বাংলা কাগজে প্রতিবেদন : বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের মা সিএমএইচে

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : অবশেষে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামালের মা মালেকা খাতুনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা থেকে ঢাকায় আনা হয়েছে।

বাংলা কাগজে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মালেকা খাতুনকে ঢাকায় আনার পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বলা হয়- মালেকা খাতুন (৯৬) কিডনির সমস্যা, শ্বাসকষ্ট ও রক্তশূন্যতায় ভুগছেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এভিয়েশন গ্রুপের একটি ডফিন হেলিকপ্টার মালেকা খাতুনকে নিয়ে ভোলা সদর হাসপাতাল থেকে বেলা সোয়া দুইটার দিকে তেজগাঁওয়ের পুরোনো বিমানবন্দরে নামে।

সেখান থেকে পরে তাঁকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়।

ভোলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক ডা. সিরাজ উদ্দিন বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলা কাগজকে জানান, মালেকা বেগম দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। তাঁর কিডনি রোগসহ নানা সমস্যাও দেখা দিয়েছে। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন এ চিকিৎসক।

বিজ্ঞাপন

একই বিষয়ে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের ভাইয়ের ছেলে অধ্যক্ষ মো. সেলিম বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলা কাগজকে বলেন- তাঁদের দাদির হাত-পা ফুলে গেছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) হঠাৎ করে তাঁর (তাঁদের দাদি ও বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের মা) খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে গেলে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ভোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু এখন অবস্থা আরও খারাপ। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তাঁদের দাবি- যেন বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের মা ও তাঁদের দাদির উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। প্রয়োজনে বিদেশে না হলেও যেন এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে অন্তত ঢাকায় নেওয়া হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল ১৯৪৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোলার দৌলতখান উপজেলার হাজীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম হাবিবুর রহমান। ১৯৬৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন মোস্তফা কামাল। ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দরুইলে পাকিস্তানি বাহিনীর তীব্র আক্রমণের মুখে মুক্তিযোদ্ধারা যেন নিরাপদে আখাউড়ার দিকে যেতে পারেন, সে জন্য সামনে থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তিনি। এতে পাকিস্তানি বাহিনীর অনেকে হতাহত হয়। একপর্যায়ে মোস্তফার অবস্থানের ওপর মেশিনগান ও মর্টারের গোলা বর্ষণ করতে থাকে তারা।

মোস্তফারও এলএমজির গুলি শেষ হয়ে যায় এবং তিনি মারাত্মকভাবে জখম হন। পাকিস্তানি সৈনিকেরা ট্রেঞ্চে এসে তাঁকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। হাবিবুর রহমান ও মালেকা বেগমের দুই ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে মোস্তফা কামাল ছিলেন সবার বড়। মোস্তফা কামাল অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন : বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের মায়ের চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা দাবি

Facebook Comments Box

Leave a Reply

Your email address will not be published.