাঁর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী।

কবির নাতনী খিলখিল কাজী সকালে বাংলা কাগজকে, ১৫ -১৬ বছর হয়ে গেছে এটা নিয়ে (সরকারি গেজেট) কথা বলছি। সরকারিভাবে এটা এখনও করা হয় নি। আমার বক্তব্য, তিনি জাতীয় কবি, সরকারিভাবে গেজেট করা দরকার, আমি তা মনে করি। আমাদের পরিবারের দাবি এটা।

১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম।

বৈচিত্র্যময় এক জীবনের অধিকারী নজরুল ছেলেবেলায় পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন ‘দুখু মিয়া’ নামে। পিতৃহীন কবি একে একে হারিয়েছেন কাছের স্বজনদের। আর্থিক অসচ্ছলতা তাঁর জীবনকে কঠিন করে তুলেছিল।

সব বাধা অতিক্রম করে একসময় তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা হয়ে ওঠেন। সাম্য ও মানবতার চেতনায় সমৃদ্ধ ছিল তার লেখনী। কবিতায় বিদ্রোহী সুরের জন্য হয়ে ওঠেন ‘বিদ্রোহী কবি’।

খিলখিল কাজী বলেন, নজরুলের যে জীবন দর্শন ছিল, তার সৃষ্টি পাঠ করলে আমাদের যা চোখে পড়ে তা হল দেশকে ভালোবাসা, দেশের মানুষকে ভালোবাসা। কবি নজরুল শিখিয়ে গেছেন চির উন্নত শির হতে, মানুষকে ভালোবাসতে। অন্যায়, অবিচার কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি তার কলমকে মজবুত রেখেছিলেন।

“চির অকুতোভয় কবি ভয়ঙ্কর সে যুগে এককভাবে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। তার গান, কবিতা সবসময়ে সমাজ বদলানের হাতিয়ার। তিনি সকল বাঙালির, সকল মানুষের।”

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কবির সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠান। সেখানে নজরুল সংগীত শিল্পী ফেরদৌস আরার কথায়ও জাতীয় কবির সরকারি স্বীকৃতির প্রসঙ্গটি আসে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নজরুল সংগীত শিল্পী ফেরদৌস আরা।

তিনি বলেন, “কাজী নজরুল ইসলাম জাতীয় কবি, তা আমাদের মেধায় আছে, মননে আছে। কিন্তু তা কোনো সরকারি গেজেটে নেই। অনেকের কথা থাকে- লিখিত রাখার কি দরকার আছে? আমরা তো জানিই যে তিনি জাতীয় কবি। সে কথাই যদি হত, তাহলে কোথাও কোনো স্বীকৃতির প্রয়োজন হত না। কোথাও কোনো কাগজে লিখতে হত না। স্বাক্ষর-সিলের কোনো দরকার ছিল না। কাজী নজরুল ইসলাম জাতীয় কবি সে হিসেবেই স্বীকৃতি হওয়া উচিৎ।

“স্বাধীনতার এত বছর পরেও, আজকে তার ৪৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী, এত দিনেও আমরা তাকে স্বীকৃতি দিতে পারিনি, এ লজ্জা আমাদের সবার।”

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দলের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক, পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, “কাজী নজরুল ইসলাম অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। আমাদের চেতনায় নজরুল চিরজাগরুক থাকবেন।

“তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনায় এই দেশ থেকে সাম্প্রদায়িকতার বিষ বৃক্ষের মূলোৎপাটন করব বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। একইসঙ্গে নজরুলের চেতনায় সমৃদ্ধি ও সাম্যবাদী সমাজ বিনির্মাণ করব।”

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে কবির সমাধিতে এসেছিলেন সচিব বদরুল আরেফীন। পরে তিনি বলেন, “কবি নজরুল শুধু বিদ্রোহী কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন শান্তি ও সম্প্রীতির কবি। তিনি ছিলেন সমস্ত সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে। নজরুলের কীর্তি ও রচনা চর্চার মাধ্যমে আমরা আমাদের সাহিত্য অঙ্গনকে আরও এগিয়ে নেব।”

Facebook Comments Box

Contact us

বাংলা কাগজ এ আপনাকে স্বাগতম।

X
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Facebook91m
Twitter38m
LinkedIn4m
LinkedIn
Share